বৃহস্পতিবার, ২৬ মে 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সিলেট -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মহানগর আ.লীগ মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে : অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন বলেছেন, বন্যাপরবর্তী সময়েও অসহায় মানুষের মাঝে মহানগর আওয়ামী লীগ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ার পর থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বন্যাকবলিত প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। বন্যার পানিতে ভিজে নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষদের কাছে গিয়েছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ও মানবিকতার কোন কমতি ছিলো না। অসহায়দের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করেই সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। বন্যাপরবর্তী সময়েও বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

এই কার্যক্রম জনদুর্ভোগ কমার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে ছিলো, পাশে আছে এবং পাশেই থাকবে। বুধবার (২৫ মে) বিকেলে নবগঠিত ৩২ নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুর এলাকায় চাল, ডাল ও আলু ইত্যাদি মহানগর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মহানগর আওয়ামী লীগ বন্যাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখনো বন্যাপরবর্তী সময়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এবং অসহায় মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। বন্যাকবলিত প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে চোখে পড়ার মত মহানগর আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি ছিল। যা অবশ্যই প্রশংসনীয় ও মানবিকতার কাজ।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হাবিবুর রহমান ফয়সল মেম্বার, শমসের আলী সারু, যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মহানগর আ.লীগ মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে : অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন
                                  

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন বলেছেন, বন্যাপরবর্তী সময়েও অসহায় মানুষের মাঝে মহানগর আওয়ামী লীগ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ার পর থেকেই মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বন্যাকবলিত প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। বন্যার পানিতে ভিজে নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষদের কাছে গিয়েছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ও মানবিকতার কোন কমতি ছিলো না। অসহায়দের সমস্যাগুলোকে নিজের সমস্যা মনে করেই সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। বন্যাপরবর্তী সময়েও বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

এই কার্যক্রম জনদুর্ভোগ কমার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে ছিলো, পাশে আছে এবং পাশেই থাকবে। বুধবার (২৫ মে) বিকেলে নবগঠিত ৩২ নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুর এলাকায় চাল, ডাল ও আলু ইত্যাদি মহানগর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মহানগর আওয়ামী লীগ বন্যাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখনো বন্যাপরবর্তী সময়ে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন এবং অসহায় মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। বন্যাকবলিত প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে চোখে পড়ার মত মহানগর আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি ছিল। যা অবশ্যই প্রশংসনীয় ও মানবিকতার কাজ।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হাবিবুর রহমান ফয়সল মেম্বার, শমসের আলী সারু, যুবলীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বন্যাপরবর্তী সময়েও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
                                  

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেট নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। বিশেষ করে নগরীর ১০ ১৩ ১৪ ২৩ ২৪ ২৭ ৩১ ৩৮ ৩৯নং ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়। এই সব পানিবন্দী ওয়ার্ডসমূহের অসহায় মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এতে মহানগর আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে থাকা অব্যাহত রেখেছিল। বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বন্যাপরবর্তী সময়েও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২৪মে) বিকেলে ২৪ নং ওয়ার্ডের তেররতন এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

অসহায় মানুষদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ শাহজাহান, যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মিরাজ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হবিগঞ্জে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
                                  

এস কে শাহীন হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক জেলা শিল্পকলা একাডেমী হলরোমে বিকেলে আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরনী ও সাংস্কৃতিক অনু্ষ্ঠান পালন করা হয়।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মিন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার শোয়েব শাতইল ইবানের সঞ্চালনায় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। বিশেষ অথিতি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা খাতুন শিমুল, হবিগঞ্জের পৌরমেয়র আতাউর রহমান সেলিম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী নুরুল ইসলাম সরকার, নজরুল একাডেমী হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি কবি তাহমিনা বেগম গিনি।

অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, সরকারি বৃন্দাবন কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস বখ্ত চৌধুরী জালাল, নজরুল একাডেমী সিলেট বিভাগের সমন্যয়কারী আব্দুল আওয়াল তালুকদার, প্রিন্সিপাল মোঃ আলী আজগর। অনু্ষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ডঃ আযহারুল ইসলাম পরে ১৫ জন বিজয়ীর মধ্য পুরষ্কার বিতরন করার মধ্য দিয়ে অনু্ষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।

সাঁতার কেটে নদী পার হতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার
                                  

মোস্তফা বকস্, রাজনগর:

মৌলভীবাজার জেলার  রাজনগরে গবিন্দপুরে  মঙ্গলবার বিকালে সাঁতার কেটে নদী পার হতে গিয়ে ফজল মিয়া (৭৫) নামে এক রোগাক্রান্ত বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের গবিন্দপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, মৃত ফজল  মিয়া ৪ ছেলে ও এক মেয়ে  সন্তানের জনক হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তার সন্তানরা তাকে একা রেখে মাকে নিয়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। নানা রোগে আক্রান্ত ফজল মিয়া চিকিৎসা ও খাওয়া-দাওয়ার অভাবে অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। এলাকাবাসীর ধারণা  মঙ্গলবার বিকালে একই গ্রামে নদীর ওপর পারে বসবাসরত মৃত আমছু মিয়ার শিরনী খেয়ে বাড়ি ফেরার উদ্যেশ্যে মুনিয়া নদী সাঁতার কেটে পার হতে গেলে নদীতেই তার মৃত্যু ঘটে।

বুধবার সকালে নদীর ফতেপুর অংশে এলাকাবাসী একটি লাশ ভেসে আসছে দেখে ফজল মিয়ার লাশ বলে সনাক্ত করে। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। ফজল মিয়ার লাশ দেখে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাক্তন ইউপি সদস্য জানান, মৃত ফজল মিয়ার মুখে ও নাকে বিভিন্ন জখম রয়েছে। তবে এসব জখম কিভাবে হয়েছে তা কারো জানা নেই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজনগর থানা পুলিশ সরেজমিন মৃত ব্যক্তির বাড়িতে অবস্থান করছে।

সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার
                                  

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেল থেকে এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মে) সকালে হোস্টেলের চার তলার একটি কক্ষে স্মৃতি নামের ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। স্মৃতি এমসি কলেজের ইংরেজি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এমসি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো: তৌফিক এজদানী চৌধুরী জানান, স্মৃতি নামের ওই ছাত্রী নতুন ছাত্রী হোস্টেলের (চার তলায়) সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতেই স্মৃতি আত্মহত্যা করেছে। সকালে অন্যান্য শিক্ষার্থী তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়েছে।

সকাল দশটার দিকে শাহপরাণ (র.) থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জানান, ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি জানান, কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। খতিয়ে দেখার পর জানা যাবে।

বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে সিলেটের বন্যা কবলিতরা
                                  

মুফিজুর রহমান নাহিদ সিলেট
গ্রাম ও শহর- দুর্ভোগের ধরণ একই। কোথাও খাদ্য, কোথাও বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মানবেতর দিন পার করছেন সিলেটের পানিবন্দি মানুষ। পানির সন্ধানে তাদের ছুটতে হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-৩ এর অধীনস্থ দক্ষিণ সুরমা এলাকাও বন্যা কবলিত। পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক এলাকাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই স্থানীয় লোকজন বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পড়েছেন।

নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় অবস্থিত সিটি করপোরেশনের পানি বিশুদ্ধকরণ (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট) প্লান্টও তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি আরো চারটি পাম্পও তলিয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে এসব এলাকার জনগণও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না। সিলেটের অন্তত ২০টি উপজেলার শতাধিক গ্রাম বন্যায় কবলিত। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহের একমাত্র ভরসা টিউবওয়েলও পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারী লোকজন দূরদূরান্ত থেকে কলসি, হাড়ি-পাতিলে করে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।

এসব এলাকার গ্রামীণ জনপদে পানি ও খাবার সঙ্কট প্রকট হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব এলাকার প্রান্তিক পর্যায়ের লোকজন। নিত্যদিনের উপার্জনের সংসার চালানো মানুষরা বন্যায় আটকে পড়ায় তাদের আয়-রোজগারে প্রভাব পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে রান্নার ব্যবস্থা নেই। শুকনো খাবারের পাশাপাশি তাদের রান্না করা খাবারও বেশি প্রয়োজন। শহর এলাকায় খাবার সমস্যা না থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। নগরের বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন বলছেন, কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। তার ওপর নেই পানি। খাবার বা টয়লেটের জন্য তারা ঠিকমতো পানি পাচ্ছেন না। নিম্ন আয়ের মানুষজন বৃষ্টির পানি ছেঁকে পানের জন্য ধরে রাখছেন।

সিলেট নগরের মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা তুষার আহমদ মান্নার বাসার টিউবওয়েলটি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে খাবার পানির জন্য বৃষ্টির পানি জমিয়েছিলেন। সেগুলো কাপড়ে ছেঁকে পাত্রে রাখছেন। এরপর সেই পানি ফিটকিরি দিয়ে বিশুদ্ধ করে পান করবেন বলে তিনি জানান।

ভোগান্তিতে পড়েছে নগরের শাহজালাল উপশহর, শেখঘাট, কলাপাড়া, সোনারপাড়া, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর, ছড়ারপার, চালিবন্দর কানিশাইল, মণিপুরি রাজবাড়ী, তালতলা, জামতলাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। উপশহর এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, মঙ্গলবার থেকে আমরা পানিবন্দি। বিশুদ্ধ পানির অভাব। ময়লা পানি মাড়িয়ে পানের জন্য বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে যেতে হয়।

ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, এখনো অনেক ব্লকে কোমর সমান পানি, ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পানির মটর তলিয়ে গেছে, তাই পানি তুলতে পারছেন না। কিছু কিছু জায়গায় মটর ঠিক থাকলেও ট্যাংকি ময়লায় নষ্ট হওয়ায় পানি তোলা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) আবদুস সোবহান জালালাবাদকে বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে ময়লা পানি ঢুকেছে। এজন্য সেটি চালু করা যাচ্ছে না।

এছাড়া পানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা পাম্পগুলোও পানির নিচে থাকায় চারটি পাম্প বন্ধ হয়ে আছে। এ অবস্থায় দুই হাজার লিটারের ভ্রাম্যমাণ পানির ট্যাংক দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।কানাইঘাটে ওসুরমা ও লোভা নদীর পানি কমতে শুরু করায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে দুর্ভোগ বাড়ছে বানভাসি মানুষের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে। গত কয়েকদিন ধরে বন্যা দূর্গতরা বৃষ্টির পানি জমিয়ে কোনমতে দিনানিপাত করছিলেন, ইতোমধ্যে তাও শেষ হওয়ায় বেশ বেকায়দায় পড়েছেন তারা।উপজেলার নিম্নাঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।

পানির স্রোতের কারণে গ্রামীণ অধিকাংশ সড়কে বড় বড় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানি কমার সাথে সাথে উপজেলার সদর ও পৌর এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। রবিবার কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।সরকারিভাবে বন্যা দূর্গতদের জন্য এখন পর্যন্ত ৪৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বেশ কিছু প্যাকেট শুকনো খাবার বন্যা দূর্গতদের মাঝে প্রশাসানের উদ্যোগে বিতরণ করা হয়েছে।কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমিন চৌধুরী জানান, কানাইঘাটে বন্যা দূর্গত মানুষের মাঝে আরো ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ করার জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলেছেন, এবং কানাইঘাটের সার্বিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে বন্যার্তদের পাশে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটে পানি কমলেও বালাগঞ্জে পানি বাড়ছে
                                  

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেট শহরসহ অন্যান্য উপজেলায় পানি যত কমছে, বালাগঞ্জ উপজেলায় পানি তত বাড়ছে। ফলে বন্যা আক্রান্ত হচ্ছে বালাগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা ৬টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত। উপজেলার ১৩,২০৫টি পরিবারের মধ্যে বন্যা আক্রান্ত ২১৬১টি পরিবার। ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ। ১০টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভুষন দাশ জানান, ২৩মে পর্যন্ত ২৬টন ৩শত ৩০ কেজি চাউল, নগদ ১লক্ষ টাকা, ৫`শ প্যাকেট খাদ্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বালাগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র বনিক জানান ৪৮জন মৎস্যচাষীর ক্ষতিগ্রস্থ পুকুর ও খামার ৭০টি, ক্ষতিগ্রস্থ মাছের পরিমাণ ৭মেঃ টন, পোনা মাছ ক্ষতির পরিমাণ ১লক্ষ টাকা, মাছ চাষের অব কাঠামো ক্ষতির পরিমাণ ৩লক্ষ টাকা। তিনি জানান বন্যায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৩লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায় ২৫০জন কৃষকের আউশ ধানের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে ১০হেক্টার, যা টাকার হিসাবে ১৫লক্ষ, ২৭০জন সবজি চাষীর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে ১২হেক্টর, যা টাকার হিসাবে ২০লক্ষ টাকা। ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ক্ষতি হয়েছে বেশী বালাগঞ্জ, বোয়ালজুড়, পশ্চিম গৌরীপুর। পূর্ব পৈলনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শিহাব উদ্দিন জানান নদী তীরবর্তি হওয়ায় অধিকাংশ ইউনিয়নই আক্রান্ত। ত্রাণ এর পাশাপাশি বন্যা পরবর্তি পূর্নবাসনের জন্য বরাদ্দ দাবী করেছেন।

পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মাখন জানান আমার ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন ইতিমধ্যে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর ও বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজিনা আক্তার আমার ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন আমার গোটা ইউনিয়ন একাধিক দ্বীপ আকার ধারন করে আছে। মানুষ পানি বন্দি। তিনি ত্রাণের দাবী করেছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভুইয়া জানান ৩টি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পানি আর ২টি বিদ্যালয়ের আঙিনায় পানি ফলে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ। তিনি শিশুদের কে পানি থেকে দূরে রাখার আহবান করেছেন অভিভাবদের প্রতি। বালাগঞ্জ উপজেলা অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রের সভাপতি শাহাব উদ্দিন শাহিন জানান প্রতিবন্ধীরা অসহায় জীবন যাপন করছেন পানি বন্দি অবস্থায়। তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দাবী করেছেন।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, প্রতিদিনই বন্যার তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করেই ইউনিয়ন পর্যায়ে ত্রাণ প্রেরণ করা হচ্ছে। ত্রাণের কোন অভাব নেই। আরো ত্রাণ আসার কথা জানিয়েছেন তিনি। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাকুর রহমান মফুর জানান সিলেট এর অন্যান্য উপজেলার পানি কমলে, বালাগঞ্জ উপজেলায় পানি বাড়ে। বন্যা দেখা দেয়। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নই হাওড় এবং নদীর তীরবর্তী। ফলে উজানের পানি নামার সময় বন্যা দেখা দেয় বালাগঞ্জ উপজেলায়।

জগন্নাথপুরে যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু
                                  

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নাইমা বেগম (২৩) নামের এক যুবতীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপজেলার দিঘলবাক গ্রামের মুজিবুর রহমান বেলুর কন্যা। পুলিশ যুবতীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে নিজ ঘরের বাথরুমে যুবতী নাইমা বেগমের মৃত্যু দেহ পাওয়া যায়। এ সময় মৃত দেহের গলায় হালকা লালছে দাগ দেখতে পান স্থানীয়রা। তবে এটি আত্মহত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে রহস্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই শামীম আল মামুন জানান, আত্মহত্যার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে, হৃদরোগে মৃত্যু হতে পারে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

রাতে বানবাসীদের কাছে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে গেলেন অধ্যাপক জাকির
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বানবাসীদের কাছে ছুঁটে যাচ্ছেন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষদের খবরাখবর নিচ্ছেন এবং তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

শুক্রবার (২০মে) রাত সাড়ে দশটায় ২৩ নং ওয়ার্ডের মাছিমপুর প্রাথমিক স্কুল আশ্রয় কেন্দ্রে রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় বিশুদ্ধ খাবার পানি নিয়ে তিনি ছুঁটে যান।

আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি আশ্রিত অসহায় মানুষদের সাথে কথা বলেন এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করেন। তিনি তাদেরকে বলেন, আপনারা কোনো ধরনের চিন্তা করবেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা`র প্রদত্ত সবধরনের সহযোগিতা মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন মহোদয়ের মাধ্যমে আপনারা পাবেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আপনাদের পাশে আছেন। আমাদের কাউন্সিলরা আপনাদের সাহায্য ও সহযোগীতায় কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠবো, ইনশাআল্লাহ।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনিবার্হী সদস্য তৌফিক বক্স লিপন (প্যানেল মেয়র), উপদেষ্টা ও ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ, ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেল আহমদ কবির সহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি, বিশুদ্ধ পানি সংকটে দুর্গতরা
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমটার কমে বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এখনও অনেক রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে আছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে আছেন দুর্গতরা। সিলেট ও সুনামগঞ্জে সামান্য কমেছে নদ-নদীর পানি। তারপরও দুর্ভোগে আছেন চার লাখের বেশি মানুষ। অনেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্র এমনকি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। এতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে অসহায় মানুষদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ সহকারি প্রকৌশলী নিলয় পাশা গণমাধ্যমকে বলেন, সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। উজানে বৃষ্টি না হলে পানি আরও কমবে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে জকিগঞ্জের অমলসীদে একটি বাঁধ ভেঙে নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই পানি এখন ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ হয়ে নামবে। ফলে ওই এলাকায় পানি বাড়ছে। এই দুই উপজেলার কিছু এলাকা প্লাবিতও হতে পারে।


গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়। এর কয়েকদিন আগে থেকে নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বন্যায় তলিয়ে যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার মধ্যে ১০ উপজেলারই বেশিরভাগ এলাকা। সিলেট নগরীর সুরমার তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসে।

এদিকে বন্যায় সিলেট জেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে বোরো ধান, আউশের বীজতলার পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেতও আছে। এতে কৃষকের ঘুম হারাম। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী
                                  

মুফিজুর রহমান নাহিদ:

সিলেটে বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলো। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। বরং ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। টানা ৮ দিন ধরে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট নগরসহ জেলার ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের প্লাবিত হওয়া হাজার হাজার গ্রাম পানিতে থৈ থৈ করছে। এতে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে ঘরে মজুত করা খাবারও শেষ হয়ে গেছে। বাসস্থান পানিতে নিমজ্জিত, চুলা আগুন জ¦ালানোর সুযোগ নেই, সংরক্ষণে রাখা খাবার শেষ- এ যেন এক বিভিষীকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বত্র আর্তনাদ আর হাহাকার।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বুধবার রাতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী আছেন। বানভাসিরা বলছেন, অনেক ঘরবাড়িতে এখনো বুক ও গলাসমান পানি। অনেকে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ ঘরের ভেতরে মাচা বানিয়ে থাকছেন।

কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুরসহ প্রত্যন্ত এলাকার বানভাসি মানুষ জানান- চাল, ডাল ও তেল না থাকায় অনেকের বাড়িতে রান্না বন্ধ হয়ে আছে। ইঞ্জিন নৌকার শব্দ শুনলেই তাঁরা ত্রাণের আশায় ছুটে আসছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাপ, পোকামাকড় ও জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে। শৌচাগার ডুবে যাওয়ায়ও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলা হলেও অনেকে ত্রাণ পায়নি। উপজেলা সদরের সঙ্গে অধিকাংশ এলাকার মানুষের সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মানুষ নৌকা ও কলাগাছ দিয়ে তৈরি ভেলা ব্যবহার করছে।

সিলেট নগরের বন্যাক্রান্তরাও খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া অনেকে বলছেন, তারা প্রয়োজনীয় খাবার সহায়তা পাচ্ছেন না। খাবার সংকটে তাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ বরাদ্দ একেবারেই কম। এ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা। একইসাথে বিশুদ্ধ পানিও পাচ্ছেন না তারা। বৃষ্টির পানি জমিয়ে খাবার চাহিদা মেটাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন চলবে?

রোববারের আগে কোন সুখবর নেই :
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী রোববারের আগে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সুখবর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার পর্যন্ত সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। রোববার দিবাগত রাত থেকে বৃষ্টিপাত কমে পরের দিন সোম ও মঙ্গলবার আকাশ পরিষ্কার হবে। এরপর ফের বৃষ্টিপাত হতে পারে। সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে আগামী রোববারের আগে ভারী বৃষ্টিপাত কমার পূর্বাভাস নেই।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ওই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ছিল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি ছিল ১১ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার, যা বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছিল ১১ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার। নদীর সিলেট পয়েন্টে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর পানি বুধবার বেলা তিনটা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বেলা তিনটা পর্যন্ত পানি ছিল ১৭ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। শেওলা পয়েন্টে ছিল ১৩ দশমিক ৬২ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপদসীমা ১৩ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার।
সারি নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার বেল তিনটা পর্যন্ত নদীতে পানি ছিল ১১ দশমিক ৪৮ সেন্টিমিটার। ওই নদীর বিপদসীমা ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার।

জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ৮ দিনে ২ হাজার ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখান থেকে নেমে আসা ঢলেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

ব্যবসায় বিপর্যয় :
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে নগরের কালীঘাট, মহাজনপট্টি এলাকায় দেখা গেছে, সুরমা নদীসংলগ্ন কালীঘাটের খেয়াঘাট এলাকার অন্তত: ৩ শতাধিক দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বুকসমান পানি। সেসব দোকানের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে পানিতে বেশ কিছু মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খেয়াঘাটসংলগ্ন হাজী আলকাছ মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি। দোকানটি নিচু স্থানে ছিল। তবে দোকানের চারদিকে ইট-সিমেন্ট দিয়ে দেয়াল তুলে পানির প্রবেশপথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এরপরও ঘরের মধ্যে প্রবেশ করছিল পানি। সেগুলো বালতিতে করে বাইরে ফেলতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের।
ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান বলেন, পানি ঠেকাতে দিনরাত কষ্ট করছি। কিন্তু এরপরও ঠেকাতে পারছি না। বেচা-কেনার কথা বাদ দিলাম। এখন দোকানে থাকা মালগুলো রক্ষা করাই বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দোকানের পাশেই গুদাম। গুদাম আর দোকানের চারদিকে পানি। মালগুলো সরিয়ে নেব, এ উপায়ও নেই। পানি বাড়লে মালামাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। ক্ষয়ক্ষতি হলে পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

নগেন্দ্র স্টোর নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী নগেন্দ্র দের দোকানে কোমরপানি। দোকানের ভেতরে থাকা পেঁয়াজে পানি লাগায় অনেকটা পচে গেছে। সেগুলো তিনি বাছাই করতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজে পানি লেগে যাওয়ায় অনেকগুলো নষ্ট হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ী হওয়ায় এ ক্ষতি পোষাতে অনেক কষ্ট হবে।

কালীঘাট এলাকায় মালামাল কিনতে এসেছিলেন নগরের বাগবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী সালাম মিয়া। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা করছি প্রায় ১৭ বছর ধরে। এর মধ্যে বলতে গেলে সপ্তাহে একবার কালীঘাটে আসি। কিন্তু এমন অবস্থা কখনো দেখিনি। পানির মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা দোকানগুলোতে মালামালের বেশি দাম চাচ্ছে। কালীঘাটের অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, সুরমা নদীর পানি উপচে কালীঘাট এলাকার ৩ শতাধিক দোকানে ঢুকেছে।

বোরোর পর আউশেও বন্যার আঘাত :
সিলেটে ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। বোরোর পর এবার আউশেও আঘাত হানলো বন্যা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের হিসেবে, চলমান বন্যায় বুধবার পর্যন্ত আউশ ধানের বীজতলা এক হাজার ৩০১ হেক্টর, বোরো ধান এক হাজার ৭০৪ হেক্টর এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি এক হাজার ৪ হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে।

সিলেটে পাহাড়ী ঢল ও বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক সিলেট

সিলেটে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ বরছে। এরই মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসস্থলের একটি ডাইক (নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ) ভেঙে গেছে। এতে প্রবল বেগে পানি ঢুকে জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ভাঙনের ঘটনায় সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভারতের সীমান্তবর্তী বরাক নদের মোহনায় ডাইকটি ভেঙে গেছে। এর পর মুহূর্তেই জকিগঞ্জের ফিল্লাকান্দি, অমলশিদ, বারঠাকুরী, খাসিরচক, খাইরচক, বারোঘাট্টা, সোনাসারসহ বেশ কিছু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে অমলশিদ যাতায়াতের রাস্তাটিও পানিতে ডুবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে এ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ আছে।

ডাইক ভেঙে পানি ঢুকতে থাকায় আগে থেকেই প্লাবিত উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বরাক নদ থেকে প্রবল বেগে পানি এখন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে ঢুকছে।

অমলশিদ গ্রামের বাসিন্দা কৃষিজীবী আবুল হাসিম (৩৬) জানান, শুরুতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের ধাক্কায় ডাইকের ২০ ফুট ভেঙে গিয়েছে। ধীরে ধীরে পানির তোড়ে ডাইকটি আরও ভাঙতে থাকে। আজ শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ডাইকের কমপক্ষে ৬০ ফুট অংশ ভেঙে গিয়েছে। এ অবস্থায় ডাইকের ঠিক পাশেই অবস্থিত অমলশিদ ও ফিল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা প্রচুর ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। এ দুটি গ্রাম বেশি প্লাবিত হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে পাহাড়ি ঢল ঢুকে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। আজ শুক্রবার সকাল সোয়া নয়টায় জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ গ্রামেছবি : প্রথম আলো
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, সিলেট থেকে প্রায় ৯২ কিলোমিটার দূরে জকিগঞ্জের অবস্থান। এটি জেলার সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা। ভারতের করিমগঞ্জ জেলার বরাক নদের দুটি শাখা হচ্ছে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। এদের মিলনস্থল হচ্ছে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদ এলাকা। এই অমলশিদে একটি ডাইক আছে। বরাক থেকে পানি এসে প্রথমে সরাসরি এ ডাইকে আঘাত করে। এরপর পানি ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারায় প্রবাহিত হয়।

সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর মাধ্যমেই মূলত সিলেট বিভাগের প্রায় ১০০টি নদ-নদীতে পানি প্রবাহিত হয়। এখন ডাইক ভেঙে যাওয়ায় পানি কোনো বাধা না পেয়ে তীব্র গতিতে সরাসরি সুরমা ও কুশিয়ারায় গিয়ে ঢুকছে। ফলে পুরো সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

জকিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পল্লব হোম দাস প্রথম আলোকে বলেন, ডাইকটি ভেঙে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। এতে নতুন করে উপজেলার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ডাইক ভেঙে যাওয়ায় সিলেটের অন্যান্য উপজেলায়ও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে।

আগের রাতের ভারী বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বেশ কিছু স্থানে পানি বাড়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, সিলেটের সুরমা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি আজও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বানভাসি মানুষেরা বলছেন, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুর্ভোগও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাড়িঘরে পানি উঠে পড়ায় অনেকে মাচা বেঁধে থাকছেন। বেড়েছে পানিবাহিত রোগ-ব্যধিও। সাপ, জোঁক ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে বলে বানভাসি মানুষেরা জানিয়েছেন।

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতিতে কালবৈশাখী: বেড়েছে দুর্ভোগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
                                  

মুফিজুর রহমান নাহিদ:
বন্যা পরিস্থিতির মাঝে পুরো সিলেট বিভাগে বয়ে গেছে কালবৈশাখী। বুধবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে সিলেট বিভাগে। এতে কোথাও কোথাও ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিলেট জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও সিলেট নগরীর কয়েকটি এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। পানির নিচে তলিয়ে আছে বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকার রাস্তাঘাট। এসব এলাকার অধিকাংশ বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে আছেন বাসিন্দারা। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও শৌচাগারের অভাবে অনেকে তাদের বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্যস্থানে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে খবর নিয়ে জানা যায়, সিলেট সদর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর, দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। প্লাবিত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও বাঁধ ও পাকা রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন লোকজন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, ঔষধ, জ্বালানি তেলের দোকান পানির নিচে থাকায় এসব উপজেলায় মানবিক বিপর্যয়ের শংকা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেটের বিদ্যুৎব্যবস্থা। জেলার লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। সিলেট নগরীতে অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহক এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গেল দুইদিন ধরে। সিলেটে বরইকান্দি সাবস্টেশন ও শাহজালাল উপশহরে একটি ফিডার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশন পুরো চালু করা সম্ভব নয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তাহিরপুরে বজ্রপাতে ৩ শিশু নিহত
                                  

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুর ১২টায় জেলার তাহিরপুর উপজেলার সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের পাশে বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো- উপজেলার ৫নং বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের ফজ রহমানের মেয়ে রিপা বেগম (১২), একই গ্রামের আব্দুল হালিমের মেয়ে তাওহীদা বেগম (১১), আব্দুল আজিজের ছেলে আমিরুল ইসলাম (১১)।

আহতরা হলেন- আব্দুল আওয়ালের মেয়ে আলিমা বেগম (৯), আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সাদিয়া বেগম (৭), মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে হবি রহমান (৪০) ও আব্দুল আজিজের মেয়ে রিয়া বেগম (১০) সহ আরো ৭/৮ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হবি রহমান ও রিয়া বেগমকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং আলিমা বেগম ও সাদিয়া বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের সামনের হাওরে বাদাম ক্ষেতে বাদাম তুলতে যায় শিশুসহ ২০/৩০ জনের একটি দল। এ সময় হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুরু হয় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত। বজ্রপাতের সময় অনেকেই দৌঁড়ে বাড়ি যেতে পারলেও ৮/১০ জন বজ্রপাতের ঘটনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এসে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বাদাঘাট বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ তরফদার বজ্রপাতের ঘটনায় তিন শিশু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে তিন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম।

কানাইঘাটে বন্যায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী
                                  

কানাইঘাট প্রতিনিধি:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। নতুন করে রাতের বেলা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা লোভা ও সুরমা নদীর ঢলে ৫ম দিনের মতো উপজেলা সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অনকেটা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। গোটা উপজেলার ৯৫ ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঝুকিপূর্ণ সুরমা ডাইকে ভাঙণের যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রামীণ  রাস্তাঘাট ডুবে ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্বিষহ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অপ্রতুল ত্রাণ সামগ্রীর কারণে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ।
 
গতকাল বুধবার সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৫৯ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ১৪২ সে. মি.। মঙ্গলবার সকালের দিকে পানি হু হু করে বাড়লেও রাতের বেলা পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে ২ থেকে ৩ ফুট নেমে যায়, কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে বুধবার সকাল থেকে বন্যার পানি আবার বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই কানাইঘাট বাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলা রোড থেকে শুরু করে প্রশাসন পাড়ায় তীব্র স্রোতে পানি ঢুকতে থাকে। অনেক এলাকা নতুন করে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়, যা অনেকে বলছেন ২০০৪ সালের বন্যা অতিক্রম করেছে এবারের ভয়াবহ বন্যা। বিশেষ করে কানাইঘাট সদরের সাথে সিলেট শহরের তিনটি যোগাযোগ সড়কের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ ভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ৫ দিন থেকে বন্ধ থাকার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। ১৭টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি উচু স্থানে অবস্থিত অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে ২ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
 
গত মঙ্গলবার দিনভর উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির বেশ কিছু বন্যা দুর্গত এলাকা স্পিডবোট নিয়ে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি। এ সময় তিনি বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও ত্রাণের চাল বিতরণ করেন। এখন পর্যন্ত সরকারি ভাবে কানাইঘাট উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৩৯ মেট্রিক টন চাল, কয়েক’শ শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের ফান্ড থেকে আরো শুকনো খাবার কিনে বিতরণ করা হবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জি জানান। তিনি বলেন, বন্যা হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উপজেলাবাসী ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। অনেক বন্যা দুর্গত এলাকায় গিয়ে মানুষের দুঃখ দুর্দশা আমি দেখেছি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কিন্তু তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা বরাদ্দকৃত ত্রাণ বন্যা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।
 
এ দিকে সচেতন মহল জানিয়েছেন, উপজেলার ৯টি ও পৌর সভার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় ও নৌকার চরম সংকট থাকার কারনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে পারছেন না। তাদেরকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

রাজনগরে সমাজ সেবা অধিদফতরের উদ্যোগে ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ
                                  

মোস্তফা বকস্, রাজনগর প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ৪২ রোগীর মাঝে সমাজ সেবা অধিদফতরের পক্ষ থেকে ২১ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মে) দুপুর ১২ টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগীদের হাতে চেক তুলে দেয়া হয়।
 
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।

উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান খাঁন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলাল মিয়া, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন বখত, রাজনগর থানার পরিদর্শক তদন্ত রতন দেবনাথ, রাজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ছানা, ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ দাশ, উত্তরভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিগেন্দ্র সরকার চঞ্চল, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।  

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, সমাজসেবা অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন কর্মসূচির অংশহিসেবে অসহায় রোগীদের মাঝে অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সরকারের এ সহযোগিতা দেয়া হয়।

আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির অধীনে এবার ৪২ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ২১ লাখ টাকা অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।


   Page 1 of 96
     সিলেট
মহানগর আ.লীগ মানবিকতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে : অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন
.............................................................................................
বন্যাপরবর্তী সময়েও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
.............................................................................................
হবিগঞ্জে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
.............................................................................................
সাঁতার কেটে নদী পার হতে গিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেল থেকে ছাত্রীর লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে সিলেটের বন্যা কবলিতরা
.............................................................................................
সিলেটে পানি কমলেও বালাগঞ্জে পানি বাড়ছে
.............................................................................................
জগন্নাথপুরে যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু
.............................................................................................
রাতে বানবাসীদের কাছে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে গেলেন অধ্যাপক জাকির
.............................................................................................
কমতে শুরু করেছে সুরমার পানি, বিশুদ্ধ পানি সংকটে দুর্গতরা
.............................................................................................
সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী
.............................................................................................
সিলেটে পাহাড়ী ঢল ও বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে
.............................................................................................
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতিতে কালবৈশাখী: বেড়েছে দুর্ভোগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
.............................................................................................
তাহিরপুরে বজ্রপাতে ৩ শিশু নিহত
.............................................................................................
কানাইঘাটে বন্যায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দী
.............................................................................................
রাজনগরে সমাজ সেবা অধিদফতরের উদ্যোগে ২১ লাখ টাকার চেক বিতরণ
.............................................................................................
সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ
.............................................................................................
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি ১৫ লাখ মানুষ
.............................................................................................
নগরীর বন্যাকবলিত ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন অধ্যাপক জাকির
.............................................................................................
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সিলেট মহানগর আ.লীগের আলোচনা সভার স্থান পরিবর্তন
.............................................................................................
“উজাই মারা” উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল
.............................................................................................
শেখ হাসিনা’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: সিলেট মহানগর আ.লীগের কর্মসূচী
.............................................................................................
ফের গোয়াইনঘাটে বন্যা
.............................................................................................
মৌলভীবাজারে ১৮ রোহিঙ্গা আটক
.............................................................................................
করোনা টিকা নিয়ে পঙ্গু হওয়ার পথে স্কুলছাত্রী
.............................................................................................
৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল
.............................................................................................
সিলেটে বিদ্যুৎ লাইন চালু রেখে সংস্কার কাজ করতে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু
.............................................................................................
জাফলং কাণ্ডে ‘গোয়াইনঘাট এসোসিয়েশন অব মিশিগান’র নিন্দা-প্রতিবাদ
.............................................................................................
সিলেটে কোটি টাকার ভারতীয় কসমেট্রিকস জব্দ
.............................................................................................
সিলেটজুড়ে ভোজ্য তেলের আকাল
.............................................................................................
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন: এহছানে এলাহী
.............................................................................................
বিশ্বনাথে মাঠে মাঠে সোনালী ধানে কৃষককের মুখে হাসি
.............................................................................................
প্রয়াত নেতা মুহিতের মাগফেরাত কামনায় সিলেট মহানগর আ.লীগের দোয়া মাহফিল
.............................................................................................
মজুমদারের মৃত্যুতে সিলেট মহানগর আ.লীগের শোক
.............................................................................................
সিলেটে মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়াতে অধ্যাপক জাকিরের আহবান
.............................................................................................
রাজনগর থানা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
.............................................................................................
আজমিরীগঞ্জে অবৈধ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস
.............................................................................................
জগন্নাথপুরে ঈদের বাজারে উপচেপড়া ভীড়
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল জব্দ, আটক ২
.............................................................................................
তাহিরপুরে সাংবাদিক আবু জাহানের উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা
.............................................................................................
সিলেটজুড়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডব : ৩ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
সিলেট তামাবিল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ২
.............................................................................................
দিরাইয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
.............................................................................................
তাহিরপুর সীমান্তে কোয়ারীর মাটি চাপায় যুবক নিহত
.............................................................................................
জাফলংয়ের ডাউকি নদী থেকে ভারতীয় যুবকের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
সিলেটে দিকে বয়ে আসছে ভয়াবহ বন্যা
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে হেযবুত তওহীদের ইফতার মাহফিল
.............................................................................................
পানি ঢুকে পড়েছে আধারখালি হাওরে; শঙ্কিত কৃষক
.............................................................................................
সিলেটে সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
.............................................................................................
রূপপুর প্রকল্পে আবারো বেলারুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT