শুক্রবার, ২২ অক্টোবর 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর করোনায় মৃত্যু পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার :
মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন কিন্তু সন্তান জন্ম দেয়ার পর নিজ সন্তানদের বুকে আগলে রেখে আদর করার সুযোগ জুটেনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা শাম্মির। যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ৮ দিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন শাম্মি। আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) ঢাকার একটি ক্লিনিকে ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শারমিন সুলতানা শাম্মি পাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি পাবনা শহরের পৌর এলাকার কলাবাগান মহল্লার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

জানা গেছে, শারমিন শাম্মি করোনা পজিটিভ ছিলেন। গত ১৩ জুলাই সকালে আট মাসেরে অন্তঃসত্বা অবস্থায় করোনার উপসর্গ নিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তির হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। পরে ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খুঁজে না পেয়ে তাঁকে রাজারবাগের প্রশান্তি ক্লিনিকের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।

এসময় চিকিৎসকরা গত ১৫ জুলাই তাঁর সিজার করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সিজারে শাম্মি যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেন। জন্মের পর থেকে বাচ্চা দুটিকে এনআইসিইউতে রাখা হয়। পরে শাম্মির শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাঁকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় আজ শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে শাম্মির মৃত্যুতে শাম্মির পরিবার ও পাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন পাবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ড. রোস্তম আলী, কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ার পারভেজ খসরু প্রমুখ।

যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর করোনায় মৃত্যু পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর
                                  

স্টাফ রিপোর্টার :
মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করেছেন কিন্তু সন্তান জন্ম দেয়ার পর নিজ সন্তানদের বুকে আগলে রেখে আদর করার সুযোগ জুটেনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা শাম্মির। যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র ৮ দিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন শাম্মি। আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) ঢাকার একটি ক্লিনিকে ওই শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শারমিন সুলতানা শাম্মি পাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি পাবনা শহরের পৌর এলাকার কলাবাগান মহল্লার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

জানা গেছে, শারমিন শাম্মি করোনা পজিটিভ ছিলেন। গত ১৩ জুলাই সকালে আট মাসেরে অন্তঃসত্বা অবস্থায় করোনার উপসর্গ নিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তির হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। পরে ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ খুঁজে না পেয়ে তাঁকে রাজারবাগের প্রশান্তি ক্লিনিকের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।

এসময় চিকিৎসকরা গত ১৫ জুলাই তাঁর সিজার করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সিজারে শাম্মি যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেন। জন্মের পর থেকে বাচ্চা দুটিকে এনআইসিইউতে রাখা হয়। পরে শাম্মির শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাঁকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় আজ শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে শাম্মির মৃত্যুতে শাম্মির পরিবার ও পাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন পাবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর ড. রোস্তম আলী, কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ার পারভেজ খসরু প্রমুখ।

ফরিদপুর হাসপাতালে ১০ মিনিটে ৪ রোগীর মৃত্যু!
                                  

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৪ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতালের আইসিইউতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহে বিঘœ ঘটায় অক্সিজেনের অভাবে এদের মৃত্যু হয় জানা যায়। যে ৪ জন মারা গেছেন তাদের অবস্থা আগ থেকেই গুরুতর ছিলো।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন রিফিল করার সময় অক্সিজেনের চাপ কমিয়ে রাখা হয়। এ সময় অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ৪ জন রোগী মারা যান।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. অনন্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় অক্সিজেন কমে গেলে নতুন করে অক্সিজেন ঢোকাতে হয়। এজন্য কিছু সময় নেয়। নতুন করে অক্সিজেন প্রবেশের সময় চাপ বেড়ে যেতে পারে এজন্য কমিয়ে নেয়া হয়।

অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল ৭টার দিকে (শুক্রবার) অক্সিজেন রিফিল করা হয়েছে। তবে তারা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাননি।

এদিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে চারজন রোগীর মৃত্যুর খবরে সেখানে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনার আরও ২২ জনের মৃত্যু
                                  

খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নয়জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটজন, জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুইজন ও আবু নাসের হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯৩ জন। যার মধ্যে রেড জোনে ১২৯ জন, ইয়ালো জোনে ২৫ জন, আইসিইউতে ১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫১ জন।

শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- খুলনার ডুমুরিয়ার আবুল বাশার মোল্লা (৪৬), বটিয়াঘাটার রিজিয়া বেগম (৬৫) ও ঝিনাইদহ কালিগঞ্জের সিরাজুল ইসলাম (৬৫)। এছাড়া হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪৫ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন ৪৩ জন। তার মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে ১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন চারজন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন একজন।

জেনারেল হাসপাতালের ৮০ শয্যার করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- খুলনার রূপসার বাগমারার আনসার শেখ (৬০) ও দিঘলিয়ার উত্তর চন্দনীমহলের আমেনা বেগম (৮০)। এছাড়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮ জন, তার মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ৩৫ জন নারী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ জন।

গাজী মেডিকেল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- নগরীর টুটপাড়ার আব্দুল কাদের (৬১), খুলনার রূপসার শামিমা আক্তার (৫০), বাগেরহাটের ফকিরহাটের সুভাস দত্ত (৬১), যশোর সদরের সুজনপুরের নূর জাহান (৭৫), নড়াইলের কালিয়ার বাকা এলাকার নাসিমা বেগম (৫৬), চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বাজারের আব্দুর রশিদ (৪৫), পিরোজপুর নাজিরপুরের সাকিনা বেগম (৬৫) ও যশোর সদরের বেজপাড়ার দুলাল চন্দ্র ঘোষ (৬৫)।

বেসরকারি এ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১২৪ জন। এরমধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ৯ জন ও এইচডিইউতে আছেন ১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২১ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। পিসিআর ল্যাবে ৬২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৪ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল: ৪ আইসিইউ বেডের দু’টি অকেজো, সর্বত্র অব্যবস্থাপনা
                                  

সিরাজগঞ্জ পতিনিধি :
করোনা রোগী ও তাদের স্বজনদের অবাধ যাতায়াতে উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলছে হাসপাতালের স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে। বাধা দিলেও মানছেন না রোগী ও তাদের স্বজনরা। এমন দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাদের এই অবাধ যাতায়াত ও অসচেতনতার কারণে সংশ্লিষ্টরা ভয়াবহ অবস্থায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার  (৭ জুলাই) জেলার একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি এই ইউনিটে দায়িত্বরত স্টাফরা বলছেন জনবল সংকটের কথা। অন্যদিকে হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউর সংকটে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না হাসপাতালটিতে। হাসপাতালে চারটি আইসিইউ বেড থাকলেও এর দুটিই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। যে দুটি বেড সচল আছে তাও লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকায় কাজে আসছে না।

বুধবার (৭ জুলাই)  সকালে হাসপাতালে ঢুকতেই দেখা গেল বিভিন্ন জায়গায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দাঁড়িয়ে বা বসে আছেন। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন মুখের নিচে। লিফটে দেখা যায়, হাসপাতালের ভর্তি হওয়া রোগীর এর মধ্যে একজন করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগী। তিনি মাস্ক পরলেও মুখ খোলা রেখে নামিয়ে রেখেছেন থুতনির নিচে। নারী ইউনিটের ভেতরে যেতেই দেখা গেল, রোগীর পাশেই স্বজনরা বসে আছেন মাস্ক না পরেই। শুধু তাই নয়, এরা রোগীর কাছে আসা যাওয়া করছেন ইচ্ছা মতো। মানছেন না কোনো নিয়ম নীতি। বারান্দায়ও দেখা গেল আরও কয়েকজন করোনা রোগীকে। জানতে চাইলে তারা বলেন, সারাদিন শুয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে না।

করোনা ইউনিটে দায়িত্বরত নার্স রহিমা খাতুন বলেন,  এখানে ১৬ জন করোনা রোগী ও ৯ জন করোনার উপসর্গ ভর্তি আছেন। এর বিপরীতে চার জন ডাক্তার, চার জন নার্স ও ছয় জন ওয়ার্ডবয় কাজ করছেন। আরও বেশি জনবল দরকার। এছাড়া গুরুতর রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

ওয়ার্ড বয় রাজু বলেন, আমরা গত ছয় মাস হলো কোনো বেতন পাই না। শুধু ঈদের আগে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে চারটি আইসিইউ বেড থাকলেও দু’টি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ব্যবহার উপযোগী দু’টি বেডও লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকায় এবং অন্য রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করায় করোনা রোগীরা পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় করোনা রোগীরা ইচ্ছা মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্যরা। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গর্ভবতী রোগীরা পড়েছেন মহা বিপদে। ডেলিভারির সময় হলেও রোগী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এই হাসপাতালে করা হচ্ছে না অপারেশন, বলা হয়েছে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে। এমন অভিযোগ করেছেন তাড়াশ এলাকার রোগী শামিমা খাতুনের স্বামী। প্রতিবেদককে তিনি জানান, এখানে স্ত্রীর অপারেশনের অনুমতিও পাচ্ছেন না তিনি।

নারী ইউনিটে রোগীর একজন স্বজনকে মাস্ক ছাড়াই বসে থাকতে দেখা গেল রোগীর পাশে। কাজীপুর থেকে আসা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। তবে জানান, তিনি একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। মাস্ক না পরে থাকা ঠিক হয়নি বলেও জানান তিনি। তার মতে, হাসপাতালে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলে রোগী ও স্বজনদের এই অবাধ যাতায়াত ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ হয়ে যেত।

হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ জেবুন্নাহার বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ১৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৬৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মারা গেছেন দু’জন। এছাড়া অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে তিন জনকে। তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জে গত বছরের ২৬ আগস্ট প্রথমে বাগবাটি ৩০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু হয়। সেখানে ৬৪ জন চিকিৎসা নেওয়ার পর এই হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

কর্তব্যরত ডাক্তাররা সাংবাদিকদের জানান, কোভিড-১৯ রোগীদের বাইরে বের হতে নিষেধ করলে তারা স্টাফদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এছাড়া স্বজনসহ সবার যাতায়াতে একটা নিয়ম করে দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, এখানে একটা লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে। এটা সম্পন্ন হলে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যাবে ও সমস্যা কেটে যাবে। জনবল সংকটের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, এসব সমস্যা কেটে যাবে।

যেহেতু করোনাক্রান্তদের জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা নেই। তাই করোনা হাসপাতাল হিসেবে এটা কতটা কাজ করতে পারছে ও সামনে আরও খারাপ অবস্থা হলে কী হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর রোগীদের এই হাসপাতালে খুব বেশি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নেই।

সিরাজগঞ্জ জেলার স্বার্থ রক্ষা কমিটির অন্যতম নেতা নবকুমার কর্মকার বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসার সামগ্রী থাকলেও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে এমনকি প্যারাসিটামল ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। এ সময় স্টোর কিপার মোঃ আফসার আলী বিষয়টি স্বীকার করেন আমাদের প্যারাসিটামল সংকট রয়েছে।  

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালর তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি।

করোনা : রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৯ জনের মৃত্যু
                                  

রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীতে আবারও বাড়লো করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ১৯ জন। গতকাল সোমবার (৫ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত এদের মৃত্যু হয়।

মৃতদের মধ্যে রাজশাহী জেলারই ১০ জন রোগী রয়েছেন। এছাড়া একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার, নাটোর জেলার দু’জন, নওগাঁ জেলার দু’জন, পাবনা জেলার একজন, কুষ্টিয়া জেলার একজন, চুয়াডাঙ্গা জেলার একজন ও জয়পুরহাট জেলার একজন রোগী ছিলেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৯ জনের মধ্যে চারজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর ১৫ জন ভর্তি ছিলেন উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।  

রামেক হাসপাতালে এ ছয় দিনে মোট ১০০ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত জুনে ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগী ছিলেন ১৮৯ জন। অন্যরা করোনা উপসর্গ নিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬ জন নতুন রোগী রামেক হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৪৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাতজন, নাটোরের পাঁচজন, নওগাঁর চারজন, পাবনা জেলার নয়জন, চুয়াডাঙ্গা জেলার দু’জন, বগুড়ার দু’জন, খুলনার একজন ও লালমনিরহাটের একজন নতুন রোগী রয়েছেন। বর্তমানে ৪৮৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে রামেক হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত শয্যা সংখ্যা ৪০৫টি।

এদিকে সোমবার (৫ জুলাই) রাজশাহীর দু’টি পিসিআর ল্যাবে মোট ৭৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২০১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার রাজশাহী জেলায় প্রায় দুই সপ্তাহ পর আজ ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ থেকে কমে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে আরও কমে ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশে এসেছে।

বগুড়ায় হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৭ জনের মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১১
                                  

বগুড়া প্রতিনিধি :
করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বগুড়া সরকারী মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অক্সিজেনের অভাবে ১৩ ঘন্টার ব্যবধানে ৭ জন রোগী মারা গেছেন। চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩ ঘন্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে অরো ১০জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাপসাতাল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আরো ৪ জন মারা গেছেন। একই সময়ে জেলায় নতুন করে ১০০ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছেন।
 
সরকারী মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০ শয্যার ওই হাসপাতালে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২২৩জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যাদের অধিকাংশেরই উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালটিতে বর্তমানে মাত্র দুথটি হাইফ্লো ন্যাজাল  ক্যানোলা থাকায় দুথজনের অতিরিক্ত কোন রোগীকে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন (রক্তে ঘনীভুত অক্সিজেনের মাত্রা) ৮৭ এর নিচে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

২৫০শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে ২০২০ সালের মার্চের শেষ দিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য  প্রস্তুত  করা হয়। তখন সেখানে সিলিন্ডার দিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেন দেওয়া হতো। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়লে একই বছরের জুনের শেষ দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের সুবিধাযুক্ত ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়। পরবর্তীতে শজিমেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩টি আইসিইউসহ ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সেখানেও রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের এপ্রিলে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু করা হয়।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিক আমিন কাজল  জানান, হাসপাতালটিতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু হলেও সবগুলো শয্যায় উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা এখনও যুক্ত  হয়নি। এমনকি ৮ শয্যা নিয়ে চালু করা আইসিইউ ইউনিটেরও মাত্র ২টিতে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা রয়েছে। ফলে পুরো হাসপাতালের মধ্যে আইসিইউ ইউনিটের ওই দুটি শয্যায় কেবল উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন সররবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এর বাইরে ভর্তি দুই শতাধিক রোগীকে হয় ফেস্ক মাস্ক অথবা রিব্রিদার মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হচ্ছে। ডাঃ কাজল বলেন, ফেস্ক মাস্ক দিয়ে একজন করোনা রোগীকে প্রতি মিনিটে মাত্র ৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। অন্যদিকে রিব্রিদার মাস্ক দিয়ে প্রতি মিনিটে ১৫ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। আর হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে একজন রোগীকে প্রতি মিনিটে ৬০ লিটার অক্সিজেন দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ এর উপরে কেবল তাদের ফেস মাস্ক দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করে  সুস্থ্য করে  তোলা সম্ভব। আর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ এর নিচে কিন্তু ৮৭ এর ওপরে তাদের রিব্রিদার মাস্ক দিয়েও সুস্থ্য করে তোলা যায়। তবে যাদের অক্সিজেনের মাত্রা ৮৭-এর নিচে তাদের জন্য অবশ্যই উচ্চ মাত্রার অর্থাৎ হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাযুক্ত অক্সিজেন প্রয়োজন। তাছাড়া তাদের বাঁচানো কঠিন।

২০০ শয্যার ওই হাসপাতালে শুক্রবার সকালে ২২৩জন রোগী ভর্তির তথ্য দিয়ে  বলেন, ‘আমাদের এই হাসপাতালে এখন যেসব রোগী আসছেন তাদের বেশিরভাগেরই অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৬০ থেকে ৭২-এর মধ্যে। তাদের হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হাসপাতালে শুধু আইসিইউ ইউনিটের দু’টি শয্যায় ওই ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে দু’শতাধিক রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অক্সিজেন সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩ ঘন্টায় ৭জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ১০জনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায়  শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতালেচিকিৎসাধীন আরো ৪জন  মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মারা যাওয়া ১১জনের নাম পরিচয় জানাতে পারেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এছাড়া  জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৩৮০ নমুনার ফলাফলে নতুন করে ১০০জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তের হার ২৬দশমিক ৩১শতাংশ। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৩জন। নতুন আক্রান্ত  ১০০জনের মধ্যে সদরের ৬৪ জন, সোনাতলায় ১১জন, শিবগঞ্জে ২জন, আদমদীঘি ২জন, দুপচাঁচিয়ায় ৩জন, কাহালুতে ৪জন, ধুনটে ৫জন, গাবতলীতে ৩জন এবং শাজাহানপুরে ৬জন  রয়েছেন।

শুক্রবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে  এসব তথ্য জানান বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাজ্জাদ-উল-হক। তিনি জানান, গতকাল শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৩৫টি নমুনায় ৫৯ জনের, জিন এক্সপার্ট মেশিনে ৪ নমুনায় সবার নেগেটিভ  এবং এন্টিজেন পরীক্ষায় ১১৬ নমুনায় ২৫ জনের পজিটিভ এসেছে। এছাড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৫নমুনায় ১৬জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।  তিনি আরও জানান, এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত  ১৪হাজার ৭৩জন মোট মৃত্যু ৪১০ জন  এবং চিকিৎসাধীন ৯১৫ জন।

মৌলভীবাজারে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ২
                                  

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) ভোরে মৌলভীবাজার-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কদুপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এসময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ট্রাক যাত্রী মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক আব্দুল মুহিত সবুজ ও জুড়ী উপজেলার কোনাগাঁও গ্রামের মো: রফিকউদ্দিন।

এসময় গাড়িতে থাকা অপর দুজনকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠান।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
আগামী কয়েক মাসে পুরো বিশ্বেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০টি দেশে এই ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট ভারতীয় ধরন হিসেবেও পরিচিত। দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। খবর এনডিটিভি।

গত ২৯ জুন প্রকাশিত করোনার সাপ্তাহিক রিপোর্টে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৯৬টি দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব মিললেও প্রকৃত সংখ্যা ১শ’র উপরে হওয়ার কথা। কারণ ভাইরাসের ধরন চিহ্নিতকরণের জন্য যে পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তা অনেক দেশেই নেই। ফলে আসল সংখ্যা সামনে আসছে না।

সম্প্রতি বেশকিছু দেশে দৈনিক সংক্রমণ বেড়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোভিড আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর সামনে আসছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জন্যই এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ রুখতে বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক পরা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রস আধানম ঘেব্রিয়েসুস। করোনা মহামারির শুরু থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ডেল্টাই এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট। যেসব জায়গায় টিকা দেয়ার হার কম, সেখানে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার এই অতি সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক মাসে করোনার অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টকে ছাড়িয়ে যাবে ডেল্টা। সংস্থাটির প্রধান তেদ্রস আধানম ঘেব্রিয়েসুস বলেন, ‘আমি জানি যে বিশ্বজুড়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে অনেক বেশি উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন পর্যন্ত পাওয়া করোনার ধরনগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি সংক্রামক।’

অনেক দেশেই জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ শিথিল করার কারণে বিশ্বে সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলফা ভ্যারিয়েন্ট ১৭২টি দেশ ও অঞ্চলে, বিটা ১২০টি দেশে, গামা ৭২টি দেশে এবং ডেল্টা ৯৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ২১ থেকে ২৭ জুনের মধ্যে ব্রাজিলে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ২৯৮, ভারতে ৩ লাখ ৫১ হাজার ২১৮, কলম্বিয়ায় ২ লাখ ৪ হাজার ১৩২, রাশিয়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৫ এবং আর্জেন্টিনায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৪।

চীনের দ্বিতীয় টিকাও ডব্লিউএইচওর অনুমোদন পেল
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
চীনের সিনোফার্মের তৈরি বিবিআইবিপি-করভি’র পর এবার সিনোভ্যাক বায়োটেক কোম্পানির ‘কোরোনাভ্যাক’ কোভিড টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিভিন্ন দেশে এই টিকার তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে টিকাটি ৫১ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে বলে এর আগে এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে জানিয়েছিল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ডব্লিউএইচও’র ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ’ (এসএজিই)।

ডব্লিউএইচও চীনের সিনোভ্যাকের এই টিকাকে কোভ্যাক্স প্রোগ্রামের আওতায়ও আনবে। মূলত গরিব দেশগুলোর টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্স নামের এই প্ল্যাটফার্ম গড়ে তোলা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও মঙ্গলবার টিকাটি অনুমোদন করার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে চীনের উৎপাদিত করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেল। খবর বিবিসির।

বিশেষজ্ঞদের প্যানেল ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সিনোভ্যাকের এই টিকার দুই ডোজ সুপারিশ করেছে। দুই থেকে চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার মানে হল, বিশ্বের দেশগুলো এ টিকার মান ও কার্যকারিতায় আস্থা রাখতে পারে।

ডব্লিউএইচও এর আগে ফাইজার-বায়োএনটেক, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং মডার্নার টিকাও জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল।

কিন্তু ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ রাখায় গরিব দেশগুলো টিকার পুরো চালান সময়মত পাচ্ছে না। যার কারণে অন্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে হচ্ছে বিভিন্ন দেশকে।

চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক কোম্পানি জানিয়েছে, তারা মে মাসের শেষ নাগাদ দেশে-বিদেশে এই টিকার ৬০ কোটিরও বেশি ডোজ সরবরাহ করেবে এবং ৪৩ কোটি ডোজ এরই মধ্যে মানুষকে দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএইচও মঙ্গলবার চীনের সিনোভ্যাকের তৈরি কোভিড টিকা অনুমোদন করলেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে আগে থেকেই এ টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
মহামারী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত তামাম দুনিয়া। বিশ্বে উন্নত দেশগুলো করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিকল্প আরও প্রতেষধক আবিষ্কারে মরিয়া বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাসের কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কার ও ব্যাপকভাবে বিপণনের জন্য রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন পৃথিবীর নামীদামী কোম্পানীগুলো। বাংলাদেশও কম যায়নি। বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞরাও প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিকারের উপায় বের করতে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দেশের একদল উদ্যমী চিকিৎসক করোনা প্রতিরোধী স্প্রে আবিষ্কার করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিআরআইসিএম- এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে করোনা প্রতিরোধী ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবনে তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা মহামারির শুরু থেকে সারাদেশের সকল চিকিৎসকসহ সর্বস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একদল অনুসন্ধিৎসু চিকিৎসক করোনা প্রতিরোধের উপায় অন্বেষণে ব্রতী হয়।

গবেষণার ধারণা, প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোস্তফা কামাল আরেফিন। যখন করোনা আতঙ্কে সবাই দিশেহারা, সমস্ত কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, উদ্যমী এই চিকিৎসক নিজের জীবনের মায়া উপেক্ষা করে আত্মনিয়োগ করেছেন গবেষণায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল  এ কে এম নাসির উদ্দিনের তত্বাবধানে নাক, কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমি ও ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সুলতানা সাহানা বানু-এর সহায়তায় একঝাঁক নিবেদিত অনুসন্ধানী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ গবেষণা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস্ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যৌথ বিজ্ঞানী-চিকিৎসক দল, ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’র বিষয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ সকলের উৎসাহে অনুপ্রাণিত, এ জন্য তাদের প্রতি সবিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দেশবাসীসহ সকলের উৎসাহ ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’ উন্নয়ন ও সফল প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের বাকি কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আর বলা হয়, বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এর মহাপরিচালক, ড. মালা খান বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত করেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে, বিজ্ঞানীদল (মোঃ মনিরুজ্জামান, মাহমুদুল হাসান রাজু, সাবিহা কামাল, সাদ আল রেজওয়ান রহমান এবং নয়ন কুমার কুন্ডু) এ গবেষণালব্ধ পণ্য (ওরো-ন্যাজাল স্প্রে)টির  গুণগত মান, স্ট্যাবিলিটি, নিরাপদ ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিআরআইসিএম কর্তৃক এই গবেষণা প্রকল্পের যাবতীয় ব্যয়ের প্রয়োজনীয় সমুদয় অর্থের সংস্থান করা হয়েছে। বিআরআইসিএম জনকল্যাণকর এই ওরো-ন্যাজাল স্প্রে অলাভজনক হিসেবে অর্থাৎ বিনা লাভে (উৎপাদন খরচে) জনগণের হাতে পোঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ ছাড়া নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে গবেষণাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন ডাঃ মোঃ শাহরিয়ার আরাফাত, ডাঃ পার্থ প্রতিম দাস, ডাঃ জোবায়ের আনাম চৌধুরী, ডাঃ গাউসুল আজম, ডাঃ ইসমে আযম, ড. আহসানুল কায়সার এবং ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলামসহ আরো অনেকেই।

গবেষণা প্রটোকলটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে (রেজি. নং: ৩৮৬২৪০১২০২১) এবং বিএমআরসির ইথিক্যাল কমিটির ছাড়পত্র প্রাপ্তির প্রেক্ষিতে বৃহত্তর পরিসরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে বিএমআরসির অনুমোদিত প্রটোকল অনুসারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। গত ১৮ মে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্ট বিএমআরসিতে জমা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডাঃ আ. ফ. ম. রুহুল হক, এমপি, ডাঃ হাবিবে মিল্লাত, এমপিসহ সকল সংসদ সদস্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বি এম খুরশীদ আলম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক ও বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ খান আবুল কালাম আজাদ ও অধ্যাপক ডাঃ মোঃ টিটু মিয়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম নাজমুল হক, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ এবং কুয়েত বাংলাদেশ মৈতী সরকারী হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সারোয়ার খান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

‘টিকা দেওয়া মারাত্মক ভুল, এতে শক্তি বাড়ছে কোভিডের’
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
ফ্রান্সের প্রবীণ নোবেলেজয়ী ভাইরোলজিস্ট লুক মন্টেনিয়র বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, কোনও ভ্যাকসিন ভাইরাসকে আটকে রাখতে পারে না। বরং তা ভাইরাসকে আরও শক্তিশালী করে। এরআগে, তিনি দাবি করেছিলেন, করোনাভাইরাস মনুষ্যসৃষ্ট এবং তা ল্যাবরেটারিতে তৈরি করা হয়েছে।

লুক মন্টেনিয়র এমন সময় এ দাবি করলেন যখন পুরো বিশ্ব করোনাভাইরাসের টিকা আবিস্কার এবং টিকা গ্রহণে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে বিশ্বের তাবত গবেষকদের অধিকাংশই মনে করেন, করোনাভাইরাসকে (কোভিড-১৯) রুখে দেওয়ার প্রথম ও একমাত্র উপায় টিকা নেওয়া।

এদিকে পৃথিবীর নামীদামি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার ও উৎপাদনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যে টিকাগুলো ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষকে দেওয়ার চেষ্টার ত্রুটি করছে না বিভিন্ন দেশের সরকারও। কিন্তু এসবের মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ফ্রান্সের প্রবীণ নোবেলেজয়ী ভাইরোলজিস্ট লুক মন্টেনিয়র, যা রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানী মহলে।

লুক মন্টেনিয়র মনে করছেন, বেশি বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার ফলে আসলে হীতে বিপরীত হচ্ছে। কারণ, কোনও ভ্যাকসিন ভাইরাসকে আটকে রাখতে পারে না। বরং তা ভাইরাসকে আরও শক্তিশালী করে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মন্টেনিয়র দাবি করেন, মহামারি সংক্রান্ত গবেষকরা সবটাই জানেন কিন্তু তবু তারা চুপ রয়েছেন। নোবেলজয়ী ওই ভাইরোলজিস্ট বলেন, কোনও টিকা ভাইরাসকে আটকায় না বরং আরও শক্তিশালী করে। ভ্যাকসিনেশনের ফলে করোনার নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হচ্ছে, তা আগের থেকেও শক্তিশালী।

ফরাসি ওই গবেষক বলছেন, টিকাকরণ হওয়ার ফলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা করোনাকে হয় অভিযোজন করতে, নয়তো মারা যেতে বাধ্য করে। তখনই অভিযোজনের ফলে এই ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হয়ে যায়।

মন্টেনিয়র বলেন, এটা চিকিৎসা বিজ্ঞানের বড়সড় ভুল, যা এখন হয়তো কেউ স্বীকার করছেন না। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে তা লেখা হবে।

বস্তুত, করোনার প্রথম ঢেউ যখন অনেকটাই স্তিমিত, তখনই বিশ্বের বহু দেশে টিকাকরণ শুরু হয়। এর পরপরই আশ্চর্যজনকভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে এবং মারণ এই ভাইরাসটির নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হচ্ছে, যা আগের থেকে অনেক শক্তিশালী। তাই অনেকেই মনে করছেন মন্টেনিয়রের দেওয়া তত্ত্ব একেবারে ফেলনা নয়। আবার অনেকে মনে করছেন, এটা নেহাতই আর পাঁচটা ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের মতো। কোনও গবেষণায় এই তত্ত্বের ভিত্তি নেই।

পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
প্রাণঘাতী করোনার ভয়াবহতার করোনাকালে সবার ঘরেই পালস অক্সিমিটার রাখা জরুরি। যেকোনো সময় শরীরের অক্সিজেন লেভেল কমে যেতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপের জন্য পালস অক্সিমিটারের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আছে কয়েকটি নিয়ম।

করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ওঠা-নামার উপর নির্ভর করেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪ এর নিচে নামলে দ্রুত হাসপাতালে নিবে হবে করোনা রোগীদের।

বর্তমানে হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকায় কম লক্ষণযুক্ত করোনা রোগীদেরকে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে চিকিৎসকরা। এ সময় পালস অক্সিমিটার ব্যবহার করবেন কীভাবে তা জেনে নিন-

* নখে নেলপালিশ থাকলে শুরুতেই তা মুছে ফেলতে হবে।

* বেশি লাইট বা রোদেরে মধ্যে পালস অক্সিমিটার ব্যবহার করলে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে না।

* পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের সময় হাতের আঙুল ঠান্ডা থাকলে, তা ঘষে গরম করতে হবে।

* পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের আগে ৫ মিনিট বিশ্রাম নিন।


* এরপর পালস অক্সিমিটার এর সুইচ অন করে, সেটিকে আঙুলের ডগায় রাখুন।

* প্রথমে পালস অক্সিমিটারের স্ক্রিনে কিছু সংখ্যা উঠবে। সঠিক পরিমাপের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। যতক্ষণ না মিটারের সংখ্যা স্থির হচ্ছে; ততক্ষণ অপেক্ষা করুন।

* অন্তত ৫ সেকেন্ড রিডিং স্থির থাকলে সর্বোচ্চ সংখ্যাটি লিখে নিন।

* পালস অক্সিমিটার ব্যবহারে প্রতিবার মিটারে নজর রাখুন।

* বেসলাইন থেকে রেকর্ড করা শুরু করুন। দিনে তিন বার মাপুন।

* রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ৯৪ এর উপরে থাকলে ভালো যদি থাকে, তাহলে ৪-৫টি বালিশে মাথা রেখে পেটের উপর ভর দিয়ে শোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

করোনা রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ যেন কখনই ৯৪ শতাংশের কম না হয়।

এ ছাড়াও করোনা রোগীদের ৬ মিনিট হাঁটার আগে ও পরে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। হাঁটার আগে ও পরের পরিমাপে ৪ শতাংশের বেশি পার্থক্য থাকলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: পিস হেলথ

করোনার ভারতীয় ধরন নিষ্ক্রিয় করতে পারে কোভ্যাক্সিন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) সঙ্গে মিলে কোভ্যাক্সিন টিকা তৈরি করেছে ভারত বায়োটেক এর টিকা করোনার ভারতীয় ধরনটিকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।

গত ৩ জানুয়ারি ভারতে জরুরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। আইসিএমআর বলছে, এই টিকার কার্যকারিতা ৭৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যান্থনি ফাউসি মঙ্গলবার বলেছেন, এ বিষয়ে আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, ভারতে পাওয়া করোনার ধরনটির নাম বি.১.৬১৭।

অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, এ বিষয়ে অধিকতর তথ্য-উপাত্ত আমরা সংগ্রহ করে চলেছি। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, বি.১.৬১৭-কে নিষ্ক্রিয় করতে পারে কোভ্যাক্সিন।

‘যারা এই টিকা নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই আমলে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং ভারতে যে কঠিন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবিলায় টিকা দেওয়া একটি ভালো সমাধান হতে পারে।’

বিএসএমএমইউতে স্থাপন করা হচ্ছে ২০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক
                                  

স্বাধীন বাংলা অনলাইন :
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যাতে অক্সিজেনের কোনো ধরণের সংকট না হয়, সেজন্য ২০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড ইভাপোরেটর বা লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। আজ (২৭ এপ্রিল ২০২১) বি- ব্লক, কেবিন ব্লক, সি ব্লকসহ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই সময় তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য অক্সিজেনের সংকট হবে না। লিকুইড অক্সিজেন ৫ হাজার লিটার থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ হাজার লিটারে উন্নীত করা হবে।

এসময় তিনি ভারতের ডাবল মিউটেন্ট ভ্যারিয়েন্ট যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কমপক্ষে দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্ত সমূহ বন্ধ রাখার সরকারের সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভারত থেকে যারা দেশে আসেন তাদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। এসময় হাসপাতাল ও ক্যাম্পাসে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা  নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সড়কের সম্প্রসারণ ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনিক সভা এবং ডা. মিল্টন হলে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় নির্মাণাধীন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিষয়ে আলাদাভাবে ২টি সভায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ জুলফিকার রহমান খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে আজ চলমান কঠোর লকডাউনের মাঝেও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ১৩১৬ জন। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৫ শত ৬৪ জন। আজ (২৭ এপ্রিল) পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ২৩ হাজার ৬ শত ২০ জন। বেতার ভবনের পিসিআর ল্যাবে গতকাল ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯ শত ৩০ জনের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। বেতার ভবনের ফিভার ক্লিনিকে  গতকাল ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৯২ হাজার ২ শত ৭০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে করোনা ইউনিটে আজ মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৩ শত ৪১ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৭ শত ১৭ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩ হাজার ৯ শত ৪৪ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ১৪৫ জন রোগী এবং আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১২ জন।

আগামী মাসের শুরুতে ২১ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট:
মহামারী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ২১ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, এই টিকার মধ্যে এক লাখ ডোজ টিকা দেবে কোভ্যাক্স, আর বিশ লাখ ডোজ দেবে সেরাম ইনস্টিটিউট।

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি বলেন,  মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনাভাইরাসের প্রায় ২১ লাখ টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এর একটি অংশ আনবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। আরেকটি পাওয়া যাবে কোভ্যাক্স থেকে।

‘বেক্সিমকো আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ টিকা দিচ্ছে। এ ছাড়া কোভ্যাক্স থেকে ফাইজারের উৎপাদিত ১ লাখ টিকা পাওয়া যাবে।’  

বেক্সিমকো কবে টিকা দেওয়ার কথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছে জানতে চাইলে অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, গত পরশু বেক্সিমকো তাদের ২০ লাখ টিকার কথা জানিয়েছে।

দেশে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি আছে কিনা এমন কোনো নিশ্চিত খবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক। তবে দেশে নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা তিনি গণমাধ্যমেই জেনেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে টিকা পেতে বাংলাদেশসহ ৬ টি দেশের সমন্বয়ে একটি জোট তৈরি হয়েছে। ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিন স্টোরেজ ফ্যাসেলিটি টু সাউথ এশিয়া ফোরামে নেপাল, আফগানিস্তান, চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ। এখানে যদি টিকা আসে বাংলাদেশও টিকা পাবে।

করোনাভাইরাস মারার মাস্ক আবিস্কার করলেন গবেষকরা
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:
করোনাভাইরাসের তান্ডবে বিপর্যস্ত ভারতের একদল গবেষক করোনাভইরাস সহ যাবতীয় ভাইরাস মেরে ফেলার মাস্ক আবিস্কার করেছেন। ইতোমধ্যে তাদের তৈরী মাস্ক সারা বিশ্বের গবেষকদের কাছে খুবই ফলপ্রসু বলে দাবি করা হয়েছে। এই মাস্কের সংস্পর্শে আসলে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকতে পারবে না। সম্প্রতি আমেরিকার একটি জার্নাল ‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি- অ্যাপ্লায়েড মেটেরিয়ালস অ্যান্ড ইন্টারফেসেস’ এ প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণা।

সারা বিশ্বের কাছেই এই গবেষণা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে বলে দাবি করলেন আইআইটি মান্ডির এক দল গবেষক।

মহামারি করোনা রুখতে আশা দেখাচ্ছেন আইআইটি মান্ডির গবেষক অমিত জায়সওয়ালের নেতৃত্বে সৌনক রায়, প্রবীণ কুমার এবং অনিতা সরকারের নিরন্তর পরিশ্রম। মলিবডেনাম ডাইসালফাইড, এই বিশেষ উপাদান দিয়ে একটি চুলের থেকেও কয়েক গুণ পাতলা একটি আস্তরণ তৈরি করা হয়েছে। যা মাস্কের ওপরে লাগিয়ে দিচ্ছেন গবেষকরা।

এই উপাদানটিরই নাকি অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল গুণাগুণ রয়েছে। ১০০ থেকে ২০০ ন্যানোমিটারের কোনও ভাইরাস বা ব্যাকটিরিয়া এই আস্তরণের উপর চলে এলে নিমেষে তাকে মেরে ফেলে ওই আস্তরণ। করোনা ভাইরাসটি ১২০ ন্যানোমিটারের। তাই এই উপাদানের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসও মারা যায়।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, মলিবডেনাম ডাইসালফাইডের ওই আস্তরণ জীবাণুনাশে দুইভাবে কাজ করে। এর উপরিতল অত্যন্ত ধারালো। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের তলায় দেখলে মনে হবে ঠিক যেন অনেকগুলো ছুরি পর পর রাখা রয়েছে। করোনা বা কোনও জীবাণুর সংস্পর্শে এলেই তাদের কোষপর্দা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে ছুরির মতো ধারালো অংশগুলো। ফলে মারা যায় ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া।

সূর্যের আলোয় অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এই উপাদান। কিছু ক্ষণ সূর্যালোকে থাকলেই ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত এর তাপমাত্রা হয়ে যায়। যা অনেক জীবাণুকেই বাঁচতে দেয় না। মাস্কের ওপর ঘাঁটি গড়ে তোলা করোনা মেরে ফেলার জন্য নিশ্চিন্ত হয়ে একাধিক বার ব্যবহার করা যেতে পারে এই মাস্ক। আবার সহজেই শুধুমাত্র রোদে ফেলে রেখে জীবাণুমুক্তও করে ফেলা যায়। এই উপাদানের আরও একটি বিশেষত্ব হলো বার বার সাবান জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করলেও এর কার্যকারিতার কোনও হেরফের হয় না।  

পরীক্ষায় দেখা গেছে ৬০ বার সাবান পানিতে  ধোয়ার পরও একইভাবে জীবাণু ধ্বংস করতে পারছে এই উপাদানে তৈরি মাস্ক। এই উপাদান দিয়ে শুধু মাস্কই নয়, পিপিইও তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এই উপাদান পরে শ্বাস নিতেও কোনও কষ্ট হবে না বলেও দাবি করেছেন তারা। এর সঠিক ব্যবহারে মাস্কের সংস্পর্শে আসা ৯০ শতাংশেরও বেশি জীবাণু ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এর, দাবি ওই গবেষকদের।

এখনও তারা কোনও মাস্ক, পিপিই উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলেননি। আরও কিছু দিন গবেষণা চালাতে চান তারা। তার পরই বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য এই উপাদানের ফর্মূলা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে শতাংশ করে নেবেন তারা। এর দাম আকাশছোঁয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন ওই গবেষকেরা। মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে দাম।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


   Page 1 of 25
     স্বাস্থ্য
যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর করোনায় মৃত্যু পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর
.............................................................................................
ফরিদপুর হাসপাতালে ১০ মিনিটে ৪ রোগীর মৃত্যু!
.............................................................................................
খুলনার আরও ২২ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল: ৪ আইসিইউ বেডের দু’টি অকেজো, সর্বত্র অব্যবস্থাপনা
.............................................................................................
করোনা : রাজশাহী মেডিকেলে আরও ১৯ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
বগুড়ায় হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৭ জনের মৃত্যু, মোট মৃত্যু ১১
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ২
.............................................................................................
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
.............................................................................................
চীনের দ্বিতীয় টিকাও ডব্লিউএইচওর অনুমোদন পেল
.............................................................................................
করোনা প্রতিরোধে ‘বঙ্গসেফ ওরো-ন্যাজাল স্প্রে’ উদ্ভাবন
.............................................................................................
‘টিকা দেওয়া মারাত্মক ভুল, এতে শক্তি বাড়ছে কোভিডের’
.............................................................................................
পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম
.............................................................................................
করোনার ভারতীয় ধরন নিষ্ক্রিয় করতে পারে কোভ্যাক্সিন
.............................................................................................
বিএসএমএমইউতে স্থাপন করা হচ্ছে ২০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক
.............................................................................................
আগামী মাসের শুরুতে ২১ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস মারার মাস্ক আবিস্কার করলেন গবেষকরা
.............................................................................................
করোনার ‘নতুন ধরণ ও মিউটেশন’ দেশে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে
.............................................................................................
নতুন আরও ৪ উপসর্গ নিয়ে এসেছে করোনা
.............................................................................................
মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ভ্যাকসিন বানানো সম্ভব: ডা. জাফরুল্লাহ
.............................................................................................
আপাতত লকডাউন নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
রোজা রেখে টিকা নেয়া যাবে : সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি
.............................................................................................
দেশে করোনায় ১১ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
ঢামেক হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের আইসিইউতে আগুন, ৩ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরো ২৬ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় দেশে আরো ১৮ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় দেশে আরো ১২ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৬ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০১৮
.............................................................................................
টিকা নেওয়ার পরও ডিএমপি কমিশনার করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
করোনায় আরো ১১ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ১০ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৬ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৭ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৭ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
টিকা নিলেও করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী
.............................................................................................
করোনায় আরো ১৮ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৭ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
ভারত থেকে ২০ লাখ টিকা আসছে আজ
.............................................................................................
করোনায় আরো ৭ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৫ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ৮ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় দেশে আরও ১৫ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
করোনায় আরো ১৩ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার পরামর্শ
.............................................................................................
এক দিনে ২ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন
.............................................................................................
করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজের তারিখ পরিবর্তন
.............................................................................................
করোনায় আরো ১১ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
২২ ফেব্রুয়ারি আসছে টিকার দ্বিতীয় চালান
.............................................................................................
করোনা ধ্বংসে ৯৯ শতাংশ কার্যকরি ফরাসি স্প্রে
.............................................................................................
করোনায় আরও ৮ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT