রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কায় আম চাষিরা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

আম চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক মাস আগেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এতে চাষিরা কিছুটা আশাবাদী হলেও পরিচর্যা খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের। এ সময় কনকনে ঠান্ডা থাকলেও কৃষি বিভাগের দাবি, একের পর এক শৈত্যপ্রবাহ, দিনব্যাপী ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টি না হলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই বরং এমন আবহাওয়া আম চাষিদের জন্য আশীর্বাদ।

আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বিলম্বে শীত আসায় এক মাস আগেই মুকুল আসতে আরম্ভ করেছে। মুকুল ফুলে রুপান্তর হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় তেমন একটা ক্ষতি হবে না। অসময়ে বৃষ্টিসহ দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে। তবে এ বছর পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমের নায্য মূল্য না পেলে লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাগান ঘুরে জানা গেছে, সারের উচ্চমূল্য সত্ত্বেয় চাষিরা মাস তিনেক আগেই গাছে সার দেওয়া ও চারপাশের মাটি আলগা করার মাধ্যমে প্রথম দফা পরিচর্যা করেছেন। যেসব বাগানে আগাম মুকুল এসেছে, সেগুলোতে চাষিরা বালাইনাশক এক দফা  স্প্রে করেছেন।

আম চাষিরা বলছেন, এ বছর সার ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা, শ্রমিক মজুরি গড়ে ১০০ টাকা, সেচ খরচ গড়ে ২০০ টাকা করে বেড়ে গেছে। সারাদেশে আমের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন বছর আমের দাম না পেয়ে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, গত বছরের মতো আমের দাম পেলে, এ বছর অন্তত লোকসানের হাত থেকে বাঁচবেন তারা।

আমের মুকুল দেখা দিলে সালফার, ৫৫ ইসি এবং মুকুল ফুলে রুপান্তর হলে মেনকোজেন বালাইনাশক দিতে হয়। তবে সালফারের দাম প্রতি ৩০০ গ্রাম প্যাকেট ১৫০ থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা, ৫৫ মিলি. বোতলের ৫৫ ইসি ৪৫০ থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা এবং মেনকোজেনের দাম ৫০০ থেকে বেড়ে ৫৮০ টাকা হয়েছে। এদিকে ৫০ কেজি বস্তার ডিএপি সারের দাম ৮০০ থেকে বেড়ে ৯০০ টাকা ও পটাশ সারের দাম প্রতিবস্তা ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫০ টাকা হয়েছে। এক বিঘার একটি বাগানে একবার বালাইনাশক দেওয়ার জন্য শ্রমিক ও মেশিন ভাড়া এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টায় সেচ খরচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আম চাষি রহমত আলী বলেন, গত বছর নিরাপদ আম উৎপাদন কওে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে গত বছর তুলনামূলক দাম বেশি থাকায় লোকসান থেকে বেঁচে যান। শিবনগর গ্রামের আমচাষি মেহেদী হাসান বলেন, পরিচর্যা খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলায় ৪৬০ জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭৬ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে এক হাজার ২১২ মেট্রিক টন। চলতি শৈত্যপ্রবাহে আমের ক্ষতি না হয়ে আরও উপকার হচ্ছে। ঘন কুয়াশার পর সূর্যের আলো পড়লে মুকুলের কোনো ক্ষতি হবে না। গত বছর বৃষ্টিসহ দুর্যোগ এসেছিল। এ বছর কোনো দুর্যোগ না এলে আগাম মুকুলের কারণে কোন ক্ষতি হবে না। আম বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে চাষিরা আমের ন্যায্য দাম পাবেন।

বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কায় আম চাষিরা
                                  

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

আম চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক মাস আগেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এতে চাষিরা কিছুটা আশাবাদী হলেও পরিচর্যা খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা কাটছে না তাদের। এ সময় কনকনে ঠান্ডা থাকলেও কৃষি বিভাগের দাবি, একের পর এক শৈত্যপ্রবাহ, দিনব্যাপী ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টি না হলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই বরং এমন আবহাওয়া আম চাষিদের জন্য আশীর্বাদ।

আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বিলম্বে শীত আসায় এক মাস আগেই মুকুল আসতে আরম্ভ করেছে। মুকুল ফুলে রুপান্তর হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় তেমন একটা ক্ষতি হবে না। অসময়ে বৃষ্টিসহ দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন হবে। তবে এ বছর পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমের নায্য মূল্য না পেলে লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাগান ঘুরে জানা গেছে, সারের উচ্চমূল্য সত্ত্বেয় চাষিরা মাস তিনেক আগেই গাছে সার দেওয়া ও চারপাশের মাটি আলগা করার মাধ্যমে প্রথম দফা পরিচর্যা করেছেন। যেসব বাগানে আগাম মুকুল এসেছে, সেগুলোতে চাষিরা বালাইনাশক এক দফা  স্প্রে করেছেন।

আম চাষিরা বলছেন, এ বছর সার ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা, শ্রমিক মজুরি গড়ে ১০০ টাকা, সেচ খরচ গড়ে ২০০ টাকা করে বেড়ে গেছে। সারাদেশে আমের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন বছর আমের দাম না পেয়ে লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, গত বছরের মতো আমের দাম পেলে, এ বছর অন্তত লোকসানের হাত থেকে বাঁচবেন তারা।

আমের মুকুল দেখা দিলে সালফার, ৫৫ ইসি এবং মুকুল ফুলে রুপান্তর হলে মেনকোজেন বালাইনাশক দিতে হয়। তবে সালফারের দাম প্রতি ৩০০ গ্রাম প্যাকেট ১৫০ থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা, ৫৫ মিলি. বোতলের ৫৫ ইসি ৪৫০ থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা এবং মেনকোজেনের দাম ৫০০ থেকে বেড়ে ৫৮০ টাকা হয়েছে। এদিকে ৫০ কেজি বস্তার ডিএপি সারের দাম ৮০০ থেকে বেড়ে ৯০০ টাকা ও পটাশ সারের দাম প্রতিবস্তা ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫০ টাকা হয়েছে। এক বিঘার একটি বাগানে একবার বালাইনাশক দেওয়ার জন্য শ্রমিক ও মেশিন ভাড়া এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টায় সেচ খরচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের আম চাষি রহমত আলী বলেন, গত বছর নিরাপদ আম উৎপাদন কওে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে গত বছর তুলনামূলক দাম বেশি থাকায় লোকসান থেকে বেঁচে যান। শিবনগর গ্রামের আমচাষি মেহেদী হাসান বলেন, পরিচর্যা খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলায় ৪৬০ জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭৬ মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে এক হাজার ২১২ মেট্রিক টন। চলতি শৈত্যপ্রবাহে আমের ক্ষতি না হয়ে আরও উপকার হচ্ছে। ঘন কুয়াশার পর সূর্যের আলো পড়লে মুকুলের কোনো ক্ষতি হবে না। গত বছর বৃষ্টিসহ দুর্যোগ এসেছিল। এ বছর কোনো দুর্যোগ না এলে আগাম মুকুলের কারণে কোন ক্ষতি হবে না। আম বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হলে চাষিরা আমের ন্যায্য দাম পাবেন।

হারিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে কাউনের আবাদ
                                  

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুস্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। একসময় মুন্সীগঞ্জে ব্যাপকভাবে চাষ হলেও বর্তমানে উন্নত জাত ফসলের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন।

 স্বল্প খরচ, পরিবেশবান্ধব, সহজ চাষ পদ্ধতি ও পানি সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শুধুমাত্র মানুষের অবহেলা-অনাদরে কাউনের চাষ আর নেই। ফসলটি যেন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। কাউনের বৈজ্ঞানিক নাম ছিটারিয়া ইটালিকা গোত্র-গ্রামিনি। একমাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কাউন চাষের দেখা মেলে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানাড়ী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, বিলুপ্ত প্রায় কাউন ফসলটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে, ‘এখনো আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি। তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, পারলে আমাকে রক্ষা কর।’

কথা হয় টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল বানাড়ী  ইউপির সম্ভ্রান্ত কৃষক রিয়াজল বেপাড়ী (৫৫) সঙ্গে। তিনি জানান, আগে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক জমিতেই কাউন চাষ হতো। এখন আর চোখে পড়ে না। ফসলটির চাষ পদ্ধতি সহজ, স্বল্প খরচ, পানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র (এপ্রিল) মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। আষাঢ় (জুলাই) মাসে ফসল ঘরে ওঠে। তিনি আরও জানান, মাঝে একবার নিড়ানি দিলেই হয়, সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন হয় বিঘা প্রতি ১০-১৫ মণ। বাজারে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। তাছাড়া কাউনের শীষ ছিঁড়ে নিয়ে অবশিষ্ট গাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে জৈব সারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। আবার কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে। কাউনের ভাত অত্যন্ত সুস্বাদু ও মুখরোচক। জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। পিঠা-পায়েস তৈরিতে এর কোনো জুড়ি নেই।

হাসাইল বানাড়ী  ইউপি সদস্য মোঃ বাবু হাওলাদর জানান, লাভজনক, সুস্বাদু, পরিবেশবান্ধব, স্বল্প খরচে আবাদযোগ্য ও পানি সাশ্রয়ী কাউন নামের দেশি এ ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এজন্য সবার এগিয়ে আসা উচিত। দেশীয় জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামটি। ছোট দানা বিশিষ্ট শস্যটি এ দেশে গরীবদের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় সব ধরনের মাটিতে কাউনের চাষ করা যায়। তবে পানি দাঁড়ায় না এমন বেলে দোঁআশ মাটিতে এর ফলন ভাল হয়। কাউনের স্থানীয় জাত ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘তিতাস’ নামের একটি জাত আছে। তিতাস জাত উচ্চ ফলনশীল, আগাম রোগ ও পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। তিতাস জাতের গাছ মাঝারি লম্বা, পাতা সবুজ, কান্ড শক্ত। গাছ সহজে নুয়ে পড়ে না। শীষ বেশ লম্বা, মোটা এবং রেশমী। বীজ মাঝারি আকারের। হাজার বীজের ওজন ২.৩-২.৫ গ্রাম। স্থানীয় জাতের চেয়ে ফলন প্রায় ৩০-৩৫% বেশী। জাতটি রবি মৌসুমে ১০৫-১১৫ দিনে এবং খরিফ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনে পাকে। তিতাস জাতটি গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। রবি মৌসুমে তিতাসের ফলন হেক্টর প্রতি ২.০-২.৫ টন। খরিফ মৌসুমে এর ফলন একটু কম হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারী) পর্যন্ত বীজ বোনা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বীজ বোনা হয়। কাউনের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বোনা যায়। ছিটিয়ে বুনলে হেক্টর প্রতি ১০ কেজি এবং সারিতে বুনলে ৮ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়। বীজ সারিতে বুনলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সে.মি. রাখতে হবে। চারা গজানোর পর ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সারিতে চারার দূরত্ব ৬-৮ সে.মি. রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হবে। কাউন চাষে সচরাচর রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় না। তবে অনুর্বর জমিতে হেক্টর প্রতি নিম্নরূপ সার প্রয়োগ করলে ফলন বেশী হয়।


সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন
                                  

শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার পাইকগাছায় সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। বৃস্টি আর ঘন কূয়াশার সৃস্টি না হওয়ায় সরিষার জন্য অনুকূল পরিবেশ।হলুদ ফুলে ভরে গেছে সরিষা ক্ষেত। ক্ষেতের পর ক্ষেত হলুদের সমারোহ।

সরিষার ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে কৃষকের মন আলোড়িত হচ্ছে। মধু আহরনে মৌমাছিরা মেতে উঠেছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে হলুদের সমারোহ দেখে চোখ জুড়ে যায়। উপকূলীয় উর্বর জমিতে এ বছর আশানারুপ সরিষা উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশা করছে।প্রতি ক্ষেতে তরতাজা সবুজ সরিষা গাছগুলোতে হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠায় কৃষককের মুখে হাসি ফুটেছে।পাইকগাছা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে কৃষকদের সরিষার বীজ ও সার দেওয়ায় এবছর সরিষার আবাদ বেড়েছে।তবে সময় মত মাটিতে জো না আসায় সরিষার আবাদ কিছুটা দেরি হয়েছে।

উপকূলের লবনাক্ত এলাকা চাষাবাদ অনেকটা প্রকৃতি ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। অন্য এলাকায় আগাম মাটিতে জো আসলেও উপকূল এলাকার নিঁচু মাটিতে জো আসতে দেরি হয়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। তাছাড়া চাঁদখালী, গড়ইখালী ও দেলুটিতে সামান্য জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকরা বারি সরিষা ১৪,১৫,১৭,১৮ বিনা-৯ ও ৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছে।

সরেজমিনে এসব ক্ষেত পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ইতিমধ্যে সরিষার ফুল ঝরতে শুর“ করে সরিষার দানা বাধতে শুর“ করেছে।উপজেলার গোপালপুর গ্রামে সরিষা চাষী আব্দুস সামাদ ও সলুয়ার শহিদ জানান, তাদের ক্ষেতের আবাদকৃত সরিষা ভালো হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, ধান কাটতে দেরি হওয়ায় সরিষা আবাদ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। কৃষকরা যদি আগাম জাতের ধান চাষ করে তাহলে ধান কাঁটার পর সময়মত সরিষা চাষে পূরা সময় পাবে। এ ব্যাপারে কৃষকদের আগাম জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তাছাড়া উপকূল এলাকার নিচু জমিতে জো আসে দেরিতে সে জন্য ফসল লাগাতেও দেরি হয়। এবছর উপজেলায় সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে।প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয়ের সৃষ্টি না হলে সরিষার আশানুর“প ফলন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চরের জমিতে ফসলের সমাহার, স্বপ্নে ঘেরা কৃষকের বুক
                                  

দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের চরের জমিতে ফসলের সমাহার, কৃষকের বুকে স্বপ্ন বেধেছে ঘর। দৌলতপুর উপজেলার যমুনা নদীর মাঝখানে চরকাটারী ইউনিয়ন, যে ইউনিয়নের অধিকাংশ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন পর নদীর বুকচিরে উঠেছে নতুন চর, চরের নতুন মাটিতে ভালো ফসল ফলানোর আশায় কৃষক তড়িঘড়ি করে চাষাবাদ শুরু করে। এবারের মৌসুমে তারা বোরো ধান, গম, ও সরিষার আবাদ করেছ। সরজমিনে গিয়ে এবারে বোরো ধান ও সরিষা, গম খেত দেখে মনে হচ্ছে কৃষকের দুঃখ কিছুটা হলেও দূর হবে।

এ বিষয়ে চরকাটারীর কৃষক আয়নাল ফকিরের সাথে আলাপ করে যানা যায়, তারা সঠিক সময়ে সরিষা বিজ বুনেছেন, আশা করছেন ভালো ফলন হবে। প্রতি বিঘায় মোটামোটি ৬/৭ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, এবার চরে রোরো ধানের জমি বেশ ভালো হয়েছে, সবাই বোরো ধান লাগাতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলনের আশাবাদি সবাই।

আবার গম চাষেও বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। তবে চড়া দামে গম বিজ কিনতে হিমসিম খাওয়ার কথা বলেছেন। প্রতি কেজি গমের বিজ ৯০টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে তাদের। দৌলতপুর উপজেলায় বিজ না পাওয়ায় অসন্তোসও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এ দিকে চরের অনেক জমিতে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অনেক কৃষক, কর্দমাক্ত পলিমাটিতে বোরো ধানের চাষ খুব সুন্দর হয়। বিঘায় বিঘায় চরের জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করতে কুয়াশা ঢাকা ভোরে নদীপার হয়ে ছুটে যায় কৃষক। শীতের সকালে সবাই দলবেধে চলে যায় জমিতে, যেন শীতকে পাত্তাই দিচ্ছেন না তারা। সব কৃষক পাল্লা পাল্লি করে বোরো ধান রোপন করে যাচ্ছে। উৎসবের আমেজে বোরো ধান রোপন করছেন। তাদের চোখে-মুখে কেবলই স্বপ্ন, নেই কোন ক্লান্তি-অবসাদ।

সাতক্ষীরায় সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
                                  

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় এবার সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দিগন্ত জুড়ে মাঠের পর মাঠ এখন হলুদ রঙের সরষে ফুলের ডগায় ফোঁটা ফোঁটা শিশির বিন্দু। হলুদের চাদরে ঢাকা বিস্তৃত ফসলের মাঠ।

হেমন্তের ফসল তুলতে না তুলতেই শীতের আগমনে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে সাতক্ষীরার সব উপজেলার মাঠ। সবুজ বাংলাদেশ। সরষের হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠের পর মাঠ। যেদিকে চোখ মেলানো হয় শুধু হলুদ আর হলুদ। মাঠ ভরা সরিষা ক্ষেতের হলুদ মাঠে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে মৌমাছিরা মনের আনন্দে মধু সংগ্রহে ব্যাস্ত। মৌমাছি মধু আহরনে যত ব্যাস্ত সময় পার করবে তত বেশি লাভবান হবে কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৩ হাজার ৭১৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।
 
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ১.৩৩ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলার সাত উপজেলায় ১৩ হাজার ৭১৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ১২০ মেট্রিক টন, কলারোয়ায় ৬ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জমিতে ৮ হাজার ৭৭৮ মেট্রিক টন, তালায় ৮৯৬ হেক্টর জমিতে ৯৯৭.৫ মেট্রিক টন, দেবহাটায় ১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন, কালিগঞ্জে ৪৫০ হেক্টর জমিতে ৪৬৫.৫ মেঃটন , আশাশুনি ৩৫৫ হেক্টর জমিতে ৩৩২.৫ মেঃটন ও শ্যামনগর ২৭০ হেঃ জমিতে ২৬৬.৫ মেট্রিক টন। জেলায় ১৩ হাজার ৭১৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন ।

জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ও তালা উপজেলার কৃষকরা কম সময়ে অধিক লাভবান ও উচ্ছ ফলনশীল বীজ পাওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

সরজমিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাসহ, কলারোয়া, তালা ও দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের আবাদকৃত জাতের মধ্যে বারি-১৪, ৯, ১৭, ১৮ বিনা- ৪, ৯ ও স্থানীয় জাত উল্লেখ যোগ্য। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে বারি-১৪, ১৭ জাতের সরিষার।

কলারোয়ায উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের সরিষা চাষি আজিজুর রহমান, আবদস সামাদ, রফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলার কৃষক হাফিজুল ইসলাম ও রেজাউল করিম বলেন, চলতি মৌসুমে যদি কোন দূর্যোগ না হয়,ফলন ভাল আসলে, বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচে  ৭ থেকে ৮ মন সরিষা ঘরে তুলতে পারবো। যার বাজার মুল্য ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তারা আরো বলেন, আমাদের সাতক্ষীরার মাটি অনেক উর্বর। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত সাহায্য করলে সরিষা চাষে আমরা অনেক ভাল করবো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) সাতক্ষীরা’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ জামাল উদ্দীন বলেন, এ বছর জেলায় সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৭১৬ হেক্টর জমি। তবে অল্প সময়ে উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষে অধিক ফলন পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ফলে দিন দিন লাভজনক ফসল হিসেবে সরিষার কদর বেড়েছে জেলার কৃষকদের কাছে। অধিক আগ্রহে  সরিষা আবাদের ফলে, আশা করছি আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে ।

তিনি বলেন, ফুলের পরাগায়ন বৃদ্ধিতে এ মৌসুমে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে মধু সংগ্রহের জন্য ৬ থেকে ৭ হাজার বক্র বসানো হয়েছে।  যার ফলে কৃষকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ বেশী ফলন পাবে ।

৮০ হাজার টাকা খরচ করে ৫ লাখ টাকা বিক্রি
                                  

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই সোনার বাংলায় দিনদিন কৃষিক্ষেত্র পরিণত হচ্ছে বিপ্লবের কেন্দ্র বিন্দুতে। পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরামর্শে বদলে যাচ্ছে চাষিদের জীবনমান, বাড়ছে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন আর কমছে বেকার সমস্যা।

এরই ধারাবাহিকতায় পেঁপে চাষ করে সাবলম্বী এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন একজন শিক্ষিত বেকার, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষক কাজী সরোয়ার। তিনি পেঁপে চাষের পাশাপাশি একই জায়গায় আম বাগান, মাছ চাষ ও বিভিন্ন প্রকারের শাক-শবজির চাষসহ তৈরি করেছেছেন সমন্বিত খামার। এতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন দশমিনা কৃষি কর্মকর্তা।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কৃষক কাজী সরোয়ার সরকারিভাবে পেঁপে চারা, সার, কীটনাশক ও সঠিক পরামর্শে দুই একর জমিতে ৫৫০টি পেঁপে গাছ দিয়ে তৈরি করেছেন তার বাগান।

এ বিষয়ে কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষক কাজী সরোয়ার বলেন, যে দেশের মাটিতে মাটিফুড়ে গাছ হয় সেই দেশের মানুষ বেকার বা গরিব থাকতে পারে না। আমার বাড়িতে বা বাগান দেখতে যারাই আসে তাদেরকে আমার বাগান থেকে ফল খাওয়াই এবং আমার মতো এ ধরণের বাগান করতে পরামর্শ দেই। এবছর ফলন অনুযায়ী পেঁপে বিক্রি করতে পারতাম কমপক্ষে ৭০ টন। কিন্তু ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং এ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, পেঁপের সাথে সাথে ফসল সহ ৮০-৯০ হাজার টাকা খরচ করলেও প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করা যাবে।

কৃষি উদ্যোক্তা কাজী সরোয়ারের সফলতা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছে তার বাড়িতে এবং উৎসাহিত হয়ে অনেকেই খামার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

কাজী আনোয়ার, আরিফ হোসেন, মিরাজ হোসেন ও রফিক হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, সরোয়ার কাজীর কৃষি বাগান দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এখানকার পেঁপে, আমগুলোও অনেক মিষ্টি। আমাদেরও ইচ্ছে আছে এধরণের বাগান করার।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহমেদ বলেন, সরোয়ার কাজী একজন ভালো কৃষক। আমি তার বাগান ভিজিট করেছি, ক্ষেতের প্রদর্শনীটা সে ভালোভাবেই করেছে। আমাদের সাপোর্টের পাশাপাশি সে নিজেও কিছু বীজ কিনে বড় আকারের প্রদর্শনী করেছে। আশা করা যায় সে বেশ লাভবান হবে। তিনি আরও জানান, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায় এমন ফসল চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে তাদেরকে সহযোগীতা করছি।

বোরোর উৎপাদন বাড়াতে ১৭০ কোটি টাকার প্রণোদনা
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশের ২৭ লাখ কৃষক এ প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, তিনটি ধাপে বা ক্যাটাগরিতে দেওয়া হচ্ছে এসব প্রণোদনা। হাইব্রিড ধানের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রায় ৮২ কোটি টাকার প্রণোদনার আওতায় ১৫ লাখ কৃষকের প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে ২ কেজি ধানবীজ।

উচ্চফলনশীল জাতের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রায় ৭৩ কোটি টাকার প্রণোদনার আওতায় উপকারভোগী কৃষক ১২ লাখ। এতে একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পাচ্ছেন।

এছাড়া সমলয়ে বা কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুবিধার্থে একটি মাঠে একই সময়ে ধান লাগানো ও কাটার জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আওতায় ৬১টি জেলায় ১১০টি ব্লক বা প্রদর্শনী স্থাপিত হবে। প্রতিটি প্রদর্শনী হবে ৫০ একর জমিতে, খরচ হবে ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এতে আরও বলা হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে এসব প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। এরইমধ্যে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রণোদনা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক
                                  

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিলের একটি অংশের নাম সলঙ্গা। এখানকার উৎপাদিত ফসল ধানের পাশাপাশি কৃষকরা ঝুঁকছেন লাভজনক রবি ফসল সরিষা চাষের দিকে।

গত বছর স্থানীয় বাজারগুলোতে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন। বর্তমানে সলঙ্গায় দিগন্ত জোড়া সরিষার আবাদ। মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে হলুদের সমারোহ। চলতি মৌসুমে সলঙ্গায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আগাম জাতের সরিষায় ফুল আসাও শুরু করেছে। এমন লাভজনক ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এবার সরিষার বাম্পার ফলনের সঙ্গে বাজারে দামও ভালো পাবেন সরিষা চাষীরা এমনটিই আশা করছেন আবাদীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষি অধিক লাভবান হবেন বলে আমি আশাবাদী।

জগন্নাথপুরে আমন সংগ্রহ উদ্বোধন
                                  

জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অভ্যান্তরীণ আমন ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার জগন্নাথপুর সদর খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন সংগ্রহ উদ্বোধন করেন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাজেদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগীয় উপজেলা কারিগরি খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব চন্দ্র দাস, জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আবদুর রব, উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জিতেন্দ্র মালাকার, জগন্নাথপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিমলা রায়, রাণীগঞ্জ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিনুল হক চৌধুরী, জগন্নাথপুর খাদ্য গুদাম সহকারী নিরঞ্জন বিশ্বাস প্রমুখ।

এবার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ১১২০ টাকা মণ দরে ৪৬২ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করবে সরকার। সংগ্রহ চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তাই নির্বিঘ্নে সরকারের কাছে উচ্চমূল্যে ধান বিক্রি করার জন্য সকল কৃষকদের প্রতি আহবান জানান জগন্নাথপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আবদুর রব।

মধুখালীতে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি
                                  

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

রাতের কুয়াচ্ছন্ন আকাশ আর রাতে শীতের আভাস  নিয়ে এসেছে প্রকৃতিতে শীতের বার্তা। শীতের এই বার্তায় ফরিদপুরের গাছিরা ব্যস্ত খেজুরের রস আহরণে খেজুর গাছ তৈরী করতে।

 মধুখালী উপজেলার মেছড়দিয়া পূর্বপাড়া সড়কের ধারে গাছিরা হাতে গাছকাটা ছ্যান নিয়ে ও কোমরের সাথে গাছে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলার কাজ শুরু করেছেন। শীত মৌসুম এলেই এ জেলায় সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ এলাকার গাছিরা। তাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি। শীতের দিন মানেই খেজুর রস ও নলেন গুড়ের মৌ-মৌ গন্ধ। খেজুর গুড় বাঙালির সংস্কৃতির একটা অঙ্গ। নলেন গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

মেছড়দিয়া এলাকার গাছিরা জানান, গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে। রস থেকে গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ ফাল্গুন পর্যন্ত। হেমন্তের প্রথমে বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি ও গুড়। তাই অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছের কদর এখন অনেক বেশি। এছাড়াও খেজুর গাছের রস হতে উৎপাদিত গুড় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে জানান গাছিরা। কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, জেলায় প্রচুর পরিমাণ খেজুর গাছ আছে। এর মধ্যে কামারখালী, মেগচামী,  নওপাড়া, বাগাট ও ব্যাসদী গ্রাম এলাকাতে বেশি সংখ্যক গাছ রয়েছে। অনেকে আগাম গাছ প্রস্তুত করায় বাজারে কিছু গুরও পাওয়া যাচ্ছে। গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহ করে নলেন গুড় ও পাটালি গুড় তৈরি করে নিকটস্থ বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হন। বর্তমানে খেজুর গুড়ের চাহিদা বেশী যার কারণে গাছিরা এদিকে যেমন লাভবান হচ্ছে ঠিক তেমনি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে।

বেশী লাভের আশায় অসাধু গুড় ব্যবসায়ী  কৃত্রিম গুড় তৈরী করে ক্রেতা সাধারনের সাথে প্রতারনা করেন। নিজেরা লভবান হন প্রতারনা  আর ভেজাল  গুড়ে স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলান। ভেজাল প্রতিরোধে প্রশাসনের  নজর দেওয়া উচিৎ  বলে মনে করেন সুধি মহল।

জয়পুরহাটে কমলা চাষে দম্পতির সাফল্য
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব,জয়পুরহাট : কোন কাজকে ছোট করে দেখতে নেই।কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে থাকলে যে কোনো কাজে সফলতা পাওয়া যায়। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে সহজেই অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। সেটাই দেখিয়ে দিয়েছেন ইমরান হোসেন ও সুমি আক্তার দম্পতি।

তারা এখন সফল ফলচাষি। মাত্র ৩ বছরে পেয়েছেন অভাবনীয় সফলতা।সারি সারি কমলার গাছ।কমলার ভারে গাছের ডাল গুলো নুয়ে পড়েছে। কমলার কালার গুলো ও খুব সুন্দর।তাদের চাষ পদ্ধতি আর সফলতা দেখে এলাকার মানুষদের কাছে হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় আদর্শ। বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার ফলচাষিরা। ফলন ভালো দেখে অনেকেই উৎসাহী হয়ে বাগান থেকে কমলার চারা কিনছেন।অনেকে সদ্য গাছ থেকে পারা কমলা কিনতে দূরদুরান্ত থেকে আসছেন।কমলার বাগান দেখতে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ভিকনি গ্রামের ইমরান হোসেন উজ্জ্বল বসবাস করতেন ঢাকার সাভারে। উদ্যোক্তা ইমরান হোসেনের টেলিকমের দোকানের ব্যবসা ছিল। করোনার সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।এরপর কৃষি কাজের দিকে মনোযোগ দেন। নিজের গ্রাম জয়পুরহাটের ভিকনিতে চলে আসেন। নিজের চিন্তা থেকে ২০ কাঠা জমিতে রোপণ করেন কয়েকটি (বারি কমলা-২) জাতের চারা। সেই চারাগুলো থেকে গ্রাফটিং করে আরও চারা বাড়ান। এখন তার বাগানে ১৩০টি কমলার গাছ রয়েছে। কমলাগুলো বারি-২ জাতের। ১৩০টি গাছের মধ্যে ৬০টি গাছে কমলা ধরেছে। প্রতিটি গাছে ১৫-৪০ কেজি পর্যন্ত কমলা ধরেছে। প্রতি কেজি কমলা পাইকারি ১৩০ টাকা করে দাম বলছেন ব্যবসায়ীরা।

উদ্যোক্তা ইমরান বলেন, করোনাকালীন সময় ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।প্রথমে কৃষি কাজ ধান-আলু চাষে মনোযোগ দেই। এতে তেমন সফল না হতে পেরে ফিরে এলাম আধুনিক কৃষিতে। ইউটিউব দেখে এবং টেলিভিশনে কিছু কৃষি ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০ কাঠা জমিতে (বারি কমলা-২) জাতের কমলার চারা রোপন করি। এই গাছ গুলোর আয়ুষ্কাল ৫০-৬০বছর। ২০২০ সালে প্রথম আমি কমলার চারা রোপণ করি এখন পর্যন্ত এই জমিতে ১৩০ টি গাছের পিছনে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যায় হয়েছে।বর্তমানে আমার ১৩০টা গাছে কমলা ধরেছে। আমি আশা করছি এখান থেকে কমপক্ষে ৩০ মন কমলা বিক্রি হবে।

তিনি বলেন, আমি ১৫০ টাকা কেজি দরে এই সুস্বাদু মিষ্টি কমলা বিক্রি করছি এবং গাছের কলমের চারা বিক্রি করেছি দেড় লক্ষ টাকার মত।বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রতিদিন অনেক লোক আসছে আমার এই কমলা বাগান দেখতে। আমি আশা করছি এ বছরই আমার সমস্ত খরচ মিটিয়ে কমপক্ষে দুই লাখ টাকা আয় হবে।যারা বেকার যুবক আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই চাকুরী নামক সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে তারা এই কমলার বাগান করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন।

ইমরানের স্ত্রী সুমি আক্তার বলেন, আমি এবং আমার স্বামী এই কমলার বাগানের যত্ন করে থাকি । আমরা গাছে ফল না আশা পর্যন্ত একটু হতাশ ছিলাম। কারণ আশেপাশের লোকজন অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন ফল হবে না, ফল যদিও হয় তাহলে টক হবে। মানুষ খেতে পারবে না। কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি, আমি এবং আমার স্বামী প্রতিনিয়ত বাগানের পরিচর্যা করেছি আল্লাহর রহমতে তার কারণে ভালো ফল পেয়েছি। কমলা অনেক ভালো এবং সুমিষ্ট। আমি সংসারে কাজের পাশাপাশি বাগান পরিচর্যা করি।

কমলার চারা কিনতে আসা জয়পুরহাটের তেঘর বিশা গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, আমি কমলা বাগানের বিষয়টি ফেসবুকে দেখে জেনে এখানে এসেছি। বাগানটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। বাগানে কমলার ফলন দেখার মতো হয়েছে। আসলে বাংলাদেশের আবহাওয়াতে আমাদের অঞ্চলে এমন কমলা হবে তার ধারণা ছিল না।

আক্কেলপুর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: ইমরান হোসেন জানান, বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত আক্কেলপুরের গোপিনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনি গ্রামের আত্মপ্রত্যয়ী যুবক ইমরানের কমলা চাষ একটি বিপ্লব। কমলা সাইট্রাস জাতীয় ফল, এটি পাহাড়ে হয়। কিন্তু এটি এখন সমতলেও হচ্ছে। অনেক বেকার যুবক চাইলে কমলা চাষ করতে পারেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ফলবাগান সৃজন কর্মসূচির আওতায় কমলার চারা প্রদান, সার, কীটনাশক ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে ।

কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আনন্দের ঝলকানি
                                  

মাসুদ রানা বিরামপুর: চলতি শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের গাছ থেকে কাঁচা মরিচ তুলতে এবং তা বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শ্রমিকরা।  

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ১০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এই মরিচ বাজারে  ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছেন।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর বালুপাড়া গ্রামে গিয়ে গোলাম মোস্তফার সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্ষেতের প্রতিটি গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। ছোট ছোট গাছের সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে সবুজ-লাল কাঁচা মরিচ। বাজার জাত করার মতো হয়েছে প্রতিটি গাছের মরিচ। এক মণ মরিচ তুলতে পারলে শ্রমিকরা পান ১২০ টাকা। তাই গ্রামের ৮ থেকে ১০ জন নারী একত্রে হয়ে ক্ষেতের মরিচ তোলার কাজ করছেন।

এদিকে এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। লাগানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে গাছে মরচি ধরতে শুরু করে। এর ১৫ দিন পরপর ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে হয় কৃষককে। এক বিঘা জমিতে প্রতিবার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মণ মরিচ পেয়ে থাকেন চাষীরা।

আলুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে আশঙ্কায় কৃষকরা
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব , জয়পুরহাট:

আলু উৎপাদনে দেশের বৃহতম জেলা জয়পুরহাট। জয়পুরহাটে বেড়েছে আলু উৎপাদন খরচ, আলু ফলন ও দাম নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে জেলার কৃষকরা। আলু বীজ ও সার সংকট থাকায় বেশি দাম কিনতে হচ্ছে আলুচাষীদের সার ও বীজ। এ জন্য এবার আলুর বীজ এবং সারের দাম বেশি হওয়ায় আলু চাষও গত বারের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এ জেলার উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে, বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে আগাম জাতির আলু লাগানো শেষ হয়েছে। এখন চলছে অন্যান্য জাতের আলু লাগানোর ভরা মৌসুম।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার জেলায় আলু চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৩শ’৬৫ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত ল্যমাত্রার শতকরা ৬৩ ভাগ অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আলু রোপণের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বাকি আলু রোপণের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মজিবুর রহমান জানান, জাতীয় ভাবে কিছুটা ল্যমাত্রা কমানো হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে এবারে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর কম। গত বছর এ ল্যমাত্রা ছিল ৪১ হাজার হেক্টর জমি। আর এবার ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৩শ’ ৬৫ হেক্টর জমি। এছাড়াও কৃষকদের আমরা আলুর পাশাপাশি সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। কৃষক পর্যায়ে সরিষা চাষের জন্য সরকার প্রনোদনাও দিয়েছে। এজন্য আলু চাষের ল্যমাত্রা গত বারের তুলনায় কম ধরা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠে মাঠে চাষিরা এখন আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ চাষ দেওয়ার আগে, জমিতে জৈব এবং রাসায়নিক সার ছিটিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ মেসি বা পাওয়ার টিলার দিয়ে আলু রোপনের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। কেউবা রোপণ করছেন আলু। আবার কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন।

জয়পুরহাট সদরের কড়ই উত্তর পাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল বলে, ‘এবার  আমি মাত্র এক বিঘা জমিতে গ্যানোলা জাতের আলু চাষ করেছি। প্রতি বস্তা আলুর বীজ কিনেছি ১ হাজার ৬শ’ টাকায়। সারও কিনেছি চড়া দামে। গত বছরের চেয়ে এবার বিঘা প্রতি ৫-৬ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। আলু তোলার মৌসুমে, দাম ধানের মতন একটু বেশি পাওয়া গেলে সংসারের ঋণ-দেনাগুলো শোধ করা সহজ হবে।

একই গ্রামের মনোয়ার বলে, আমি এবার ৬ বিঘা জমিতে গ্রানোলা, অ্যাস্টেরিক, ক্যারেজ জাতের আলু লাগাইছি। বাড়ির বীজ। তাই খরচ একটু কম হচ্চে। আমার প্রতি বিঘায় খরচ পরবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। বীজ কিনা লাগলে প্রতি বিঘায় খরচ হতো প্রায় ২৪-২৫ হাজার টাকা’।

সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভোলা বলেন, এবার আলু চাষে খরচ হচ্ছে বেশি। কারণ ব্যবসায়ীরা চালাকি করে চড়া দামে সার ও বীজ বিক্রি করতেছে। সেচের জন্য জ্বালানী তেলের দামও বেশি। তাই এবার সবমিলিয়ে খরচ বেশিই হচ্ছে। শেষমেশ লাভ হবে না লোকসান হবে বোঝা যাচ্ছে না। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে লাভের আশায় আলু লাগাচ্ছি।

সফল সবজি চাষি বিরামপুরের ইব্রাহিম
                                  

মাসুদ রানা, বিরামপুর:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর দয়ের পাড় এলাকায় বসবাসরত হেরে না যাওয়া একজন সফল কৃষকের গল্প। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের দয়ের পাড় গ্রামের বসবাসরত মন্টু মিঞার ছেলে কৃষক মো. ইব্রাহিম মজনু (৪৪) বহুদিন যাবৎ বেকার জীবন যাপন করে হতাশায় ভুগছিলেন।

এরপর সবজি চাষের মাধ্যমেই শুরু হয় ইব্রাহিম মজনুর সফলতার গল্প। বর্তমানে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। সবজি চাষ করেই সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। এলাকায় সৃষ্টি করেছেন সফলতার উদাহরণ।

ইব্রাহিম বলেন, আমি বহুদিন যাবৎ পরিবার পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছিলাম। তখন বিভিন্ন এনজিও হতে লোন নিয়ে এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। এখন আমার প্রতি মাসে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ থাকে। আমি বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছি। আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন আমি ভাল আছি। বর্তমানে আমার জমিতে কাজ করে অনেকের সংসার চলে। ইব্রাহিম বলেন কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া নিজের চেষ্টায় আমি এখানে এসেছি।

তিনি আরোও বলেন, আমি শীত মৌসুম উপেক্ষা করে চার বিঘাতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, পালংশাক, মুলা, শিম, টমেটো, লাউ চাষ করেছি আমার বিশ্বাস শীত এই মৌসুমে আমি ৩/৪ লাখ টাকা উপার্জন করবো।

সফল চাষি ইব্রাহিম বলেন, সবজি চাষের লাভ থেকে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালান। বর্তমানে পাঁচ জনের সংসারের ভরণপোষণ এবং ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ আসে সবজি চাষের লাভের টাকা থেকেই।সবজি চাষ করেই তিনি পরিবার নিয়ে ভালোই আছেন। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় বাজারে তার সবজির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিক্রিতেও ভালো দাম পাওয়া যায়। কৃষক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে লাভবান হতে পারেন।

 বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিক্সন চন্দ্র পাল  বলেন, চাষি ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ তিনি সফলতার সঙ্গে সবজি চাষ করে যাচ্ছেন, তিনি আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে সব সময় পাশে পাবেন।

বিশ্বনাথে পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষক
                                  

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ফসল রক্ষায় প্রাকৃতিক উপায়ে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা। ব্যয়বিহীন ও পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতির ব্যবহারে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে জমির ফসল রক্ষা হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। পার্চিংয়ের ব্যবহারে প্রাকৃতিক ভারসাম্য  রক্ষায় পাশাপাশি কৃষকদের সাশ্রয় হচ্ছে টাকাও।

উপজেলার দঘশর ইউনিয়নের সমের্মদান গ্রামের কৃষক লুৎফুর রহমান এ বছর ৪৭ বিঘা জমিতে রোপন করেছেন আমন ধান।

এর মধ্যে তিনি ৪৫ বিঘা জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বিঘা প্রতি জমিতে ৪টি করে ১৮০টি বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে রাখেন। সেখানে প্রতিনিয়ত পাখিরা বসে, ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। তাই এ বছর আর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি তার।

৪৫ বিঘায় এতে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। আর ২ বিঘা পরখ করতে রেখেছিলেন পার্চিং ছাড়া। ওই বিঘায় আক্রমণ করেছে মাজরা পোঁকা।

তিনি জানান, পোকামাকড়ের হাত থেকে ধানের গাছ রক্ষা করতে চারা রোপণের মাসখানের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যবধানে তিনি গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি ও খুঁটি পুঁতে রাখেন।

ওগুলোতে বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায় ফিঙ্গে, শালিক, বুলবুলি, শ্যামা, দোয়েল পাখিরা। অন্যবার যেখানে তাকে তিন-চার দফা কীটনাশক ব্যবহার করতে হতো, এ বছর মাত্র একবার তিনি কীটনাশক ব্যবহার করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উপকরণ সহযোগিতায় নতুন জাতের ধান ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৮৭, ব্রি ধান ৯৫সহ ধান লাইনে রোপণ ও পার্চিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ বছর কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে পার্চিং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের বলেন, পার্চিং হলো পোকা দমনে একটি জৈবিক পদ্ধতি। পার্চিয়ের পোতানো ডাল বা বাঁশের কঞ্চিতে পাখি বসে ধানের ক্ষতিকর পোকা, যেমন মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, চুঙ্গি পোকা, শীশ কাটা লেদা পোকার মা পোকা তথা মথকে খেয়ে তাদের দমন করে। ফলে সঠিক সময়ের পার্চিং করা হলে এ পোকাগুলো ধানের ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।

জয়পুরহাটে সবজির চারায় কৃষকের ভাগ্য বদল
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট জেলার সর্বত্র শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি হিসেবে এখন চারা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা বিক্রি করে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। কৃষকরা তাদের জমিতে শীতকালীন সবজির চারা রোপণ করেছেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখানকার কৃষকরা তাদের প্রয়োজনে চারা উৎপাদন করেন আবার অনেকেই কিনে জমিতে লাগান। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলায় শীতকালীন সবজির এ চারা বিক্রি করে অনেকে লাখপতিও হয়েছেন। চলতি মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি চলবে নভেম্বর মাস শেষ পর্যন্ত। এ চার মাস সময়কালে পলিথিনে মোড়ানো শেড তৈরি করে চার-পাঁচবার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন কৃষকরা।

চারা প্রস্তুতকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের জুলাই মাস থেকে শীতকালীন সবজি বীজতলা প্রস্তুত করে এতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, চিচিঙ্গা, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়।ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে জমি থেকে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা এক টাকা থেকে দুই টাকা এবং বাঁধাকপির চারা প্রকারভেদে এক টাকা থেকে দুই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জয়পুরহাট ছাড়াও আশে পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা এখানে সবজি চারা ক্রয় করতে আসেন।

চারা ক্রয় করতে আসা আক্কেলপুর উপজেলার কৃষক আনোয়ার বলেন, আমি আমার জমিতে বাঁধাকপি লাগাবো, তাই চারা কিনতে এসেছি।গত বছর এখান থেকে চারা কিনে বেশি ফলন পেয়েছি। পাঁচবিবি উপজেলার উচাই এলাকার কয়েকজন ক্রেতা জানান, এখান থেকে চারা নিয়ে রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। সে জন্য তারা এখানে চারা নিতে আসেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার পূরানাপূল ইউনিয়নের হিলি রোড এলাকায় মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো বীজতলা। এ সকল বীজতলায় বিভিন্ন জেলা থেকে চাষিরা আসছেন চারা কেনার জন্য। বীজতলার মালিকরা তাদের জমি থেকে চারা তুলছেন বিক্রয়ের জন্য। কেউ কেউ বীজতলার উপরের পলিথিন খুলে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। আবার কেউ আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সদর উপজেলার পূরানাপূল এলাকার বীজতলার মালিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় সরকার বলেন, ‘আমি বিগত ২২ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। এ চারা বিক্রি করে আমি অনেক লাভবান হয়েছি। দুই বিঘা জমিতে অঙ্কুরোদ্গমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে থাকি এবং এগুলো বিক্রি করে প্রতি বছর সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার যতটুকু আবাদি জমি আছে সেখানে চারা কিনে নিয়ে এসে আবাদ করা লাগতো।তারপর সময় মত চারা পাওয়া যেতো না।তাই সময়ের ফসল অসময়ে লাগানোর জন্য ফলনও কম পাওয়া যেতো।তাই নিজেই অল্প জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা লাগানো শুরু করি। তার থেকে লাভবান হওয়ার কারনে এখন ব্যাবসা হিসাবে চারা উৎপাদন করি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন,স্থানীয় উপজেলা ও জেলা কৃষি অফিস বিভিন্নভাবে কৃষকদের এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।জয়পুরহাটে বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। সবজি চারা উৎপাদন লাভজনক ব্যবসা বলে কৃষকরা এদিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও চারার গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছেন এবং নতুন নতুন জাত ও আগাম সবজির চারা উৎপাদনে পরামর্শ দিচ্ছেন।


   Page 1 of 8
     কৃষি
বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কায় আম চাষিরা
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে কাউনের আবাদ
.............................................................................................
সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন
.............................................................................................
চরের জমিতে ফসলের সমাহার, স্বপ্নে ঘেরা কৃষকের বুক
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
৮০ হাজার টাকা খরচ করে ৫ লাখ টাকা বিক্রি
.............................................................................................
বোরোর উৎপাদন বাড়াতে ১৭০ কোটি টাকার প্রণোদনা
.............................................................................................
সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক
.............................................................................................
জগন্নাথপুরে আমন সংগ্রহ উদ্বোধন
.............................................................................................
মধুখালীতে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি
.............................................................................................
জয়পুরহাটে কমলা চাষে দম্পতির সাফল্য
.............................................................................................
কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আনন্দের ঝলকানি
.............................................................................................
আলুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে আশঙ্কায় কৃষকরা
.............................................................................................
সফল সবজি চাষি বিরামপুরের ইব্রাহিম
.............................................................................................
বিশ্বনাথে পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি ব্যবহারে সুফল পাচ্ছেন কৃষক
.............................................................................................
জয়পুরহাটে সবজির চারায় কৃষকের ভাগ্য বদল
.............................................................................................
শীতকালীন আগাম সবজি চাষে উৎপাদন খচর বেশি; আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক
.............................................................................................
আমনের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফুলবাড়ীর কৃষক
.............................................................................................
হবিগঞ্জে ৭৬৪ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদনের আশা
.............................................................................................
রৌমারীতে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
রৌমারীর জমিতে সেচ পাম্প স্থাপনে সুবিধা পাবে ১২০ পরিবার
.............................................................................................
জগন্নাথপুরে আমন ধান কাটা শুরু, বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য
.............................................................................................
পেঁপের বাগান করে স্বাবলম্বী সাকিনুর ইসলাম
.............................................................................................
ব্রি-৭৫ ধান আগাম রোপণে সফল কৃষক রফিকুল
.............................................................................................
শাহজাদপুরে বীজ উৎপাদনে মরিয়মের সাফল্য
.............................................................................................
আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকেরা
.............................................................................................
গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষক
.............................................................................................
বৃষ্টি নেই, দুশ্চিন্তায় পাটচাষীরা
.............................................................................................
ভেড়ামারায় জি-কে সেচ প্রকল্পের ৩ পাম্পের দু’টিই বিকল, চাষিরা বিপাকে
.............................................................................................
বকুল বেগমকে সাবলম্বীর পথ দেখালো তার অদম্য শ্রম
.............................................................................................
আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
আগাম সবজি চাষ লাভজনক
.............................................................................................
গম ও ভুট্টা চাষে কৃষকরা পাবেন হাজার কোটির ঋণ
.............................................................................................
শাহজাদপুরে আউশ ধানের বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি
.............................................................................................
মধুখালীতে কাঁচামরিচ ৮হাজার টাকা মণ
.............................................................................................
দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা
.............................................................................................
আমন চারা রোপনে মাঠে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কৃষকরা
.............................................................................................
গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লাখ আশি হাজার টাকা
.............................................................................................
সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
.............................................................................................
বিরোধীরা আন্দোলনে নামলে পাল্টা আন্দোলন হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
তপ্ত দিনে বিরামপুরে উঠেছে রসালো তালশাঁস
.............................................................................................
যশোরে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছে না চাষিরা
.............................................................................................
বোরো ধানের ফলনে হাসলেও দামে হতাশ আনোয়ারার কৃষকেরা
.............................................................................................
মিঠাপুকুরে বোরো ধান পানিতে, শ্রমিক সংকট চরমে
.............................................................................................
আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ
.............................................................................................
ধান ও সয়াবিন নিয়ে শঙ্কায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
কুমিল্লার লালমাইয়ে কচুর বাম্পার ফলনে স্বস্তিতে কৃষকরা
.............................................................................................
গোলায় ধান তোলার অপেক্ষায় চৌহালীর কৃষক
.............................................................................................
এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT