রবিবার, ২ অক্টোবর 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকেরা

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার আমন ধানের ফসলের মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির সাজে সেজেছে ফসলের মাঠ। বাতাসে দোল খাচ্ছে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলো। বিগত কয়েক বছর আগে অত্রাঞ্চলে পানির নানা সমস্যার কারণে তেমন ফসল না হলেও বর্তমানে স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় আশার আলো দেখছেন উপজেলার কৃষকেরা। বলা চলে এখন একটি জমিতে ২ থেকে তিনটি ফসল আবার কোন কোন জমিতে ৩ থেকে ৪ টি ফসল হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানের গাছ গুলো সুন্দর সতেজ হয়েছে এবং ধানের গোড়া বেশ শক্ত ও মজবুৎ হয়েছে। উপজেরার বেশ কয়েকজন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্বাবনা রয়েছে।

যদিও এ বছর প্রথম দিকে আশানারুপ বৃস্টি না হওয়ার কারনে শ্যালোমেশিন, গভীর নলকুপ ও মটরচালিত সেচ পাম্প দিয়ে আমনের চাষাবাদ করেছেন। ফলে খরচ একটু বেশি হলেও সময় মতো উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে কৃষকরা জমিতে যে পরিশ্রম করেছে তাতে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষকেরা।

আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকেরা
                                  

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার আমন ধানের ফসলের মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। প্রকৃতির সাজে সেজেছে ফসলের মাঠ। বাতাসে দোল খাচ্ছে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলো। বিগত কয়েক বছর আগে অত্রাঞ্চলে পানির নানা সমস্যার কারণে তেমন ফসল না হলেও বর্তমানে স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় আশার আলো দেখছেন উপজেলার কৃষকেরা। বলা চলে এখন একটি জমিতে ২ থেকে তিনটি ফসল আবার কোন কোন জমিতে ৩ থেকে ৪ টি ফসল হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানের গাছ গুলো সুন্দর সতেজ হয়েছে এবং ধানের গোড়া বেশ শক্ত ও মজবুৎ হয়েছে। উপজেরার বেশ কয়েকজন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্বাবনা রয়েছে।

যদিও এ বছর প্রথম দিকে আশানারুপ বৃস্টি না হওয়ার কারনে শ্যালোমেশিন, গভীর নলকুপ ও মটরচালিত সেচ পাম্প দিয়ে আমনের চাষাবাদ করেছেন। ফলে খরচ একটু বেশি হলেও সময় মতো উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে কৃষকরা জমিতে যে পরিশ্রম করেছে তাতে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষকেরা।

গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষক
                                  

সজল রায়, খোকসা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার খোকসাতে সাধারণত শীতকালে পেঁয়াজ চাষ হয়। গরমের শুরুতে মার্চে এই পেঁয়াজ বাজারে আসে। বছরের বাকিটা সময় ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে। আমদানি নির্ভরতার কারণে হঠাৎ হঠাৎ বেড়ে যায় দাম। যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকে পেঁয়াজের ঝাঁজ।

এদিকে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে খোকসাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ শুরু হয়েছে। রবিবার উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নে আজইল গ্রামে চাষিদের সাথে পিয়াজের চারা রোপণ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা।

খোকসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, এই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দশজন কৃষককে বিনা মূল্যে সার-বীজ প্রদান করা হয়েছে। এবং এই উপজেলায় একশত বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ রোপণ করা হবে।

খোকসা ওসমানপুর ইউনিয়নের আজইল গ্রামের কৃষক রহিম শেখ জানান, আগামীতে এ জাতের পেঁয়াজ চাষ জমির পরিধি তিনি আরো বাড়িয়ে দেবেন। তার পেঁয়াজের ফলন দেখে এখন এ জাতের পেঁয়াজ চাষে অনেকে আগ্রহী।

শুধু কৃষক রহিম শেখ নয়, খোকসায় এখন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করছেন অনেকে। ফলন দেখে অনেক কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে এ জাতের পেঁয়াজ চাষে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে বছরজুড়ে পেঁয়াজ চাষের বিকল্প নেই। এজন্য বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গুনগত বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের বোঝানো গেলে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে পেঁয়াজ সংকট দূর করা সম্ভব।

খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, ‘শীতকালে পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ৪ মাস লাগে। কিন্তু ৩ মাস ৩ দিনেই নতুন জাতের এই পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। এই চাষে সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য কৃষকরা এই পেঁয়াজে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। আমি প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের পাশে যেয়ে গ্রীষ্ম কালীন পিয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি এবং বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছি।’

বৃষ্টি নেই, দুশ্চিন্তায় পাটচাষীরা
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিনিধির
ফলন ভালো হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পাটচাষীরা। খাল-বিল, ডোবা-নালায় নেই পানি। ঠিকমতো পচাতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে পাটের মান। বর্ষা চলে গেলো। অথচ মাঠ, খাল, ডোবা-নালায় নেই পানি। পাট কেটে বিপাকে চাষীরা। পানির সন্ধানে ভ্যানগাড়িতে দূরে কোথাও পাট নিয়ে যাচ্ছেন চাষী।

সোনালী আঁশখ্যাত পাটের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয় বৃহত্তর ফরিদপুরে। গোপালগঞ্জে এবার ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। অন্য বছরের চেয়ে এবার ফলনও ভালো। কিন্তু পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না কৃষক।

কৃষকরা বলেন, এতো ভালো পাট গত ১০-১২ বছরেও হয়নি। কিন্তু এখন পাট পচাতে কোনো জায়গায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন যে কি করি, পাট নিয়ে খুব বিপদে আছি। মাদারীপুরেও এ বছর পাটের ফলন ভালো। কিন্তু ঠিকমতো পচাতে না পারায় হতাশ চাষীরা। চাষীরা বলেন, পানি তো একদম নাই। অনেক কষ্ট করেছি, এখন পাট যাচ্ছে শুকিয়ে। কৃষি বিভাগ জানায়, বাজার দর ভালো হলেও পানি সংকটে খারাপ হচ্ছে পাটের মান।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, যতি ভালো পচানো না যায় তাহলে পাটের মান খারাপ হয়ে যায়। পাটের রং ভালো হয়না। এরকম সমস্যা আছে।

এদিকে রাজবাড়ীতে গত বছরের চেয়ে এবার দুই হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টি না থাকায় ফলন কম। এছাড়া মাঠ, বিল, পুকুর বা ডোবা, কোথাও নেই পানি। কৃষক জানান, “পানি নাই, পাট জাঁক দেওয়ার জায়গা নাই। আমরা লোকসানে পড়ে যাচ্ছি। পানি না থাকার কারণে পাট কালো হচ্ছে, পাটের বাজার খারাপ।” পানির অভাবে পাটের রং কালো হওয়ায় বাজার দর মণ প্রতি এক হাজার টাকা কম পাচ্ছেন বলেও জানান চাষীরা।

ভেড়ামারায় জি-কে সেচ প্রকল্পের ৩ পাম্পের দু’টিই বিকল, চাষিরা বিপাকে
                                  

আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া:
 
দেশের বৃহত্তর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের তিনটি প্রধান পাম্পের দু’টিই পড়ে আছে বিকল হয়ে। এতে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা পাওয়া চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

ভরা আমন মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচের পানি নিশ্চিত করতে সরকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলেও ভেড়ামারায় দেশের বৃহত্তর গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের তিনটি প্রধান পাম্পের মধ্যে দুটিই পড়ে আছে বিকল হয়ে। এতে স্বল্প খরচে তিন মৌসুমে নির্বিঘ্নে সেচ সুবিধা পাওয়া এ অঞ্চলের চাষীরা বেকায়দায় পড়েছেন। একটি সচল থাকলেও দুটি পাম্প বিকল থাকায় দুশ্চিন্তায় কর্তৃপক্ষও। দ্রুতই পাম্প দুটি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

১৯৬২ সাল থেকে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি। গত বছরের মে মাসে এই সেচ প্রকল্পটির ২ নম্বর পাম্পটি বিকল হয় এবং চলতি বছরে বিকল হয়ে পড়ে ৩ নম্বর পাম্পটিও। বর্তমানে সচল একটি মাত্র পাম্প দিয়েই চলছে সেচ কার্যক্রম। চলতি আমনের ভরা মৌসুমে বেশির ভাগ মাঠেই ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচের পানির চাহিদা পূরণ করছেন কৃষকেরা।

কুষ্টিয়া সদরের কুমারগাড়া এলাকার ধান চাষী সোনা মিয়া জানান, এমনিতেই সার ও তেলের দাম বৃদ্ধিতে জমিতে চাষ-আবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এরপর আবার নতুন করে সেচের পানি সংকটে চরম বিপদ।

একই এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন জিকে সেচ প্রকল্পের পানি দিয়ে জমি-জমা আবাদ করে আসছি। আমন ধানের মৌসুম চলছে। এখন জমিতে পর্যাপ্ত পানি দরকার। পাম্প নষ্ট থাকায় আমরা ঠিকমত পানি পাচ্ছি না। বর্তমানে তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় এক বিঘা জমিতে ডিজেলে চালিত শ্যালো মেশিনে একবার সেচ দিতে খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকা। এত টাকা খরচ করে আমাদের পক্ষে আর ধান আবাদ করা সম্ভব নয়।’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুটি পাম্প বিকল থাকায় একটি মাত্র পাম্প দিয়ে সবোর্চ্চ সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এতে কৃষকেরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিকল হওয়া পাম্প দুটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান হবে।’
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের তথ্য মতে, তিনটি পাম্প একসঙ্গে চালু থাকলে পদ্মা নদী থেকে প্রতি সেকেন্ডে তিন হাজার ৯০০ কিউসেক পানি আবাদি জমিতে দেওয়া সম্ভব হয়।

বকুল বেগমকে সাবলম্বীর পথ দেখালো তার অদম্য শ্রম
                                  

পিরোজপুর প্রতিনিধি
বকুল বেগম এর পিরোজপুরের ইন্দুরকানী শাখার পত্তাশী সমিতির একজন সদস্য। সে ২০২১ সাল থেকে মুসলিম এইড এর সাথে জড়িত। দু সন্তানের জননী বকুল বেগম এর স্বামী বিভিন্ন জনের বাগান থেকে কলা ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করতেন এবং সেখান থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে সংসার ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন। বকুল বেগম নিজেদের একটা কলা বাগানের স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সে স্বপ্ন পুরন হয়না।

মুসলিম এইড বাংলাদেশ এর বিনিয়োগ গ্রহিতাদের থেকে মুসলিম এর সম্পর্কে জানতে পেরে পত্তাশী সমিতিতে ভর্তি হন এবং প্রথম বার মুনাফা ৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ গ্রহণ করে কলা বাগানের কাজ শুরু করেন অদম্য এই নারী এবং স্বপ্ন পুরনের কাজ শুরু করেন। দ্বিতীয় ধাপে বকুল বেগম আবারো মুনাফা ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ গ্রহণ করেন এবং কলা চাষের পরিধি বৃদ্ধি করেন। তিনি এখন ৬০শতাংশ জমিতে কলার চাষ করছেন, পরবর্তিতে চাষের পরিধি আরো বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।

ওই সংস্থার ইন্দুরকানী শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ ফারুক হোসেন জানান, বকুল বেগমের মত আগ্রহী হাজারো বকুল বেগমকে সাবলম্বী করতে মুসলিম এইড বাংলাদেশ এর সহায়তা চলমান রাখবে, ইনশাআল্লাহ। এখন সে বাগান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করে থাকেন, কলা চাষের পাশাপাশি হাঁস মুরগী পালন ও বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন জাতের শাক-সব্জি ও চাষ করে থাকেন।

বকুল বেগম এবং তার স্বামীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের সংসার বর্তমানে সুখের সংসার। আর্থিক সহযোগিতা করায় মুসলিম এইড বাংলাদেশ এর প্রতি দুজনেই কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন।

 

আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
                                  

রাকিবুল হাসান রাকিব, জয়পুরহাট
আলু উৎপাদনে দেশের বৃহতম জেলা জয়পুরহাট। পাইকারীতে বাজারে কম দামে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। জেলার হিমাগারগুলোতে প্রকারভেদে বর্তমান আলু প্রতি কেজি আলু ১৬ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। আর সাধারন ক্রেতারা বেশি দামে আলু কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেট ভারি হলেও আলু রেখে মোটা অংকের লোকসানে পড়েছে আলু ব্যবসায়ী, হিমাগার মালিক ও চাষীরা। পাইকারি বাজারে আলুর দাম ও চাহিদা না থাকায় তাদের বিশাল অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে।

মৌসুমের শুরুর দিকে বেশি দাম পেয়েও আলু বিক্রি না করে অধিক লাভের আশায় হিমাগারে মজুত করে এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেকায়দায় পড়েছেন। এমন দর পতনের কারণে হিমাগারগুলোতে বর্তমানে ভরা মৌসুমে কৃষক ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ ছিল, এবার তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি আলু সংরক্ষণ করেছে। এদিকে বাজারে বর্তমানে সবছিুরই দাম হু হু করে বাড়লেও বাড়েনি আলুর দাম। এ পরিস্থিতিতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া আর আলু কেনার সময়ে ব্যবসায়ীকে ঋণ দেওয়ার টাকা আদায় করতে না পেয়ে বিপদে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা।

চাষী, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমে আবওহাওয়া অনুকুলে থাকায় জেলায় আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছিল। উৎপাদন ভাল হওয়ায় এবং গত বছর দামও ভাল পাওয়ায় মৌসুমের শুরুতে বিক্রি না করে এবার হিমাগারে আলু মজুদ বেশি করেছে। তাতে হিমাগারের খরচসহ প্রতি বস্তা (৬৫ কেজি) প্রকারভেদে আলুর খরচ পড়েছে ১ হাজার ২শ’৫০ থেকে ১ হাজার ৩শ’ টাকা। বর্তমান বাজারে আলু প্রতি বস্তা ১ হাজার ২০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গড়ে বস্তা প্রতি লোকসান গুণতে হচ্ছে ২শ’৫০ টাকা। বাজারে আলুর যে দাম তাতে আরও মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে। সাথে আলু কিনতে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ঋণের টাকা এবং আলু রাখার ভাড়ার টাকা ওঠাতে বড় বেকায়দায় পড়েছে হিমাগার মালিকরা। লোকসান ঠেকাতে আলু রপ্তানির দাবি জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

হাট-বাজার ও হিমাগারগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৬৫ কেজি ওজনের কার্ডিনাল (লাল) জাতের আলু প্রতি বস্তা ১ হাজার ১০ টাকায়, ডাইমন্ড (সাদা) জাতের আলু প্রতি বস্তা ১ হাজার ৬০ টাকায়, দেশি পাকরি (লাল) জাতের আলু প্রতি বস্তা ১ হাজার ১শ’৫০ টাকায় এবং রুমানা (পাকরি) জাতের আলু প্রতি বস্তা ১ হাজার ১শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এম ইসরাত হিমাগারের ম্যানেজার বিপ্লব কুমার জানান, জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে সারা দেশে সবকিছুর দাম বৃদ্ধি হলেও আলুর দাম দিনদিন কমেই যাচ্ছে। এ কারনে চাষী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি লোকসান গুণতে হচ্ছে হিমাগার মালিকদের। এ অবস্থা চলতে থাকলে হিমাগার মালিকদের আরো বেশি লোকসান গুনতে হবে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছর আলুর ভালো দাম পেয়ে চাষিরা আলু চাষে ঝুঁকে পড়েন। শুধু চাষীরাই নয় ব্যবসায়ীরাও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলুর চাষ করেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে হিমাগার মালিকদের কাছ থেকে গত বছরের মত লাভের আশায় ঋণের টাকা নিয়ে জেলার ২০টি হিমাগারে আলু রাখেন। মৌসুমের শুরুতে এসব হিমাগারে আলু সংরক্ষণ হয় (৬৫ কেজি ওজনে) ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৫৩ বস্তা। সংরক্ষিত আলু উত্তোলনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ নভেম্বর। এসব হিমাগারে ১৭ লাখ ৫১ হাজার ১৫৩ বস্তা আলু আজও মজুত রয়েছে। গত বছর এই সময়ের মধ্যে মজুতের প্রায় ৪০ ভাগ আলু বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০ ভাগ আলু বিক্রি হয়েছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার গুনীমঙ্গল বাজারের ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন স্বাধীন বাংলাকে বলেন, গত বছর আলুর দাম বেশি পাওয়ায় লাভের মুখ দেখেছিলাম। তাই এ বছর ঋণ নিয়ে দেশি পাকড়ী লাল জাতের সাড়ে ৩ হাজার বস্তা, ষ্টিক লাল জাতের ১১ হাজার বস্তা এলাকার কয়েকটি হিমাগারে রেখেছি। বর্তমানে বাজারের যে অবস্থা তাতে এই মহূর্তে আলুগুলো বিক্রি প্রায় ৩৮ লাখ টাকা লোকসান হবে।

কালাই উপজেলার সড়াইল গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান স্বাধীন বাংলাকে বলেন, এবার আলু নিয়ে বড় বিপদে আছি। মৌসুমের শুরুতে আলু বিক্রি না করে কেন হিমাগারে রাখলাম। নিজের ভুলের খেসারত বড় করেই গুণতে হচ্ছে। জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন স্বাধীন বাংলাকে বলেন, আলুর দরপতন নিয়ে এবার সবাই চিন্তিত। যেসব কোম্পানিগুলো আলু বিদেশে রপ্তানি করে তাদের সাথে আমরা দফায় দফায় আলোচনা অব্যাহত রেখেছি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আলু প্রক্রিয়া করন ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আলুর দরপতন ঠেকানো সম্ভব।

 

আগাম সবজি চাষ লাভজনক
                                  

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় লাউ, শসা ও ক্ষিরার মত আগাম সবজির চাষ হয়েছে। আগাম সবজির চাষ করে কৃষক যেমন লাভবান হয় তেমনি গ্রামীণ জীবনে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ গ্রামে কৃষকের জমিতে শোভা পাচ্ছে মাচায় ঝুলে থাকা অসংখ্য লাউ। প্রতি ১০০ পিচ লাউ ২৩০০.০০ থেকে ৩০০০.০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে । এই দাম পেয়ে কৃষক খুশি।

কৃষক আঃ হাকিম জানান, গত বছর তিনি ২০ শতাংশ জমিতে লাউয়ের চাষ করে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলাম। তিনি আরো বলেন, জমি প্রস্ত্তত করা থেকে মাচা তৈরি, লেবারসহ অন্যান্য খরচ মিলে আমার প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। সবমিলে আমার ঐ জমি থেকে আমি ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ করেছিলাম। এ বছর আমি ৭২ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছি। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে আশাকরি ১ লাখ ৫০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবো।

লাউয়ের জমি পরিদর্শনে এসে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ এহসানুল হক বলেন, আমরা চাষীদের উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি যেন কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদেরকে উচ্চমূল্যের ফসলের উৎপাদনে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করছে।

সেই সাথে তা যেন নিরাপদ থাকে সেজন্য আমরা কৃষকের মাঠে ‘‘পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন’’ প্রকল্প থেকে প্রদর্শনী দিয়েছি। তাদেরকে ভার্মি কম্পোষ্ট, সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ, আঠালো ফাঁদ ইত্যাদির ব্যবহার শিখিয়েছি। কৃষক এগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে বলে এই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন মনে করেন। উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে লাউয়ের চাষ হয়েছে। আগামী বছর এর চাষ আরো বাড়বে।

গম ও ভুট্টা চাষে কৃষকরা পাবেন হাজার কোটির ঋণ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
কৃষকদের ঋণ দেওয়ার জন্য এক হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র চার শতাংশ সুদে গম ও ভুট্টা চাষীদের এই ঋণ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো

এ সংক্রান্ত সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশে গম ও ভুট্টার পর্যাপ্ত চাহিদা থাকলেও এই শস্যগুলোর উৎপাদনের পরিমাণ যথেষ্ট নয়। এ কারণে দেশে গুম-ভুট্টা ও এগুলো থেকে উৎপাদিত খাদ্য দ্রব্যাদির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে প্রতিবছর গম ও ভুট্টা আমদানি করার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এ প্রেক্ষিতে দেশে গম ও ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এক হাজার কোটি টাকার একটি পুন:অর্থায়ন স্কিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে এই ঋণ দেবে যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে প্রয়োজনে স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে। এই স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করবে। গম ও ভুট্টা চাষের উপযোগী অঞ্চলকে এই স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভূমিহীন কৃষক, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং বর্গা চাষিদের জামানতবিহীন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া যাবে।

শাহজাদপুরে আউশ ধানের বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি
                                  

শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
শাহজাদপুরে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিন মৌসুমে ধান চাষ করেন কৃষকরা- আউশ, আমন ও বোরো। এর মধ্যে বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচ নির্ভর। আমন আর আউশ হলো বৃষ্টি নির্ভর। বোরো ধান কাটার পরপরই আউশ ধান বোপন করা হয়। আউশ মৌসুমে একটি জনপ্রিয় জাত হলো ব্রি ৪৮। এ জাতের আউশ ধান চষে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয় ১৭ মণ। আউশ চাষে সেচ খরচ লাগেনা, সারের পরিমাণও কম লাগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম, রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম হয়। সাড়ে তিন মাসেই এ ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারে। এতে খরচ কম, লাভজক এবং আউশ ধানের খর গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারা ও বাজার মূল্য ভালো থাকায় আউশ চাষাবাদে ব্যাপক আগ্রহ বেড়ে গেছে এ উপজেলার আউশ চাষিদের।

আউশ চাষীরা জানান, আউশ ধান চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা উৎপাদন ব্যয় ও উৎপাদিত ধান বিক্রি করে প্রায় ২০-২২ হাজার ও খর বিক্রি করে প্রায় ৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এতে আউশ ধান চাষে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি কৃষকের প্রায় ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়। ফলে আউশ ধান চাষে কৃষক লাভবান হচ্ছে। চলতি মৌসুমে শাহজাদপুরে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে আবাদকৃত আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ গ্রামে ব্লক পরিদর্শনের সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মো. এহসানুল হক বলেন, অল্প দিনে আউশ ধান ঘরে উঠার ফলে কৃষকরা সহজেই আগাম সবজি চাষে যেতে পারে এবং কিছু জমি আমন ধানের জন্যও ব্যবহার করা হয়। ফলে কৃষক যেন জমির সঠিক ব্যবহার করতে পারে।

এই ধানের আবাদকে জনপ্রিয় করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নানা রকম কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তেমনি একটি কার্যক্রম হলো এনএটিপি-২ প্রকল্প থেকে কৃষক আব্দুল মালেকের ২ একর জমিতে একটি ক্লাস্টার প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রদর্শনী দেখে গ্রামের অন্যান্য কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন, ওই ব্লকে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলেন, আমাদের ভূ-গর্ভস্থ পানি অফুরন্ত না। তাই সেচ নির্ভর চাষাবাদ থেকে বের হয়ে আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহ প্রণোদনার মাধ্যমে সার ও বীজ দিয়েছি, প্রদর্শনী স্থাপন করেছি, আশাকরি আগামীতে আউশ ধানের আবাদ আরোও বাড়বে।

মধুখালীতে কাঁচামরিচ ৮হাজার টাকা মণ
                                  

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালীতে বেড়েই চলেছে কাঁচা মরিচের দাম। উপজেলার হাটবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতিমণ মরিচের পাইকারি দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে বেড়েছে ৮ হাজার টাকা মণ দাঁড়িয়েছে।

প্রতিমণ মরিচের দাম ৮ হাজারটাকা থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা দরে আড়তদারেরা ক্রয় করছেন। এতে মরিচের পাইকারি প্রতি কেজি ২১০ টাকা এবং খুচরা বাজারে এ মরিচবিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা দরে।

চাহিদার তুলনায় মরিচ সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বাড়ছে বলে মত অনেকের। মধুখালী মরিচ বাজারের আড়তদার মো. আব্দুর নূর ও মাহফুজ মোল্যা জানান, গত দুই দিনকাঁচা মরিচের প্রতিমণ কিনেছি ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায়। মঙ্গলবার সেই মরিচের দাম বেড়ে ৮ হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।মধুখালীর মরিচ বাজার আড়ত থেকে ঢাকা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোরে মনিরামপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার ব্যাপারীরা আসেন মরিচ কিনতে।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আলভির রহমান জানান, মধুখালী উপজেলার মাটি মরিচ চাষের জন্য উপযোগী। এ মৌসুমে মরিচের ফলন ভালো এবং দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এ বছর উপজেলায় ২হজার ৬৬৫হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ২ হ্জাার ৬৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছিল । আগামী মৌসুমে হয়তো দামের কারনে আরো বাড়তে পারে মরিচের চাষ।

দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা
                                  

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
লাভ বেশী হওয়ায় দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা, তালা, পাটকেলঘাটা, নগরঘাটা, ত্রিশমাইল, মিঠা বাড়িসহ আশে পাশের এলাকার মাটি ওল চাষের উপযোগী হওয়ায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ওল চাষ।

মিঠাবাড়ি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ১ বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ওল চাষ করেছেন। প্রতি বিঘাতে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি জানান এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছ থেকে ৩-৭ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য কেজি প্রতি ৬০-৭০ টাকা। এক বিঘা জমির ওল দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি আরো জানান, সাতক্ষীরা জেলার মিঠাবাড়ি ওলের জন্য বিখ্যাত।

পোড়ার বাজার এলাকার কৃষক এলাহী জানান, ওল একটি মৌসুমি ফসল, তিনি বেলে-দোঁয়াশ মাটিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। বাজারে ওলের চাহিদার পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়ায় তিনি এবার গতবারের চেয়ে বেশি জমিতে ওল চাষ করেছেন।

নগরঘাটা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, ওল চাষে তেমন খরচ হয়না। শুধু গোবর সার ও ওলের বীজ লাগে। তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘাতে ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ করে দেড় লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। সাতক্ষীরার ওল খেতে অনেক সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদাও প্রচুর।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় তালা পাটকেলঘাটা মিঠাবাড়ি, নগরঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ৬৫৬ হেক্টর জমিতে দেশী ও মাদরাজি জাতের ওলের চাষ হয়েছে। এখানকার মাটি ওল চাষের উপযোগী হওয়ায় এ অঞ্চলে ওল চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওল চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা তা চাষে আরো বেশী আগ্রহ হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগ ওল চাষে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

আমন চারা রোপনে মাঠে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কৃষকরা
                                  

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎচালিত মটর ও শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচ দিয়ে অবশেষে আমন ধানের চারা রোপণে বিভিন্ন জমিতে নেমে পড়েছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষকেরা। এই মূহর্তে জমিতে পানি দিয়ে ট্রাক্টার দিয়ে হালচাষ, আমন ধানের চারা তোলা এবং রোপন করা নিয়েই ব্যস্ত আছেন কৃষক। আবার কেউ কেউ জমিতে মই দিচ্ছেন। বর্ষাকালে এই সময় আবাদি জমি থাকে জলমগ্ন। আর জমির এই পানিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা মনের আনন্দে আমন চাষ করতেন।

কিন্তু এবার উপজেলায় সময় মতো বৃস্টি না হওয়ায় বিকল্প হিসেবেই আমন ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষক। তবে চলতি সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃস্টিপাত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলের মানুষের জমি তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও উচু অঞ্চলের মানুষগুলো এখনো পর্যাপ্ত বৃস্টির জন্য চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে চেয়ে আছেন। উপজেলার নিমগাছী, চান্দাইকোনা, ধূপিল, সোনাখাড়া, ভ্র্যমগাছা, ধানগড়া, নলকাসহ প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই শুরু হয়েছে পুরো দমে আমন ধানের চাষাবাদ।

এদিকে উজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাটকান্দা, ভ্রাম্যনবাড়িয়া, নিজামগাতী, ডাঙ্গারপাড়া, শ্রীদাসগাতী, হাটপাঙ্গাসী, গ্রামপাঙ্গাসী, বোয়ালিয়ারচরসহ অধিকাংশ এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃস্টি না হওয়ায় অবশেষে বিদ্যুৎ চালিত মটর ও শ্যালোমেশিন দ্বারা সেচ, জমিতে হালচাষ, চারা তোলা, মই দেওয়া ও আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষকেরা।

গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লাখ আশি হাজার টাকা
                                  

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর বৃক্ষ মেলায় অংশ নিচ্ছে ৩০ টি স্টল। এর মধ্যে প্রত্যেকটা স্টলে বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন দামের গাছ বিক্রি হলেও ব্যতিক্রম শুধু একটি স্টলে। স্টলের নাম ‌ গ্রিনল্যান্ড নার্সারি। এর মালিক রোমিও সিংহ অভি। এই স্টলে একটা বনসাই বট গাছের মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ আশি হাজার টাকায়।

এ ব্যাপারে স্টলের মালিক রোমিও সিংহ অভি জানান এই গাছ তৈরি করতে অনেক দিন সময় লাগে। যথেষ্ট পরিচর্যা করতে হয়। তিনি বলেন এটা একটা শিল্প। এই গাছটির বয়স ৩২ বছর। উচ্চতায় মাত্র দুই ফুট। সারা বিশ্বে এ ধরনের গাছের প্রচন্ড চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশেও তা দিন দিন বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

বাইরে থেকে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বনসাই আমদানি করতে হচ্ছে সে কারণে প্রত্যেকটি গাছের দাম বাড়তি হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি আমাদের অনুদানের ব্যবস্থা করেন তাহলে আমরাই বিভিন্ন ধরনের বনসাই তৈরি করে বিশ্বের অপরাপর দেশে বিক্রি করতে পারব তাতে দেশের রাজস্ব আদায় হবে এবং বিদেশীরা আমাদের দেশের বনসাই ক্যাকটাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সম্বন্ধে জানতে পারবে।

এদিকে মেলার মূল কেন্দ্রবিন্দু এই গাছটিকে কেন্দ্র করে। মেলায় আগত বেশিরভাগ দর্শক এই গাছ টিকে এক নজর দেখার জন্য তার স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন।

সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মৃতপ্রায় ফসল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কয়েকটি দেশের একদল বিজ্ঞানী খনিজ সমৃদ্ধ, কম খরচের এবং সহজলভ্য সার— মানুষের ‘প্রস্রাব’ ব্যবহারে ফসলের উৎপাদনে চমকপ্রদ ফল পেয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করায় ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

আফ্রিকার দেশ নাইজার প্রজাতন্ত্রে সার হিসেবে প্রস্রাবের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এই ফল পাওয়া গেছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাইজার, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির গবেষকদের একটি দল পার্ল মিলেট প্যানিকল নামের এক ধরনের শস্যের ফলন বাড়াতে জৈব সারের সাথে মানুষের প্রস্রাবের মিশ্রণ ঘটিয়ে ‘ওগা’ নামের এই সার তৈরি করেন। পরে গ্রীষ্মকালীন পার্ল মিলেট চাষে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেন তারা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের প্রস্রাবে ইউরিয়া, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো একাধিক উপাদান রয়েছে। যা সঠিকভাবে ব্যবহারে ভালো ফল মিলতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে গবেষকদের ওই দল পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদে মানুষের প্রস্রাবের ব্যবহার শুরু করেন।

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে, তার তুলনায় মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করা জমিতে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন এই সার ব্যবহারকারী কৃষকদের মতে, এর একমাত্র খারাপ দিক হল দুর্গন্ধ। নাইজারের একজন কৃষক বলেছেন, একমাত্র সমস্যা হল ‘ওগা’ সারের দুর্গন্ধ ততটা ভালো নয়।

নাক এবং মুখ কাপড়ে ঢেকে এই সার ব্যবহারের সময় তিনি বলেন, ‘যখনই আমি জমিতে প্রস্রাব ব্যবহার করি, তখনই নিজের নাক-মুখ ঢেকে রাখি। তবে এটি বড় কোনও সমস্যা নয়।’

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। খরার কারণে দেশটির আবাদি জমিতে ফসল মরে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে মানুষের অনাহার-অর্ধাহার বাড়ছে।

এই সংকট দেশটিতে এতটা চরম আকার ধারণ করেছে যে, ২০১৪ সালে লোকজন চোরাই মার্কেট থেকে বিপজ্জনক কীটনাশক কিনে জমিতে ব্যবহার করে। এটি ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও বিকল্প ছিল না। তখন একদল বিজ্ঞানী নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প সারের উদ্যোগ নেন।

ফসলে সার হিসেবে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করার এই ধারণা অদ্ভূত শোনালেও হাজার বছর আগে পুষ্টির কারণে তা ব্যবহার হয়েছে।
মানুষের প্রস্রাবে ফসফরাস, নাইট্রোজেন এবং পটাসিয়াম রয়েছে, যা বাজারে পাওয়া বাণিজ্যিক সারেও পাওয়া যায়।

নাইজারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের বিজ্ঞানী হান্নাতো মুসার নেতৃত্বাধীন গবেষক দলটি প্রাচীন সভ্যতায় আবাদি জমিতে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহারের এই চর্চায় আধুনিক কিছু কৌশল যুক্ত করেছে।

দেশটির একদল নারীর সাথে কাজ করার সময় মুসা এবং তার দল সেখানকার কৃষকদের সঠিকভাবে প্রস্রাব স্যানিটাইজ এবং সংরক্ষণের উপায় শিখিয়েছেন। নাইজারের কৃষি শিল্পে নারীদের সংশ্লিষ্টতা বেশি। দেশটির প্রায় ৫২ শতাংশ কৃষি খামার নারীরা পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞানীরা ‘প্রস্রাব’ শব্দটি ঘিরে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ওগা’ রেখে কাজ শুরু করেছিলেন। পরীক্ষার পরবর্তী অংশে দেশটির বিভিন্ন এলাকার খামার দু’টি ভাগে বিভক্ত করেন তারা। এর একটিতে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিক সার এবং অন্যটিতে ‘ওগা’ ব্যবহার করা হয়।

এগ্রোনমি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘পরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োগে কৃষকদের রাজি করাতে গবেষক দলটি প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে ওগাকে জৈব বর্জ্য এবং গোবরের সাথে মেশাতে উত্সাহ দিয়েছিল।’

তারা বলেছেন, নাইজারে ২০১৪, ২০১৫, এবং ২০১৬ সালে যথাক্রমে ১৫৯, ২৮৮ এবং ১৩৪টি খামারে এই সারের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। খামার থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, যেসব খামারে ওগা ব্যবহার করা হয়েছিল, প্রচলিত খামারের তুলনায় সেসব খামারে গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি শস্য উৎপাদন হয়েছে।

এই ফল এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে নাইজারের ওই অঞ্চলের অন্যান্য নারী খামারিরাও ‘ওগা’ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার দুই বছর পর গবেষকরা দেখতে পান, নাইজারের এক হাজারেরও বেশি নারী কৃষক তাদের ফসলের সারে ‘ওগা’ ব্যবহার করছেন।

যেসব দেশে প্রস্রাব-ভিত্তিক সার পরীক্ষা করা হয়েছে, সেসব দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। চীন, ফ্রান্স এবং উগান্ডায়
এই সারের গ্রহণযোগ্যতার হার অনেক বেশি হলেও পর্তুগাল এবং জর্ডানে তা কম। প্রস্রাব সাধারণত কোনও রোগের প্রধান বাহক নয়। যে কারণে কৃষিতে ব্যবহারের জন্য এর ভারী প্রক্রিয়াকরণেরও প্রয়োজন হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই সার প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এটি পাস্তুরিত করাও সম্ভব।

গবেষকরা বলেছেন, সংগ্রহ করার পর প্রস্রাব ক্ষেতে নিয়ে যেতে হবে। তবে এই পদ্ধতি এখনও ব্যয়বহুল। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস এবং ঘনীভূত করা অথবা এমনকি ডিহাইড্রেট করাও সম্ভব।

বিরোধীরা আন্দোলনে নামলে পাল্টা আন্দোলন হবে: কৃষিমন্ত্রী
                                  

পাবনা প্রতিনিধি
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে। নির্বাচন নিয়ে যারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) বিদ্যালয় মাঠে লিচু মেলার উদ্বোধনকালে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। এরকম হুমকি তারা মাঝে মধ্যেই দিয়ে থাকে। এই আগামী ঈদের পর, আগামী পূজার পর, এরকম তারা মাঝে মধ্যেই দিয়ে থাকে। ইনশাআল্লাহ আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আমাদের পায়ের তলায় মাটি আছে। আমাদের সাথে জনগণ আছে। এই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই ইনশাআল্লাহ যারা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা পাল্টা আন্দোলনের যাবো।’ আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘আমরা সংবিধানের বাইরে কিছু বলি না।

নির্বাচন সরকার করবে না, নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশেই যেই নির্বাচিত সরকার থাকে তার অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আয়োজন করে। আমাদের দেশেও তাই হবে।’চালের বাজার নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গমের দাম যখন বাড়বে তখন চালের ওপরেও একটা প্রভাব পড়বে। এজন্য অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা চাল মজুদ করছে। সম্প্রতি একটা গোডাউনের ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে।

আর বছরের শুরুতেই প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ধান উৎপাদনে একটু সমস্যা হয়েছে। হাওড় এলাকায় অনেক ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছুটা উৎপাদন কম হয়েছে। কিন্তু সারা দেশে সার্বিকভাবে গত বছরের চেয়ে ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে। তাই আমার আশা ধানের দাম কমবে। ফলে চালের দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। আর মোটা চালের দাম বাড়বে না এটা প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি।

’লিচুর রাজধানী ঈশ্বরদীতে গবেষণাগার নিয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু লিচুর জন্য নয়, লিচু, পেয়ারা, বড়ই, আম সবকিছু নিয়ে আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছি, আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পারবেন। আমি আসছি এগুলোর জন্যই। আর ঈশ্বরদীর বিমানবন্দর চালু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।’ এর আগে দুুপুর দেড়টার দিকে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ার নওদাপাড়া গ্রামের একটি লিচুর বাগান পরিদর্শন করেন। দুপুর তিনটার দিকে বিএসআরআই বিদ্যালয় মাঠে লিচু মেলার উদ্বোধন করেন এবং মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

তপ্ত দিনে বিরামপুরে উঠেছে রসালো তালশাঁস
                                  

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর বাজারে উঠতে শুরু করেছে রসালো তালশাঁস। সুস্বাদু তালশাঁস খেতে বাজারে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন। গত বছরের চেয়ে এই বছর তালশাঁসের দাম অনেকটা বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতারা জানান, উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

রোববার (২৯মে) ১২টার দিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সামনে মোকসেদ নামে এক ব্যক্তি অল্প কিছু তাল নিয়ে বসে আছেন। মৌসুমের শুরুতে তাই অল্প তাল বাজারজাত করেছেন তিনি। তবে অল্প তালের ক্রেতা বেশি, তাই তাল কেটে শাঁস বেড় করতে ব্যস্ত তিনি। মোকসেদ বলেন, ‘এবার তালের ফলন অনেকটাই কম। গেলো বছর ৫০ থেকে ২৫০ টাকা দিয়ে তাল গাছ ক্রয় করতেন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমান গাছের দাম আগের মতোই আছে, কিন্তু ফলন অনেক কম। যার কারণে তালশাঁসের দাম বেশি। গত বছর প্রতিটি তাল শাঁস বিক্রি করেছিলাম ৫ থেকে ৬ টাকা পিচ। এ বছর বিক্রি করছি ৭ থেকে ৮ টাকা পিচ।‘

এক সময় গ্রামগঞ্জের মাঠে-ঘাটে আর রাস্তার পাশে দেখা যেতো তালের গাছ। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। আগের দিনে মানুষ তালের শাঁস কিনে খেতো কম, কেননা হাতের নাগালেই পাওয়া যেতো। এখন সেই তাল টাকার বিনিময়ে কিনে খেতে হচ্ছে।

কথা হয় তালশাঁস কিনতে আসা রফিকুল এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তালের শাঁস স্বাদে ভরা। আমার পরিবারের সবার পছন্দ, তাই তালশাঁস কিনতে এসেছি। দাম অনেক বেশি, পরিবারের জন্য ১০টির অর্ডার দিয়েছি। ’অপর ক্রেতা সোহেল বলেন, ‘অন্যান্য ফলের চেয়ে তালশাঁসের স্বাদ আলাদা। প্রতি বছর তাল উঠলে আমি প্রতিদিন ৩থেকে ৫টা করে তালশাঁস খেয়ে থাকি।’

তাল ব্যবসায়ী মোকসেদ বলেন, ‘তিলকপুর থেকে তাল নিয়ে বিরামপুর বাজারে এসেছি। প্রায় ১০ বছর ধরে এই তালশাঁসের ব্যবসা করছি। গত কয়েক বছর ধরে বিরামপুর বিভিন্ন স্থানে তালশাঁস বিক্রি করি। মৌসুমি ফল তালশাঁস আজ প্রথম বিরামপুরে আনলাম। বেশি আনিনি, অল্প করে এনেছি। সবাই কেনার জন্য আসছে, তবে দাম বেশি হওয়াতে কম করে নিচ্ছে সবাই।’


   Page 1 of 8
     কৃষি
আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন রায়গঞ্জের কৃষকেরা
.............................................................................................
গ্রীষ্মকালীন পিয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষক
.............................................................................................
বৃষ্টি নেই, দুশ্চিন্তায় পাটচাষীরা
.............................................................................................
ভেড়ামারায় জি-কে সেচ প্রকল্পের ৩ পাম্পের দু’টিই বিকল, চাষিরা বিপাকে
.............................................................................................
বকুল বেগমকে সাবলম্বীর পথ দেখালো তার অদম্য শ্রম
.............................................................................................
আলু নিয়ে বিপাকে জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
আগাম সবজি চাষ লাভজনক
.............................................................................................
গম ও ভুট্টা চাষে কৃষকরা পাবেন হাজার কোটির ঋণ
.............................................................................................
শাহজাদপুরে আউশ ধানের বাম্পার ফলনে চাষীদের মুখে হাসি
.............................................................................................
মধুখালীতে কাঁচামরিচ ৮হাজার টাকা মণ
.............................................................................................
দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা
.............................................................................................
আমন চারা রোপনে মাঠে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কৃষকরা
.............................................................................................
গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লাখ আশি হাজার টাকা
.............................................................................................
সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
.............................................................................................
বিরোধীরা আন্দোলনে নামলে পাল্টা আন্দোলন হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
তপ্ত দিনে বিরামপুরে উঠেছে রসালো তালশাঁস
.............................................................................................
যশোরে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছে না চাষিরা
.............................................................................................
বোরো ধানের ফলনে হাসলেও দামে হতাশ আনোয়ারার কৃষকেরা
.............................................................................................
মিঠাপুকুরে বোরো ধান পানিতে, শ্রমিক সংকট চরমে
.............................................................................................
আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ
.............................................................................................
ধান ও সয়াবিন নিয়ে শঙ্কায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
কুমিল্লার লালমাইয়ে কচুর বাম্পার ফলনে স্বস্তিতে কৃষকরা
.............................................................................................
গোলায় ধান তোলার অপেক্ষায় চৌহালীর কৃষক
.............................................................................................
এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক
.............................................................................................
কালবৈশাখীর প্রভাব: বোরোধান ঘরে তুলতে ব্যয় দ্বিগুণ
.............................................................................................
কুমিল্লার হলুদ তরমুজ দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি
.............................................................................................
ভালুকায় কৃষকদের মাথায় হাত
.............................................................................................
বগুড়ায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু
.............................................................................................
কৃষক থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ শুরু
.............................................................................................
তরুণদের কৃষিতে টানতে গঠন হচ্ছে ‘উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’
.............................................................................................
জয়পুরহাটে সবজি চাষ করে সফল মনোয়ারা বেগম
.............................................................................................
লোকসানের মুখে চাষিরা, সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ
.............................................................................................
কৃষি ও খাদ্য পণ্য উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব
.............................................................................................
জোয়ারের পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন!
.............................................................................................
বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন!
.............................................................................................
দেশে ৩শ’ কেজি ওজনের পাঙ্গাশ চাষ
.............................................................................................
লোকাসানে সাঁথিয়ার পেঁয়াজ চাষি : উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল কম
.............................................................................................
স্বস্তির বৃষ্টিতে স্বস্তি আম চাষিদের
.............................................................................................
সিলেটে কাপড়ের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি
.............................................................................................
পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
.............................................................................................
মালবেরিতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে সোহেল রানা
.............................................................................................
চোখ জুড়ানো ফসলের মাঠ; তবুও পানির অভাবে কৃষকের কান্না
.............................................................................................
অসময়ে বৃষ্টির কারণে আম নিয়ে শঙ্কায় চাষীরা
.............................................................................................
সূর্যমুখীর হাসি তাহেরের মুখে
.............................................................................................
বারোমাসি কাটিমন চাষে স্বাবলম্বী বাবুল
.............................................................................................
সফল আপেল কুল চাষী আকরাম
.............................................................................................
বিরামপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
পাবনায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
.............................................................................................
‘বারি হাইব্রীড-৪’ বেগুন চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
.............................................................................................
কুল চাষে সফলতা পেলেন আলী আকবর
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT