বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি
  সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
  26, June, 2022, 4:45:25:AM

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মৃতপ্রায় ফসল পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কয়েকটি দেশের একদল বিজ্ঞানী খনিজ সমৃদ্ধ, কম খরচের এবং সহজলভ্য সার— মানুষের ‘প্রস্রাব’ ব্যবহারে ফসলের উৎপাদনে চমকপ্রদ ফল পেয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করায় ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

আফ্রিকার দেশ নাইজার প্রজাতন্ত্রে সার হিসেবে প্রস্রাবের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এই ফল পাওয়া গেছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নাইজার, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির গবেষকদের একটি দল পার্ল মিলেট প্যানিকল নামের এক ধরনের শস্যের ফলন বাড়াতে জৈব সারের সাথে মানুষের প্রস্রাবের মিশ্রণ ঘটিয়ে ‘ওগা’ নামের এই সার তৈরি করেন। পরে গ্রীষ্মকালীন পার্ল মিলেট চাষে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেন তারা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের প্রস্রাবে ইউরিয়া, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো একাধিক উপাদান রয়েছে। যা সঠিকভাবে ব্যবহারে ভালো ফল মিলতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে গবেষকদের ওই দল পরীক্ষামূলকভাবে চাষাবাদে মানুষের প্রস্রাবের ব্যবহার শুরু করেন।

গবেষকরা দেখেছেন, যেসব জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে, তার তুলনায় মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করা জমিতে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন এই সার ব্যবহারকারী কৃষকদের মতে, এর একমাত্র খারাপ দিক হল দুর্গন্ধ। নাইজারের একজন কৃষক বলেছেন, একমাত্র সমস্যা হল ‘ওগা’ সারের দুর্গন্ধ ততটা ভালো নয়।

নাক এবং মুখ কাপড়ে ঢেকে এই সার ব্যবহারের সময় তিনি বলেন, ‘যখনই আমি জমিতে প্রস্রাব ব্যবহার করি, তখনই নিজের নাক-মুখ ঢেকে রাখি। তবে এটি বড় কোনও সমস্যা নয়।’

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। খরার কারণে দেশটির আবাদি জমিতে ফসল মরে যাচ্ছে। আর এর প্রভাবে মানুষের অনাহার-অর্ধাহার বাড়ছে।

এই সংকট দেশটিতে এতটা চরম আকার ধারণ করেছে যে, ২০১৪ সালে লোকজন চোরাই মার্কেট থেকে বিপজ্জনক কীটনাশক কিনে জমিতে ব্যবহার করে। এটি ছাড়া তাদের কাছে আর কোনও বিকল্প ছিল না। তখন একদল বিজ্ঞানী নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প সারের উদ্যোগ নেন।

ফসলে সার হিসেবে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহার করার এই ধারণা অদ্ভূত শোনালেও হাজার বছর আগে পুষ্টির কারণে তা ব্যবহার হয়েছে।
মানুষের প্রস্রাবে ফসফরাস, নাইট্রোজেন এবং পটাসিয়াম রয়েছে, যা বাজারে পাওয়া বাণিজ্যিক সারেও পাওয়া যায়।

নাইজারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চের বিজ্ঞানী হান্নাতো মুসার নেতৃত্বাধীন গবেষক দলটি প্রাচীন সভ্যতায় আবাদি জমিতে মানুষের প্রস্রাব ব্যবহারের এই চর্চায় আধুনিক কিছু কৌশল যুক্ত করেছে।

দেশটির একদল নারীর সাথে কাজ করার সময় মুসা এবং তার দল সেখানকার কৃষকদের সঠিকভাবে প্রস্রাব স্যানিটাইজ এবং সংরক্ষণের উপায় শিখিয়েছেন। নাইজারের কৃষি শিল্পে নারীদের সংশ্লিষ্টতা বেশি। দেশটির প্রায় ৫২ শতাংশ কৃষি খামার নারীরা পরিচালনা করেন।

বিজ্ঞানীরা ‘প্রস্রাব’ শব্দটি ঘিরে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ওগা’ রেখে কাজ শুরু করেছিলেন। পরীক্ষার পরবর্তী অংশে দেশটির বিভিন্ন এলাকার খামার দু’টি ভাগে বিভক্ত করেন তারা। এর একটিতে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিক সার এবং অন্যটিতে ‘ওগা’ ব্যবহার করা হয়।

এগ্রোনমি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘পরীক্ষা চালানো এবং প্রয়োগে কৃষকদের রাজি করাতে গবেষক দলটি প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে ওগাকে জৈব বর্জ্য এবং গোবরের সাথে মেশাতে উত্সাহ দিয়েছিল।’

তারা বলেছেন, নাইজারে ২০১৪, ২০১৫, এবং ২০১৬ সালে যথাক্রমে ১৫৯, ২৮৮ এবং ১৩৪টি খামারে এই সারের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়। খামার থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, যেসব খামারে ওগা ব্যবহার করা হয়েছিল, প্রচলিত খামারের তুলনায় সেসব খামারে গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি শস্য উৎপাদন হয়েছে।

এই ফল এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে নাইজারের ওই অঞ্চলের অন্যান্য নারী খামারিরাও ‘ওগা’ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার দুই বছর পর গবেষকরা দেখতে পান, নাইজারের এক হাজারেরও বেশি নারী কৃষক তাদের ফসলের সারে ‘ওগা’ ব্যবহার করছেন।

যেসব দেশে প্রস্রাব-ভিত্তিক সার পরীক্ষা করা হয়েছে, সেসব দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। চীন, ফ্রান্স এবং উগান্ডায়
এই সারের গ্রহণযোগ্যতার হার অনেক বেশি হলেও পর্তুগাল এবং জর্ডানে তা কম। প্রস্রাব সাধারণত কোনও রোগের প্রধান বাহক নয়। যে কারণে কৃষিতে ব্যবহারের জন্য এর ভারী প্রক্রিয়াকরণেরও প্রয়োজন হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই সার প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে এবং এটি পাস্তুরিত করাও সম্ভব।

গবেষকরা বলেছেন, সংগ্রহ করার পর প্রস্রাব ক্ষেতে নিয়ে যেতে হবে। তবে এই পদ্ধতি এখনও ব্যয়বহুল। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস এবং ঘনীভূত করা অথবা এমনকি ডিহাইড্রেট করাও সম্ভব।



   শেয়ার করুন
   আপনার মতামত দিন
     কৃষি
মধুখালীতে কাঁচামরিচ ৮হাজার টাকা মণ
.............................................................................................
দেশীয় জাতের ওল চাষে ঝুকছেন সাতক্ষীরার কৃষকরা
.............................................................................................
আমন চারা রোপনে মাঠে ব্যস্ত রায়গঞ্জের কৃষকরা
.............................................................................................
গ্রিনল্যান্ড নার্সারীর বনসাই বট গাছের মূল্য এক লাখ আশি হাজার টাকা
.............................................................................................
সারের বদলে মানুষের প্রস্রাব দিয়ে চাষে ৩০ শতাংশ ফলন বাড়ে: গবেষণা
.............................................................................................
বিরোধীরা আন্দোলনে নামলে পাল্টা আন্দোলন হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
তপ্ত দিনে বিরামপুরে উঠেছে রসালো তালশাঁস
.............................................................................................
যশোরে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও দাম পাচ্ছে না চাষিরা
.............................................................................................
বোরো ধানের ফলনে হাসলেও দামে হতাশ আনোয়ারার কৃষকেরা
.............................................................................................
মিঠাপুকুরে বোরো ধান পানিতে, শ্রমিক সংকট চরমে
.............................................................................................
আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ
.............................................................................................
ধান ও সয়াবিন নিয়ে শঙ্কায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা
.............................................................................................
কুমিল্লার লালমাইয়ে কচুর বাম্পার ফলনে স্বস্তিতে কৃষকরা
.............................................................................................
গোলায় ধান তোলার অপেক্ষায় চৌহালীর কৃষক
.............................................................................................
এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক
.............................................................................................
কালবৈশাখীর প্রভাব: বোরোধান ঘরে তুলতে ব্যয় দ্বিগুণ
.............................................................................................
কুমিল্লার হলুদ তরমুজ দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি
.............................................................................................
ভালুকায় কৃষকদের মাথায় হাত
.............................................................................................
বগুড়ায় বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শুরু
.............................................................................................
কৃষক থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ শুরু
.............................................................................................
তরুণদের কৃষিতে টানতে গঠন হচ্ছে ‘উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’
.............................................................................................
জয়পুরহাটে সবজি চাষ করে সফল মনোয়ারা বেগম
.............................................................................................
লোকসানের মুখে চাষিরা, সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ
.............................................................................................
কৃষি ও খাদ্য পণ্য উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব
.............................................................................................
জোয়ারের পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন!
.............................................................................................
বোরো ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন!
.............................................................................................
দেশে ৩শ’ কেজি ওজনের পাঙ্গাশ চাষ
.............................................................................................
লোকাসানে সাঁথিয়ার পেঁয়াজ চাষি : উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল কম
.............................................................................................
স্বস্তির বৃষ্টিতে স্বস্তি আম চাষিদের
.............................................................................................
সিলেটে কাপড়ের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি
.............................................................................................
পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
.............................................................................................
মালবেরিতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছে সোহেল রানা
.............................................................................................
চোখ জুড়ানো ফসলের মাঠ; তবুও পানির অভাবে কৃষকের কান্না
.............................................................................................
অসময়ে বৃষ্টির কারণে আম নিয়ে শঙ্কায় চাষীরা
.............................................................................................
সূর্যমুখীর হাসি তাহেরের মুখে
.............................................................................................
বারোমাসি কাটিমন চাষে স্বাবলম্বী বাবুল
.............................................................................................
সফল আপেল কুল চাষী আকরাম
.............................................................................................
বিরামপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
.............................................................................................
পাবনায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
.............................................................................................
‘বারি হাইব্রীড-৪’ বেগুন চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য
.............................................................................................
কুল চাষে সফলতা পেলেন আলী আকবর
.............................................................................................
পুঁজির অভাবে মৌখামার বাড়াতে পারছেন না চাষিরা
.............................................................................................
সাতক্ষীরার নগরঘাটায় কুল চাষে সাফল্য
.............................................................................................
মনোহরদীতে কৃষি বিভাগের আদুরে কন্যা ‘সমলয়’
.............................................................................................
লৌহজংয়ে আলু চাষিদের মাথায় হাত
.............................................................................................
রাজশাহীতে আগাম টমেটো চাষে ব্যস্ত কৃষক
.............................................................................................
আউশ ধানের বাম্পার ফলন; কৃষকের মুখে সোনালি হাসি
.............................................................................................
সখীপুরে লেবু চাষে ভাগ্যের চাকা ঘুরলো মোফাজ্জলের
.............................................................................................
বগুড়ায় মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে ব্যাপক সাড়া
.............................................................................................
কচুয়ায় কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT