বৃহস্পতিবার, ২৬ মে 2022 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক-২০২১ এ তিন ধাপ উন্নতি ঘটেছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তৈরি এই সূচকে বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার ডব্লিউইএফ ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২১ : রিবিল্ডিং ফর এ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই সূচক প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটলেও প্রতিবেশি ভারতের ৮ ধাপ অবনতি ঘটেছে। দেশটি ২০২০ সালে এই সূচকে ৪৬তম অবস্থানে থাকলেও ২০২১ সালে ৫৪তম স্থানে ঠাঁই পেয়েছে।

ডব্লিউইএফের ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা ৭৪তম এবং পাকিস্তান ৮৩তম অবস্থানে আছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ পেছনে আছে নেপাল; দেশটির অবস্থান ১০২তম।

সূচকে সবার শীর্ষে জাপান এবং একেবারে তলানিতে রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ (১১৭তম)। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক অংশে দুই বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর ধকল কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার এই ধারায় শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, স্পেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি।

তবে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ এখনও প্রাক-মহামারি পর্যায়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংস্থা বলেছে, টিকাদানের ব্যাপক হার, অধিক উন্মুক্ত ভ্রমণে প্রত্যাবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি প্রবল হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২য়) ছাড়া শীর্ষ স্থানে থাকার ১০টি দেশই ইউরোপ, ইউরেশিয়া অথবা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দেশ।

সূচকে শীর্ষে রয়েছে জাপান। এছাড়া আঞ্চলিক অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর যথাক্রমে ৭ম ও ৯ম স্থানে আছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ১২ ধাপ উন্নতি ঘটে ইতালি (১০ম) এবার এই সূচকের শীর্ষ দশে ঢুকে গেছে। আগের বছর কানাডা এই সূচকের ১০তম স্থানে থাকলেও এবার ১৩তম অবস্থানে নেমে গেছে।

শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আছে, স্পেন (৩য়), ফ্রান্স (৪র্থ), জার্মানি (৫ম), সুইজারল্যান্ড (৬ষ্ঠ) এবং যুক্তরাজ্য (৮ম)। তবে এবারের সূচকে আফগানিস্তান, ভূটান এবং মালদ্বীপ জায়গা পায়নি।

বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক-২০২১ এ তিন ধাপ উন্নতি ঘটেছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) তৈরি এই সূচকে বিশ্বের ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার ডব্লিউইএফ ‘দ্য ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স-২০২১ : রিবিল্ডিং ফর এ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিজিলিয়েন্ট ফিউচার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই সূচক প্রকাশ করেছে। দেশগুলোর ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

বৈশ্বিক এই সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটলেও প্রতিবেশি ভারতের ৮ ধাপ অবনতি ঘটেছে। দেশটি ২০২০ সালে এই সূচকে ৪৬তম অবস্থানে থাকলেও ২০২১ সালে ৫৪তম স্থানে ঠাঁই পেয়েছে।

ডব্লিউইএফের ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কা ৭৪তম এবং পাকিস্তান ৮৩তম অবস্থানে আছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ পেছনে আছে নেপাল; দেশটির অবস্থান ১০২তম।

সূচকে সবার শীর্ষে জাপান এবং একেবারে তলানিতে রয়েছে আফ্রিকার দেশ চাদ (১১৭তম)। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক অংশে দুই বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আর ধকল কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার এই ধারায় শীর্ষে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, স্পেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি।

তবে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ এখনও প্রাক-মহামারি পর্যায়ের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংস্থা বলেছে, টিকাদানের ব্যাপক হার, অধিক উন্মুক্ত ভ্রমণে প্রত্যাবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ ও প্রকৃতি-ভিত্তিক পর্যটনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এই খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর গতি প্রবল হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (২য়) ছাড়া শীর্ষ স্থানে থাকার ১০টি দেশই ইউরোপ, ইউরেশিয়া অথবা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দেশ।

সূচকে শীর্ষে রয়েছে জাপান। এছাড়া আঞ্চলিক অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুর যথাক্রমে ৭ম ও ৯ম স্থানে আছে। ২০১৯ সালের তুলনায় ১২ ধাপ উন্নতি ঘটে ইতালি (১০ম) এবার এই সূচকের শীর্ষ দশে ঢুকে গেছে। আগের বছর কানাডা এই সূচকের ১০তম স্থানে থাকলেও এবার ১৩তম অবস্থানে নেমে গেছে।

শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে আছে, স্পেন (৩য়), ফ্রান্স (৪র্থ), জার্মানি (৫ম), সুইজারল্যান্ড (৬ষ্ঠ) এবং যুক্তরাজ্য (৮ম)। তবে এবারের সূচকে আফগানিস্তান, ভূটান এবং মালদ্বীপ জায়গা পায়নি।

বাজেটের আগেই বাড়ল সিগারেটের দাম
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
শেষের দিকে চলতি অর্থবছরের মেয়াদ। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজও ইতিমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী জুনে জাতীয় সংসদে পাশ হয়ে জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

প্রতি বছরই বাজেটের পরে তামাকজাত পণ্যের উপরে প্রভাব পরে। তবে এবার বাজেটের আগেই সেই প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আসন্ন প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনার আগেই বাজারে বেড়েছে সিগারেটের দাম। প্রতি শলাকা বেনসন সিগারেট এক টাকা বেড়ে ১৬, আর গোল্ডলিফ এক টাকা বেড়ে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোববার (২২) মে রাজধানীর বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে এই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

আগে যে মার্লবোরো সিগারেট প্রতি পিস ১৫ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রয়েল, ডার্বি, হলিউড ও লাকি স্ট্রাইকের প্রতি শলাকা বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা মতো সিগারেট মিলছে না। ডেলিভারি দেওয়া বন্ধ রয়েছে সিগারেট।

ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় খুচরা দোকানে সিগারেট বিক্রি করেন দ্বীন ইসলাম। তিনি বলেন, বাজেটের আগেই হঠাৎ করে বাজারে সিগারেটের সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সিগারেট সরবরাহ পাচ্ছি না। ফলে সিগারেট কিনতেও হচ্ছে বাড়তি দামে, বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।

এদিকে সিগারেট সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা নিয়মিত সিগারেট সরবরাহ করছেন। বাজেটের পর বাড়তি দাম পাওয়া যাবে এই আশায় সিগারেট লুকিয়ে রাখছেন খুচরা বিক্রেতারা। তারাই বাজারে তৈরি করছেন কৃত্রিম সংকট।

সিগারেটের দাম বৃদ্ধির খবরে ক্ষুব্ধ ধূমপায়ীরা। তাদেরই একজন ইমদাদুল হক বলেন, বাজেটের আগে ইচ্ছে করেই সিগারেট লুকিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। সয়াবিন তেলের পরে এবার সিগারেটেও নজর পড়েছে তাদের।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপের পথে সাতক্ষীরার আম
                                  

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
তৃতীয় দফায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপের বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো সাতক্ষীরার আম। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর এলাকার কৃষক কবিরুল ইসলাম ডাবলুর আম বাগান থেকে সরকারি নিয়ম মেনে ২ হাজার কেজি (২ মেট্রিকটন) হিমসাগর আম লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। আর বিদেশে আম পাঠাতে পেরে খুশি আম চাষীরা। এর আগে গত ১৪ মে এসিআই লজিষ্টিক লিঃ এর মাধ্যমে ১০০ কেজি গোবিন্দভোগ আম হংকংয়ে এবং ১৬ মে জিয়েল ইন্টারন্যাশনাল লিঃ এর মাধ্যমে ৪০০ কেজি হিমসাগর আম লন্ডনে রপ্তানি করা হয়। এবছর সাতক্ষীরা জেলা থেকে ১০০ মেট্রিকটন আম বিদেশের বাজারে যাচ্ছে বলে জানা গেছে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে।। আমের স্বাদ ও মান ভাল হওয়ায় রপ্তানীও বাড়ছে সাতক্ষীরার আম।

এ সময় আম রপ্তানির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান জিয়েল ইন্টার ন্যাশনাল লিমিটেড এর মাধ্যমে এ আম রপ্তানি করা হচ্ছে।
 
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলাম, জেলা বিপনন কর্মকর্তা সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ^াস, উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘সফল’ প্রকল্পের সহায়তায় সাতক্ষীরা থেকে নিরাপদ আম রপ্তানী করা হয়।
 
সাতক্ষীরা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম জানান, এর আগে ২০১৪ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম রপ্তানী হচ্ছে ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানী, লন্ডন, ইটালি ও পর্তুগালে। সারা বাংলাদেশ থেকে এবার ৬০০ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানী হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা থেকে ১০০ মেট্রিক টন গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি হওয়ার কথা রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ বান্ধব আম চাষের জন্য ৫০০ চাষীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলায় ১৩ হাজার ১০০ জন আম চাষীর ৫ হাজার ২৯৯ টি বাগান রয়েছে। তিনি আরো জানান, জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধরন করা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিকটন।
 
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, সাতক্ষীরা আমে একটি সুনাম রয়েছে দেশ জুড়ে। দিন দিন আন্তজার্তিক বাজারেও সাতক্ষীরার আমের চাহিদা বেড়েছে। ইরাক ও আরব আমিরাতে সাতক্ষীরার আম নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আন্তজার্তিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশে আরো বেশী সাতক্ষীরার আম রপ্তানী করতে পারলে আরো বেশী বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ সময় কোন রকম ক্যামিক্যাল না মিশিয়ে কৃত্রিম উপিায়ে আম চাষ করার জন্য চাষীদের কাছে আহবান জানান।

কৃষিসম্পসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা থেকে নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত আমসহ অন্যান্য সবজির ধারাবাহিক রপ্তানী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাগদা চিংড়ি পেলো জিআই সনদ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পেয়েছে বাগদা চিংড়ি। সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর এ স্বীকৃতি প্রদান করে। অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জনেন্দ্র নাথ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দশম পণ্য হিসেবে ভৌগোলিক নির্দেশক সনদ পেয়েছে বাগদা চিংড়ি। গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফজলি আমও সনদ পাওয়ার কথা ছিল, সেটি এখনও শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক বলেন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি জিআই সনদ পেয়েছে। তবে অন্যান্যবার আমরা যেভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদটি রিসিভ করি এবার কিন্তু তারা ডাকযোগে আমাদের সনদটি পাঠিয়েছে। এর ফলে ভালো ব্র্যান্ডিং হয়। জিআই সনদ পাওয়ার ফলে এটি আমাদের হয়ে থাকলো। এটা আর কেউ ক্লেম করতে পারবে না। বাগদা চিংড়ির মান কিন্তু বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি কোয়ালিটি। এর কালার, ফ্লেভার খুবই ভালো। এমনিতেও এই চিংড়ির দাম অন্যান্য চিংড়ির তুলনায় বেশি, তবে সামনে সেটি আরও বাড়বে। গলদা চিংড়ি নিয়েও আমরা এখন কাজ করবো।

বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় কালো ডোরাকাটা বাগদা চিংড়ির চাষ শুরু হয় প্রায় ১০০ বছর আগে। গত শতকের সত্তরের দশকের পর বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়তে শুরু করলে বাংলাদেশেও বাগদা চাষের সম্প্রসারণ ঘটে। আশির দশকে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের তালিকায় যুক্ত হয় এ চিংড়ি।

বিশ্ববাজারে বাগদা চিংড়িকে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে ২০১৯ সালের মে মাসে মৎস্য অধিদপ্তর জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর সরকারের পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর গেজেট জারি করে এবং দুটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করে।

নিয়ম অনুযায়ী জার্নালে প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে কেউ আপত্তি না করলে সেই পণ্যের জিআই সনদ পেতে আর কোনো বাধা থাকে না। বাগদার ক্ষেত্রে সেই সময় গত ৬ ডিসেম্বর শেষ হয়। এর মধ্যে কেউ আপত্তি তোলেনি জানিয়ে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর।

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন- জিআই) হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে। কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে বাংলাদেশের পেটেন্টস, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক বিভাগ (ডিপিডিটি) জিআই সনদ দেয়। দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের কারণ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববাজারে এই খাদ্যশস্যের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার মাঝেই ভারতের রপ্তানি নিষিদ্ধের এই ‘সুরক্ষাবাদী’ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বের উন্নত সাত দেশের জোট জি৭ কড়া সমালোচনা করেছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী ভারত বলেছে, ‘ব্যবসায়ীরা কেবল সরকারি অনুমোদন নিয়ে নতুন রপ্তানি চুক্তি করতে পারবে।’

গত ১৩ মে দেশটির সরকারি এক আদেশে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে যেসব ঋণপত্র ইস্যু হয়েছে এবং যেসব দেশ খাদ্যনিরাপত্তার জন্য রপ্তানির অনুরোধ জানিয়েছে, সেই দেশগুলোতে এখনও গম রপ্তানির অনুমতি দেবে নয়াদিল্লি।

আগে ভারতের নীতি কী ছিল?

এর আগে, ভারত বলেছিল, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ ঘাটতির কিছুটা পূরণে সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে নয়াদিল্লি। বিশ্ববাজারে গমের মোট রপ্তানির প্রায় ১২ শতাংশ ভারতের।

দেশটির সরকার চলতি অর্থবছরে বিশ্ববাজারে গম রপ্তানি ৭০ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টন করার পরিকল্পনা করেছে। গত এপ্রিলে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযুশ গয়াল বলেছিলেন, ‌আমাদের কৃষকরা শুধু ভারত নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের গমের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রাখছেন।

গত সপ্তাহে ভারত জানায়, গম রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে মিসর, তুরস্ক এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রতিনিধি পাঠাবে নয়াদিল্লি। তবে এই সফর এখন হবে কি-না সেটি স্পষ্ট নয়।

গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা কেন?

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দরিদ্র এই দেশটিতে মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কিছু কিছু অঞ্চলে গমের দাম বেড়েছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা কোনও কোনও এলাকায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রোববার দেশটির বাণিজ্যসচিব বিভিআর সুব্রাহ্মনিয়াম জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক দাম বৃদ্ধির কারণে দেশটির কিছু কৃষক সরকারের কাছে গম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে এই খাদ্যশস্য বিক্রি করছে।

এর ফলে সম্ভাব্য যেকোনও দুর্ভিক্ষ এড়াতে এবং মহামারিতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া লাখ লাখ পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্যে ২ কোটি টন গম মজুতের পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির সরকার চিন্তিত।

বিভিআর সুব্রাহ্মনিয়াম বলেছেন, গম অনিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় রপ্তানি অথবা মজুত করা হোক আমরা সেটি চাই না। বরং ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা আছে, এমন দেশে সরকারের অনুমতি নিয়ে গমের রপ্তানি করা যাবে।

ভারতে দাবদাহ কেমন?

ভারতে চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস হিসেবে মার্চকে রেকর্ড করা হয়েছে। যা অনেকাংশে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটিতে তাপদাহ ক্রমান্বয় বাড়ছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রোববার রাজধানী নয়াদিল্লিতে তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

দিল্লির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মুঙ্গেশপুর ও দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪৯ দশমিক ২ এবং ৪৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিল্লির বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র দাবদাহ দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর গমের উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। যে কারণে দেশটির সরকার ২০২১ সালের ১০৯ মিলিয়ন টনের তুলনায় চলতি বছরে গমের উৎপাদন কমপক্ষে ৫ শতাংশ কম হবে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছে।

প্রতিক্রিয়া কেমন?

জার্মানিতে এক বৈঠকে অংশ নিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর জোট জি৭ এর কৃষিমন্ত্রীরা ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জার্মানির খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী সেম ওজদেমির বলেছেন, ‘যদি প্রত্যেকে রপ্তানি বিধি-নিষেধ আরোপ করতে শুরু করে অথবা বাজার বন্ধ করে দেয়, তাহলে সঙ্কট আরও বাড়বে।’

সোমবার ইউরোপীয় বাজারে গমের দাম বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই অঞ্চলে প্রতি টন গমের দাম বেড়ে ৪৩৫ ইউরোতে পৌঁছেছে।

ভারত কী গমের বড় রপ্তানিকারক?

উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম হলেও বৈশ্বিক গমের বাজারে ভারতের অবস্থান একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে। কারণ দেশটিতে উৎপাদিত গমের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই ব্যবহৃত হয়। গত বছর দেশটির মোট গম রপ্তানির অর্ধেকেই গেছে প্রতিবেশি বাংলাদেশে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে রাশিয়া এবং ইউক্রেন ৫ কোটি ৩০ লাখ টন গম এবং মেসলিন (গম ও রাইয়ের মিশ্রণ) রপ্তানি করলেও ভারত এক কোটি টন রপ্তানির পূর্বাভাষ দিয়েছিল।

কিন্তু গুনগত মান নিয়ে উদ্বেগ এবং শস্য ক্রয় সম্পর্কে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের কারণে দেশটির রপ্তানি সীমিত করা হয়।

তাহলে প্রভাব এত বেশি কেন?

ইউক্রেন সংঘাতের পর সরবরাহ বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় বিশ্বব্যাপি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। যা বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে দুর্ভিক্ষ এবং সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশ্বে ভারতের গম রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও রুশ-ইউক্রেন সঙ্কটের কারণে নিজের বিশাল মজুত থেকে রপ্তানির আশ্বাস দেওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।

দেশটির বাণিজ্যসচিব বিভিআর সুব্রাহ্মনিয়াম বলেছেন, কোনও আদেশই স্থায়ী নয়। যদি বিশ্বব্যাপি সরবরাহ এবং চাহিদা একই থাকে এবং আবারও দাম বৃদ্ধি পায়, তাহলে আদেশ পুনর্বিবেচনা করা হবে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি।

নানা সমস্যায় জর্জরিত বাঘাবাড়ি নৌবন্দর
                                  

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
    
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠার ৩৯ বছরেও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। অপরদিকে ৩৯ বছরে সরকারের বিআইডব্লিউটিএ রাজস্ব হারিয়েছে এক হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। বন্দরটি দিন দিন নানা সমস্যায় জর্জড়িত হয়ে পড়েছে। এখানে নেই কার্গো জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের পর্যাপ্ত জেটি, গুদাম ও সেট। এছাড়া এখানে নেই ট্রাকস্ট্যান্ড, উন্নত রাস্তাঘাট, জাহাজ শ্রমিক ও লেবারদের পৃথক পৃথক বিশ্রামাগার এবং খাবার ক্যান্টিন। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে তা বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখতে হয়। এতে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। পর্যাপ্ত যেটি না থাকায় পণ্য খালাসে বিলম্ব হয়। ফলে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ট্রাকস্ট্যান্ড না থাকায় যত্রতত্র দাড়িয়ে থাকায় বন্দরে প্রায়ই ট্রাক জটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া হাতের কাছে ট্রাক না পাওয়ায় পণ্য পরিবহণ বিলম্ব হয়। জাহাজ শ্রমিক ও পণ্য খালাসের লেবারদের বিশ্রমাগার ও খাবার ক্যান্টিন না থাকায় তারা সঠিক ভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না ও অমানবিকভাবে তাদের খোলা স্থানের মাটিতে অথবা কোন ঘরের বারান্দায় বসে খাবার খেতে হয়। রাস্তাঘাট উন্নত না হওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবহণকে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন বলেন, ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী ডা. এম এ মতিন এ বন্দরের উদ্বোধন করেন। এরপর ৩৯ বছর পার হলেও বন্দরটিকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। দ্বিতীয় শ্রেণির এ বন্দর চ্যানেলটিতে পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচলে সাড়ে ৭ ফুট পানির ড্রাফট প্রয়োজন হয়। কিন্তু নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ৬-৭ ফুটের বেশি পানির ড্রাফট থাকে না। ফলে সে সময়ে ৬-৭ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পণ্যবাহী জাহাজ এ বন্দরে আসতে পারে না। বন্দরটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হলে এ বন্দর চ্যানেলে ১২ থেকে ১৪ ফুট পানির ড্রাফট থাকবে। তখন খুব সহজে এ চ্যানেলে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কার্গো জাহাজ অনায়ায়েশে যাতায়াত করতে পারবে। এতে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় জ্বালানী তেল, রাসায়নিক সার, কয়লা, পাথর, রড, সিমেন্ট, ধান, চাল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহন খরচ অর্ধেক কমে যাবে। এছাড়া এ বন্দরটি প্রথম শ্রেণির হলে, এর রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হবে। তখন যানবহণের ক্ষতি হবে না। এখানে পণ্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত গুদাম ও সেড থাকবে। ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে গুদাম ও সেডে রাখা হবে। এতে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে পণ্যের গুণমান নষ্ট হবে না। অপরদিকে গুদাম ও সেড ভাড়া দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ৩ গুণ বেশি রাজস্ব আয় করবে। তিনি আরও বলেন, এ বন্দরে অন্তত ৬টি জেটির প্রয়োজন। সেখানে আছে ৩টি। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয়। কোনো কোনো জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য ১৫-২০ দিন অপেক্ষা করতে হয়। আবার লেবার খরচও বেশি পড়ে। এটা প্রথম শ্রেণির হলে জেটি সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ও যান্ত্রিক জেটি দ্বারা পণ্য খালাস হবে। এতে লেবার খরচ কম হবে ও সময় বেচে যাবে। তিনি বলেন এ বন্দরটি থেকে বিআইডব্লিউটিএ এখন প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে এর ৩ গুণ রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সে হিসাবে বিআইডব্লিউটিএ ৩৯ বছরে এ বন্দর থেকে রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এছাড়া জাহাজ শ্রমিক ও পণ্য খালাসে নিয়োজিত লেবারদের বিশ্রামাগার ও ক্যান্টিন না থাকায় জাহাজ শ্রমিকরা এ বন্দরে আসতে চায় না। ফলে এ বন্দরে আশানুরূপ জাহাজ আসে না। এতে বন্দর লেবার এজেন্ট হিসাবে আমাদের প্রতি বছর ২ থেকে ৩ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অপরদিকে লেবারদের ক্যান্টিনের অভাবে খোলা স্থানে বসে খাবার খেতে হয় ও গাছ তলায় বিশ্রাম নিতে হয়। প্রথম শ্রেণির হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বন্দরের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দরের পূর্ব পাশের প্রায় ৩৪ শতক ব্যক্তি মালিকানা জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের বছরে ৪ লাখ টাকা দিতে হয়। এটি প্রথম শ্রেণির হলে এবং ওই জায়গাটি বিআইডব্লিউটিএ অধিগ্রহণ করে নিলে আমাদের এ অতিরিক্ত অর্থদন্ড লাগবে না। তিনি বলেন, বন্দরটি প্রথম শ্রেণির করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তদবির করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান বাঘাবাড়িতে ২ বার এসে এটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। তারপরেও কোন কাজ হয়নি। তিনি বলেন, সর্বশেস গত ১৫দিন আগে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতাসহ নৌ প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেকের সাথে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দর শাখার পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, এ বন্দরটি প্রথম শ্রেণির না হওয়ায় এখানে বড় বড় জাহাজ আসতে পারে না। অপরদিকে এখানে জাহাজ শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত কোন সুবিধা না থাকায় শ্রমিকরা এ বন্দরে আসতে চায় না। যারা আসে তাদের বিশ্রমাগারের অভাবে চরম অসুবিধা পোহাতে হয়। তিনি এ বন্দরটি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত করে এ সমস্য সমাধানে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর লেবার সাগর আলী, সোবাহান আলী, মজনু মিয়া, নজরুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন জানান, বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে লেবারদের জন্য বিশ্রমাগার ও ক্যন্টিন না থাকায় আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। কাজ শেষে আমরা কখনো বিশ্রাম নিতে পারি না গাছ তলা বসে সময় কাটাতে হয়। ক্যান্টিনের অভাবে খোলাস্থানে বসে খাবার খেতে হয়। এ সমস্যা দূর করতে দ্রুত এ বন্দরটিকে তারা প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত করণের দাবী জানান।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এ বন্দরটির উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি একনেকে পাশ হলে অচিরেই এর কাজ শুরু হবে। তখন আর এ সমস্য গুলি থাকবে না। তিনি বন্দরটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করণের ব্যাপারে বলেন, এটা প্রথম শ্রেণিতে উন্নিত হোক তা আমরাও চাই। এটি হলে এখানে পণ্য খালাস ও সংরক্ষণের সুব্যবস্থা হবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে ও উত্তরবঙ্গর ১৬ জেলায় পণ্য সরবরাহ আরও সহজ হবে।

বাজার চড়া সবজিসহ রসুন-ডিমের দাম
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
গত কয়েকদিনের বৃষ্টির অজুহাতে বাজারে সব ধরনের সবজির সঙ্গে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামও। এর মধ্যে রসুন, ডিম, পেঁপে, টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচের দাম বেশি বেড়েছে। রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা। ডিম ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১০৫-১০৮ টাকা ছিল। টমেটো ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের গাজর ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রোববার (১৫ মে) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, শনিরআখড়া ও কাজলা কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। কাজলা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা আশরাফ হোসেন বলেন, ঈদের পরের সব সবজির দাম আনুপাতিক হারে বেড়েছে। কারণ সব মানুষ ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা আসায় চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে সবজির দামও বেড়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির একটা প্রভাবও রয়েছে।


কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী খবির উদ্দিন বলেন, পাইকারি বাজারেও সব পণ্যের দাম বেড়েছে। রাজধানীর শ্যামবাজারে রসুন ১৩৫ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ৭০-৮০ দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পরের সপ্তাহে টমেটোর কেজি প্রতি দাম ছিল ৪০ টাকা। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সজনে ৮০ টাকা, নতুন কচুমুখি ৮০ টাকা, করলা ৬০, পেঁপে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের পর পেঁপের দাম কেজি ছিল ৪০ টাকা।

পটল, মূলা, বরবটি ৫০ টাকা করে, ঢেঁডস, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা করে এবং বগুড়ার লাল আলু ৩০ টাকা, সাদা আলু ২০, শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে ও পরের সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা কেজি। অন্যদিকে মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, লাউ ৫০, ফুলকপি ৫০, বাঁধাকপি ৪০ এবং চাল কুমড়া ৪০ টাকা পিস হিসেবে এবং কাঁচা কলা ৪০ টাকা ও লেবু ২০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। কাপ্তান বাজারের সবজি ক্রেতা চাকরিজীবী সানোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কি আর বলবো ভাই। সব সবজিরই দাম বেশি। গত সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেছিলাম ২০ টাকায়। আজ কিনলাম ৩০ টাকায়। আরেক ক্রেতা সগির উদ্দিন বলেন, কখন যে কোন সবজির দাম বাড়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারি না। দোকানিরা যে দাম বলে আমাদের সেই দামেই কিনতে হয়। সরকারের পক্ষ থেকে কাঁচা বাজারও মনিটরিং করা উচিত।

বাজারে বসেই কচুর লতি বিক্রি করছেন কৃষক অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
বাজারে বসেই কচুর লতি বিক্রি করছিলেন ড. আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স নামের এক অধ্যাপক! বিষয়টি দেখে অনেকে আশ্চর্য হয়েছেন। কেউ ছবিও তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কচুর লতি নিয়ে বসে থাকা সেই অধ্যাপকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজারে। লতি বিক্রি করা সেই শিক্ষক বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান। পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করলেও কৃষিকে ভালোবেসে তিনি রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই কচুর লতি বিক্রি করা অবস্থায় অধ্যাপকের ছবিটি নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অধ্যাপক হয়েও তার কৃষিকাজ এবং সাধারণ জীবনকে বাহবা দিচ্ছেন সবাই।

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনসাম্বল থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, ছবির মানুষটি এমনিতেই বসে আছে। কিন্তু না, উনি নিজের উৎপাদিত কৃষিপণ্য গ্রামীণ হাটবাজারে বসে বিক্রি করছেন। ছবিতে দেখতে পাওয়া লোকটির নাম ড. আবু বকর সিদ্দিক। ডাকনাম প্রিন্স। লোকটি একজন আপাদমস্তক কৃষক। শহুরে আয়েশী জীবন ত্যাগ করে গ্রামেই নিয়মিত বসবাসে অভ্যস্ত হয়েছেন। দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ এবং পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।’

আবুল মনসুরের এই পোস্টটি তৎক্ষণাৎ ভাইরাল হয়ে যায়। ওই পোস্টে নাঈমা আফরিন তৃষা নামের একজন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। তারই উদাহরণ তিনি। শ্রদ্ধামাখা ভালোবাসা ও শুভ কামনা রইল।’

রাহাতুল ইসলাম নামে আরেক তরুণ লেখেন, ‘সুপ্রিয় স্যার, আপনি সেরা।’

ছবিটি শেয়ার করে পোস্ট দিয়েছেন ত্রিশালের কাঁঠাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানও। তার পোস্টটিও ভাইরাল হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক প্রিন্স বরিশালের ঝালকাঠির রাজাপুরের বাসিন্দা। তার বাবা ছিলেন একজন সেনা কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারসহ ঢাকায় আর্মি কলোনিতে থাকতেন। ২০০২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরে ২০০৮ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এআইইউবি থেকে কৃষি ব্যবসায় এমবিএ ডিগ্রি নেন। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল এবং ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডিও করেন তিনি।

বর্তমানে বরিশাল ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান প্রিন্স। পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। কৃষিকে ভালোবেসে এই গ্রামেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ৮ একর জমিতে গড়ে তুলছেন বিশাল কৃষি খামার।

বাজারে রসুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
আবারও বেসামাল হয়ে পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ থাকার পরও বিভিন্ন চক্রের কারসাজিতে একেক করে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। ঈদুল ফিতরের পর আবার দফায় দফায় দাম বাড়ছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের। তেল-পেঁয়াজের পরে এবার রসুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহেও যে রসুন বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা, এ সপ্তাহে এসে তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০-১০০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দেশি রসুনের কেজি বিক্রি করছেন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা একদিন আগেই ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কয়েকদিন আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে মিষ্টি কুমড়া, মুলা ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এ সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরে শসা, টমেটো, চিচিঙ্গা, পটল, বরবটি ও ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাল কুমড়া প্রতিপিস ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৩০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২৫-৩০ টাকা থেকে কয়েক দফা বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেল খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ২২০-২৫০ টাকায়, পাম অয়েল কেজিপ্রতি ১৯৫-২০০ টাকায় এবং বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৯৮০-৯৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৯০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০-৩১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ২৭০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১১৫ টাকা, প্রতি ডজন হাঁসের ডিমের ১৬০ টাকা এবং প্রতি ডজন দেশি মুরগির ডিম ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যস্ত বেনাপোল বন্দর, বাণিজ্য ও যাতায়াত বেড়েছে
                                  

শিমুল ইসলাম, যশোর জেলা প্রতিনিধি
বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত। ১ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪২৮ জন যাত্রী যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীর মধ্যে ভারতে গেছেন ১৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ১৫ হাজার ৫৩৯ জন।

করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও বেড়েছে।

জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের ৯ মাসে আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২৯৫ মেট্রিক টন পণ্য এবং ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তবে বন্দরে জায়গা সংকট আর যাত্রীসেবার বৈধ সুবিধাবঞ্চিত হয়ে ভোগান্তি বেড়েছে বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াতে।

ভারতগামী যাত্রী অনিমেস হালদার জানান, ভারত ভ্রমণে নানা শর্তের কারণে এত দিন ভারতে যাওয়া জরুরি দরকার হলেও তিনি যেতে পারেননি। তবে এখন সব শর্ত উঠে ভিসা সহজ হওয়ায় ভারতে যাচ্ছেন বেড়াতে। তবে বাংলাদেশে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবল কম থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টিতে ভুগতে হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধি আর যাত্রীছাউনি তৈরি করা হলে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, করোনার কারণে নানা শর্ত মানতে চাহিদামতো পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এখন শর্ত প্রত্যাহারে ঝামেলা কমেছে। কিন্তু বন্দরে জায়গা সংকট আর ক্রেন, ফর্কক্লিপের সমস্যায় পণ্য লোড-আনলোড ব্যাহত হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, গ্রহণ ও ভ্রমণ ভিসায় বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে। বাণিজ্য খাতে সরকারের ৬ হাজার কোটি টাকা ও ভ্রমণ খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আসে বেনাপোল বন্দর থেকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে আমদানি বাণিজ্য ও যাত্রী যাতায়াত আরও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, আমদানির চাহিদা বাড়ায় বন্দরে পণ্যজট বেড়েছে। জট কমাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারেন সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে প্যাসেনঞ্জার টার্মিনাল তৈরিতে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান এ বন্দর কর্মকর্তা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বাধীন বাংলাকে জানান, ১ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪২৮ জন যাতায়াত করেছে। এসব যাত্রীর মধ্যে ভারতে গেছে ১৮ হাজার ৫৮৯ জন। ভারত থেকে ফিরেছে ১৫ হাজার ৫৩৯ জন। যাত্রীসেবা বাড়াতে ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনে কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে।

ক্যানসার ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাউন্টারে সেবা দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা যাতে দ্রুত পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জার্মানির
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। এতে খাবারের দাম এরই মধ্যে আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী সভেনজা শুলজে সতর্ক করে জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্ভিক্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভয়াবহ হচ্ছে। করোনা মহামারি ও ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এর অন্যতম কারণ বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (৯ মে) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে সভেনজা শুলজে বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাটকীয়। কারণ এরই মধ্যে জাতিসংঘের খাদ্য সংস্থা জানিয়েছে, ৩০ কোটির বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধায় ভুগছে। তাছাড়া তাদের এই সংখ্যা কেবল বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, খাবারে দাম বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খারাপ সংবাদ হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন বিশ্ব। এতে লাখ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ৬ মে বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বের প্রায় আরও সাড়ে চার কোটি ক্ষুধার দিকে ঝুঁকছে।

কারণ যুদ্ধের পর ইউক্রেনের শস্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জানা গেছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট তৈরি করেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে মার্চে গমের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের প্রধান গম উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেন। বিশ্ব রপ্তানির ৩০ শতাংশ আসে দেশ দুইটি থেকে।

এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে। মস্কোর বিজয় দিবসের প্যারেডকে সামনে রেখে রাশিয়া এমন পরিকল্পনা করছে বলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চায় মার্কিন ব্যবসায়ীরা
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশের উন্নয়নের পথযাত্রায় অংশীদার হতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। সোমবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এফবিসিসিআই ও ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস সামিটে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন তারা।

ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ সম্মেলনে অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের সুবর্ণ সময় চলছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই স্পিড ট্রেন, সমুদ্র অর্থনীতি, হাইটেক পার্ক, দেশজুড়ে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারণে বাংলাদেশকে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর অব্যাহতি, ডিউটি ড্র ব্যাকসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সফররত মার্কিন উদ্যোক্তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি টার্মিনাল, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো ওয়্যারহাউজ অ্যান্ড কোল্ড চেইন, এভিয়েশন, শিপিং ও বন্দর, অটোমোবাইল, হোটেল ও হসপিটালিটি, ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, ম্যান মেড ফাইবার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

অনুষ্ঠানে শেভরনের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মিশন লিড জে আর প্রায়র বলেন, বাংলাদেশ অসাধারণ অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। খুব বেশি দেশ শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিতে পারেনি। বাংলাদেশ এই সাফল্য অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর দক্ষতা, সক্ষমতা রয়েছে।

বাংলাদেশের ভিশন ২০৪১ অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা দুদেশের সহযোগিতার সম্পর্ক দৃঢ় করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা খুবই আশাবাদী। সে কারণেই প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে এসেছেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা বলেন, বাণিজ্য প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, দুদেশের বাণিজ্য ৯ বিলিয়ন ডলার। যা সম্ভাবনার তুলনায় কম। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে প্রতিনিধি দল কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রিক্যাল কম্পোনেন্টস আইওটি ও স্বাস্থ্যখাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের ভালো সুযোগ রয়েছে।

এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি এম এ মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সিইপিএ চুক্তি সইয়ের জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে একটি আদর্শ দেশ। বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা নিতে পারেন মার্কিন উদ্যোক্তারা।

ফিকির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় জানান, বাংলাদেশে যেসব বিদেশি কোম্পানি রয়েছে, প্রত্যেকেই খুব মুনাফা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদেরও এ সুযোগ নেওয়া উচিত।

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের দাম তুলনামূলক কম বলে জানান বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির আহ্বান জানান তিনি।

বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, বাংলাদেশের ইউইসএ সার্টিফায়েড অনেকগুলো ফার্মেসি প্লান্ট রয়েছে। এ দেশের ওষুধ কারখানাগুলো বিশ্বমানের যন্ত্র দিয়ে সজ্জিত। এছাড়াও দেশের শ্রমশক্তিও তুলনামূলক সস্তা। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানির বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে আদর্শ গন্তব্য।

এ সময় তুলা আমদানিতে ফিউমিগেশন পদ্ধতি বাতিলের আহ্বান জানান বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।

অনুষ্ঠানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআই ও ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২৪০ টাকাতেও মিলছে না, সয়াবিন তেল গেল কোথায়
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
নতুন করে দাম বাড়ানো হয় সয়াবিন তেলের। শনিবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরপরই বাজার থেকে প্রায় ‘উধাও’ হয়ে যায় রান্নার এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটি। সরজমিন রাজধানীর কাওরান বাজারসহ বেশকিছু এলাকায় বেশির ভাগ দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। কিছু দোকানে মিললেও দোকানি হাঁকেন বাড়তি দাম। আবার তা ক্রেতার চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অথচ ভোজ্য তেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি বাজারে তেলের কোনো সংকট বা ঘাটতি নেই।

এদিকে সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে ৩৮ টাকা বাড়ানোর পর এবার সরিষার তেলের দামও বাড়ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই খোলা তেল লিটারে ৬০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মিল মালিকরা। আগামী রোববার থেকে নতুন দর কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৭-১৮ সালে দেশে তৈল বীজের মোট উৎপাদন হয়েছিল ১০.২৬ লাখ টন, যা ওই বছরের মোট চাহিদার মাত্র ৩৫ শতাংশ। ২০১৯-২০ সালে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হয়েছিল ৯.৭২ লাখ টন, যা ওই বছরের মোট চাহিদার মাত্র ১১.৭৫ শতাংশ

বাকিটা আমদানি করে বাজারে সরবরাহ করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত মার্চ ও এপ্রিল- এই দুই মাসে সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ৯২ হাজার টন। আমদানি কমেছে পাম তেলেরও। গত মার্চ ও এপ্রিল- দুই মাসে পাম তেল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার টন। একই সময়ে বাজারজাত হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছর একই সময়ে আমদানি হয় ২ লাখ ৬৭ হাজার টন। আর বাজারজাত হয় ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। সব হিসাবে আগের তুলনায় আমদানি ও বাজারজাত দুটোই কমেছে।

এনবিআর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২১ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল (শিল্প খাতে) সুবিধায় আমদানি হওয়া ১৮ লাখ ১৮ হাজার টন (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) ভোজ্য তেলের শুল্কায়ন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শুল্কায়ন বিবেচনায় টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপের অধীনে আমদানি হয়েছে ভোজ্য তেলের ৮৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকায় আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ এবং পাম সুপার ১৭২ টাকা দরে বিক্রি করতে ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। ভোজ্য তেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মালিকদের এই সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার থেকে নতুন দামে ভোজ্য তেল বিক্রির কথা। তবে ক্রেতাদের অনেকেই ভোজ্য তেল কিনতে এসে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সয়াবিন তেল না পেয়ে তাদের কেউ কেউ সরিষার তেল, রাইসবার্ন, সূর্যমুখী তেল কিনেছেন। তবে এসব তেলের দাম বেশি হওয়ায় হাতেগোনা কিছু ক্রেতাকেই সেগুলো কিনতে দেখা গেছে।

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমানের মতে, আমদানিনির্ভরতা নয়, তৈলবীজের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। দেশে ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫২ লাখ টন। এর অধিকাংশই আমদানিনির্ভর। বছরে ৪৮ লাখ টন ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়।

শীর্ষ আমদানিকারক টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যথেষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করছেন। সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, তারা প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টন সয়াবিন ও পাম তেল সরবরাহ করেন। গত এপ্রিলের ২৬ দিনে সয়াবিন ও পাম তেল মিলিয়ে ৪৭ হাজার ৭৮৮ টন সরবরাহ করেছি।  তার প্রশ্ন এই তেল কোথায় যায়?

গরিবের বাজারে ২৪০ টাকা লিটার তবুও মিলছে না সয়াবিন
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ায় অবস্থিত গরিবের বাজার। অসহায় আর খেটে খাওয়া মানুষের সুপারশপ। এখানে ১০ টাকায়ও পণ্য মেলে। ছোট ছোট প্যাকেটে হরেক রকম নিত্যপণ্যের পসরা সাজানো থাকে এই বাজারে। যার প্রতি প্যাকেট মূল্য ৫ টাকা, ১০ টাকা বা ২০ টাকা। সারা দেশে ভোজ্য তেলের সংকটেও গরিবের বাজারের দুই দোকানে মিললো খোলা সয়াবিন। এর মধ্যে এক দোকানির নাম হাছিনা বেগম। প্রতিবেদক তার কাছে ১০ টাকার তেল চাইতেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন এই বিক্রেতা। বললেন, ‘এখন ১০-২০ টাকার সয়াবিন তেল আছে? তেলের দাম আড়াইশ’। ৬০ টাকার নিচে তেল নেই। ২৫০ গ্রাম ৬০ টাকা।’ অথচ এক বছর আগেও এখান থেকে ১০ টাকা দিয়ে তেল কিনতে পারতেন নিম্নআয়ের ক্রেতারা। তবে এখন সেই সুযোগ আর নেই।

হাছিনা বেগম এক কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম হাঁকালেন ২৪০ টাকা। তবুও তার কাছে পর্যাপ্ত তেল নেই। তিনি বলেন, ‘সকালে ৩ ঘণ্টা কাওরানবাজার ঘুরছি। ৩০ কেজি গেলান লইয়্যা ঘুরতে ঘুরতে অবস্থা কাহিল হইয়্যা গেছি। কেউ তেল দিতে চায় না। পরে ঘরে খাওয়ার কথা বলে পাঁচ কেজি কিনে আনছি। এখন তা বেচতাছি। ২১৬ টাকা কেজি কিনে আনছি। গাড়িভাড়া দিয়া ২২২ টাকা পড়ছে। ’

তার পাশেই ছোট আরেকটি দোকান মাহাবুবের। দোকানে ছোট ছোট প্যাকেটে ডাল, হলুদ-মরিচের গুঁড়া, ডাবলি, ছোলা, বাদাম, সরিষাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য সাজিয়ে রেখেছেন। এসব পণ্যের মূল্য মাত্র ১০ টাকা করে। তিনি জানান, গরিব মানুষের সুবিধায় এগুলো বেধে রাখা হয়। যারা বেশি টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে পারেন না তারা এই পণ্যগুলো কিনেন। তবে ভোজ্য তেলের জন্য কোনো প্যাকেট করেননি তিনি। জানতে চাইলে মাহাবুব বলেন, ‘এত দামের মধ্যে আবার তেল ১০ টাকা প্যাকেট! পাল্লায় ওজনও দেয়া যায় না। বিক্রি করবো কীভাবে।’ গরিবের বাজারের এই বিক্রেতার কাছেও পর্যাপ্ত তেল নেই। যতটুকু আছে তা অল্প অল্প করে বিক্রি করছেন। তিনি সর্বনিম্ন ৮৫ গ্রাম তেল বিক্রি করছেন ২০ টাকায়। এতে এক কেজি সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ২৪০ টাকা। তবে শুক্রবার কাওরানবাজার থেকে তার তেল কিনতেই ২১০ টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন। মাহাবুব জানান, ঈদের আগে থেকেই হুনছি দাম বাড়বো। এখন বাড়াই দিছে। কাওরানবাজার থেকে শুক্রবার ২১০ টাকায় কিনছিলাম। আজ শুনি হোলসেল বিক্রি করে ২২০ টাকা। বোতলের তেলও রাখতে পারি না। রোজার আগের থেকে কোম্পানি তেল দেয়া বন্ধ করে দিছে।

এই বাজারের আশেপাশে কোথাও ভোজ্য সয়াবিন তেল  মেলেনি। খোরশেদ জেনারেল স্টোরের সাইফুল ইসলাম জানান, তার দোকানে ঈদের আগে থেকেই তেল শেষ হয়েছে। এরপর নতুন করে তেল কিনতে পারেননি। কোম্পানির কাছে তেল চেয়েও পাননি। পাইকারদের কাছ থেকেও খোলা তেল কিনতে পারেননি। তিনি বলেন, পাইকারগো কাছে গেলে এক বোতল তেল ধরায় দেয়। এই তেল এনে কি করবো। এখন দাম ১৯৮ টাকা, তাও তেল নেই। কোম্পানির সঙ্গে কথা হইছে। এখন দাম বাড়ছে, তাই তারা বলছে তেল দিবে।’


নতুন করে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ করার পরও দোকানে পণ্যটি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। শফিক মিয়া নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের আগে তেল কিনেছিলাম। এরপর দু’দিন ঘুইরা গেছি। তেল পাইনি। আজকে পাওয়া যাবে বলছিল। কিন্তু তাও পাইলাম না।’ ফরিদ উদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর জন্য মাঝেমধ্যেই তেল আটকে রাখে। দাম বাড়ার পর আবার সব ঠিক হয়। দোকানদাররা বলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে। আমাদের আয় তো আন্তর্জাতিক বাজারের মতো বাড়ে না।

এ ব্যাপারে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সয়াবিন তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের নিজস্ব কোনো সক্ষমতা নেই। সরকারকে নির্ভর করতে হয় যারা সয়াবিন রিফাইন করে তাদের ওপর। সরকার তাদের প্রস্তাবিত মূল্যই অনুমোদন দেয়। আমরা আশা করি এই নির্ধারিত দামেই বাজারে তেল পাওয়া যাবে। যদি পাওয়া না যায় তাহলে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ ভোজ্যতেল পৌঁছেছে
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
৪৭ হাজার ৪৪ মেট্রিক টন সয়াবিন ও পাম-তেল নিয়ে চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (৬ মে) বন্দরের সচিব ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান, বহির্নোঙর থেকে জেটিতে আসার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে। জাহাজ চারটির মধ্যে, ওনিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ ২১ হাজার মেট্রিক টন, এন এস স্টিলা ৭ হাজার মেট্রিক টন, মেঘনা প্রাইড জাহাজ সাত হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ও সানজিন ১১ হাজার ২৪৫ মেট্রিক টন নিয়ে বহির্নোঙরে ভিড়েছে।

এর আগে ২ মে ২ কোটি ২৯ লাখ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এমভি ওরিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ নামে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ। এরই মধ্যে জাহাজটির তেল খালাস শেষ হয়েছে। সিটি গ্রুপ, সেনাকল্যাণ এডিবল অয়েল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও বসুন্ধরা গ্রুপ এসব সয়াবিন তেল আমদানি করে থাকে।

সিপিএর তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন লিটার সয়াবিন তেল এসেছে এবং শুক্রবার ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও ১৩ হাজার টন পাম তেল আসবে। জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে এমভি ওরিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ জাহাজটি গত ২৬ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমটি সুমাত্রা পাম জাহাজটি ১৩ হাজার টন পাম তেল নিয়ে ২৬ এপ্রিল দেশটির লুবুক গিয়াং বন্দর থেকে যাত্র শুরু করেছে। এই জাহাজটি আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

সিপিএ সেক্রেটারি উমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সয়াবিন তেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। দেশের শীর্ষ চার কোম্পানি সিটি গ্রুপ, সেনাকল্যাণ ভোজ্যতেল, বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ও বসুন্ধরা গ্রুপ এ তেল আমদানি করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট মোহাম্মদি ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কাজী আবু নাঈম জানান, এমভি সুমাত্রা পাম জাহাজটি শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম তেল রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পাম তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। দেশটি (ইন্দোনেশিয়া) ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন পামতেল আমদানি করে। এর ৯০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। আর বাকি ১০ শতাংশ আসে মালয়েশিয়া থেকে।

সবজির দাম বেড়েছে পেঁপের কেজি ৮০ কাঁচামরিচ ১২০
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
ঈদের আমেজ এখনো কাটেনি পরিবহণ সংকট ও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে । বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁপের দাম। শুক্রবার (৬ মে) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখে গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় মাল কম আসছে, তাই সবজির দাম একটু বেশি। এছাড়াও নতুন পেঁপে এখনো না উঠায় দাম বেশি যাচ্ছে। প্রতিবারই বছরের এই সময়ে এসে পেঁপের দাম বাড়ে।


দেখে গেছে, বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাকরল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, করোলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ধন্দুল ৫০ টাকা , কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও লাউ প্রতি পিস ৬০/৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ টাকা।


মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ঈদের পর আজই প্রথম বাজারে এলাম। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সব জিনিসের দাম বেশি। প্রতিটি সবজির দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। বেশি অবাক লাগছে পেঁপের কেজি দাম ৭০-৮০ টাকা শুনে।এখন আধা কেজি করে সবজি কিনতে হচ্ছে।


বাজারে পেঁপের দাম এত বেশি কেন? এই বিষয়ে মালিবাগ এলাকার সবজি বিক্রিতে হামিদুর রহমান বলেন, এখন আসলে পেঁপের সিজন না। বাজারে এগুলো সব পুরাতন গাছের পেঁপে। এছাড়া সরবরাহও অনেক কম, তাই পেঁপের দাম বাড়তি। নতুন পেঁপের গাছ কেবল লাগিয়েছে চাষিরা। এই নতুন পেঁপে বাজার আসার পর দাম স্বাভাবিক হবে।


তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারে ৭০ টাকা কেজিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক খারাপ পেঁপে ৬৫ টাকা আর একদম ভালো মানের পেঁপে ৮০ টাকা কেজি খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।


সবজির সার্বিক দাম বিষয়ে মহাখালী কাঁচাবাজারের বিক্রেতা বোরহান উদ্দিন বলেন, সবজির দাম কিছুটা বাড়তি। ঈদের সময় মালামাল নিয়ে গাড়ি কম আসছে। আসলেও ভাড়া বেশি। সব মিলিয়ে সবজির দাম একটু বাড়তি যাচ্ছে।

এপ্রিলে রেমিট্যান্স এলো ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক :
গত এপ্রিল মাসে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ২০০ কোটি ৯৫ লাখ ডলার বা ১৭ হাজার ৩৭২ কোটি ১২ লাখ টাকার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। যা গত ১১ মাসের মধ্যে দেশে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

বৃহস্পতিবার (৫ মে ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের মাস মার্চের চেয়ে এপ্রিলে ১৫ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। অর্থাৎ মার্চে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৮৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকে ১৬১ কোটি ২৭ লাখ ডলার, বিদেশি ব্যাংকে ৭৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকে ৩ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

গেল মাসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৪২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছে ২৮ কোটি ২৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এরপর অগ্রণী ব্যাংকে ১২ কোটি ৫৭ লাখ, সোনালী ব্যাংকে ১০ কোটি ৮ লাখ এবং ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স পাঠাননি প্রবাসীরা।

উল্লেখ্য, গত ১১ মাসের মধ্যে কোনো মাসেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার ঘটনা ঘটেনি। ২০২১ সালের মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে গত বছরের এপ্রিলে এ বছরের প্রায় সমান অর্থাৎ ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।


   Page 1 of 48
     অর্থ-বাণিজ্য
বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন সূচকে বাংলাদেশের ৩ ধাপ উন্নতি
.............................................................................................
বাজেটের আগেই বাড়ল সিগারেটের দাম
.............................................................................................
দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপের পথে সাতক্ষীরার আম
.............................................................................................
বাগদা চিংড়ি পেলো জিআই সনদ
.............................................................................................
ভারতের গম রপ্তানি নিষিদ্ধের কারণ
.............................................................................................
নানা সমস্যায় জর্জরিত বাঘাবাড়ি নৌবন্দর
.............................................................................................
বাজার চড়া সবজিসহ রসুন-ডিমের দাম
.............................................................................................
বাজারে বসেই কচুর লতি বিক্রি করছেন কৃষক অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক
.............................................................................................
বাজারে রসুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণ
.............................................................................................
ব্যস্ত বেনাপোল বন্দর, বাণিজ্য ও যাতায়াত বেড়েছে
.............................................................................................
বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জার্মানির
.............................................................................................
বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে চায় মার্কিন ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
২৪০ টাকাতেও মিলছে না, সয়াবিন তেল গেল কোথায়
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ ভোজ্যতেল পৌঁছেছে
.............................................................................................
সবজির দাম বেড়েছে পেঁপের কেজি ৮০ কাঁচামরিচ ১২০
.............................................................................................
এপ্রিলে রেমিট্যান্স এলো ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি
.............................................................................................
দেশেই তৈরি হবে ৫০০ সিসির মোটরসাইকেল
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দরে যাত্রীর চাপ
.............................................................................................
কমল সোনার দাম
.............................................................................................
বিকাশ-রকেটে লেনদেন সীমা বাড়ল
.............................................................................................
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যতবার খুশি লেনদেন
.............................................................................................
পোশাক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি বিজিএমইএর
.............................................................................................
পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধ করছে ইন্দোনেশিয়া
.............................................................................................
বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুরু ১০ মে
.............................................................................................
এসএমই খাতের উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে ব্র্যাক ব্যাংক-রবি
.............................................................................................
খাদ্যদ্রব্য অবৈধ মজুদ করলে জেল ৫ বছর, জরিমানা ১০ লাখ
.............................................................................................
ঈদের কেনাকাটায় বিদেশি পণ্যের খোঁজে ক্রেতারা
.............................................................................................
উদ্যোক্তা রাফিজা সুলতানার গল্প
.............................................................................................
জব্দকৃত শাড়ি, থ্রি-পিস প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে
.............................................................................................
অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগারে
.............................................................................................
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড
.............................................................................................
পর্যটন খাতে ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিল্প সচিবের মতবিনিময়
.............................................................................................
ভোজ্য তেল নিয়ে কারসাজি, পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
.............................................................................................
ডিজিটাল মুদ্রা চালু করলো চীন
.............................................................................................
হিলিতে কমেছে পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম
.............................................................................................
ত্রিশালে প্রিমিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু
.............................................................................................
মারেজন-আগোরা মাছের মেলা ১০ মার্চ পর্যন্ত
.............................................................................................
পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নির্বাচন: রোববার বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ
.............................................................................................
২৫৫০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বন্ধ
.............................................................................................
ব্যাংকে অলস পড়ে থাকা টাকার বেশির ভাগ মালিকই সিলেটের
.............................................................................................
‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লায়েন্স ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে বিসিক
.............................................................................................
উদ্যোক্তা উন্নয়নে এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেবে বিসিক
.............................................................................................
দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করদাতা সিলেটের জামিল ইকবাল
.............................................................................................
হিলিতে কমেছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম
.............................................................................................
করোনার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসায় এডিবি
.............................................................................................
জামানত ছাড়াই ব্যাংক ঋণ পাবেন পাড়া মহল্লার নিম্ন আয়ের মানুষ
.............................................................................................
রেলে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT