রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দেখা গেছে রজবের চাঁদ, জানা গেল পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:  

আরবী বর্ষ অনুযায়ী ষষ্ঠ মাস শেষ হচ্ছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেখা গেছে নতুন চাঁদ। এতে করে শুরু হচ্ছে পবিত্র রজব মাস। আগামী মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে। এই হিসাবে জানা গেছে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মুনিম হাসান।

সভা থেকে জানানো হয়, পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের আকাশে সোমবার পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

এই হিসাবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু এবং আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

দেখা গেছে রজবের চাঁদ, জানা গেল পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক:  

আরবী বর্ষ অনুযায়ী ষষ্ঠ মাস শেষ হচ্ছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দেখা গেছে নতুন চাঁদ। এতে করে শুরু হচ্ছে পবিত্র রজব মাস। আগামী মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে। এই হিসাবে জানা গেছে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মুনিম হাসান।

সভা থেকে জানানো হয়, পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের আকাশে সোমবার পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

এই হিসাবে আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু এবং আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

আম বয়ানে শুরু হল বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব (সাদপন্থী)। শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমানের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আর তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় তরজমা করছেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাঠ বুঝে নেওয়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেন। তারা ময়দানের নির্দিষ্ট খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। মুসল্লিদের জন্য দুই দিন আগে থেকেই প্রাথমিক আমবয়ান শুরু হলেও ইজতেমার মূল পর্ব আজ শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে। ইজতেমা ময়দান ইতোমধ্যে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আরও মুসল্লি বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্রেন ও নৌপথে ময়দানের উদ্দেশ্যে আসছেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে ৭ হাজার ৫৩৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্বে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবারও ঠিক আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে গত শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়ে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। চার দিন বিরতি দিয়ে আবার আজ শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী রোববার (২২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি।

ইজতেমায় অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তম জুমার নামাজ
                                  

গাজীপুর প্রতিনিধি:

শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ইজতেমার প্রথম পর্ব। দুপুরে মাওলানা জুবায়ের পড়ান দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজ।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে হয় জুমার আজান। ১টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় জুমার খুদবা। ইজতেমা মাঠে জুমার নামাজ শুরু হয় দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে এবং নামাজ শেষ ২টা ৫৩ মিনিটে। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে প্রথম পর্ব।

জুমার নামাজে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ পূর্ণ হয়ে আশপাশের মহাসড়ক ও এলাকায় ইজতেমায় আগত মুসল্লি ও স্থানীয় লোকে পূর্ণ হয়ে যায়।

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনটি আলাদা সেক্টরে কাজ করছেন সাড়ে ৭ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য। এছাড়া ইজতেমার মাঠ ঘিরে আছেন র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। পুলিশের নিজস্ব ১৪টি ওয়াচ টাওয়ারসহ র‌্যাবের নিজস্ব ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পুরো ইজতেমা। মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছেন ৩০জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য ৩১টি ভবনে রয়েছে ৮ হাজার ৮৮৪টি শৌচাগার এবং ৫৪৪টি গোসলখানা। পানি সরবরাহের করা হচ্ছে ১৬টি গভীর নলকূপ সাহায্যে।

৪টি এগারো কিলোভল্ট ফিডারের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৪টি জেনারেটর প্রস্তুত রয়েছে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু থাকবে। এছাড়াও মুসল্লিদের পারাপারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫টি ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছে।

নতুন বছরে যে দুটি দোয়া পড়বেন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক: শুরু হতে যাচ্ছে ইংরেজি সাল। নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের ঈমান ও ইসলামের নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা জরুরি। পাশাপাশি জিন ও শয়তানের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা উচিত।

দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ ، وَالإِيمَانِ ، وَالسَّلامَةِ ، وَالإِسْلامِ ، وَرِضْوَانٍ مِنَ الرَّحْمَنِ ، وَجَوَار مِنَ الشَّيْطَانِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল-আমনি, ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি, ওয়াল ইসলামি, ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রাহমানি, ওয়া ঝাওয়ারিম মিনাশ শায়ত্বানি। (আল-মুঝাম আল আওসাত)
অনুবাদ: হে আল্লাহ! আমাদের ঈমান ও ইসলামকে নিরাপদ করুন। আমাদের সুরক্ষা দিন। দয়াময় রহমানের কল্যাণ দান করুন। শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবেলায় আমাদের সাহায্য করুন।’

আবার এ দোয়াটি পড়া যেতে পারে-
ﻳَﺎ ﻣُﻘَﻠِّﺐَ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮْﺏِ ﻭَ ﺍْﻻَﺑْﺼَﺎﺭِ ﻳَﺎ ﻣُﺪَﺑِّﺮَ ﺍﻟَّﻴْﻞِ ﻭَ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭ - ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻮِّﻝَ ﺍﻟْﺤَﻮْﻝِ ﻭَ ﺍْﻻَﺣْﻮَﺍﻝ ﺣَﻮِّﻝْ ﺣَﺎﻟَﻨَﺎ ﺍِﻟﻰ ﺍَﺣْﺴَﻦَ ﺍﻟْﺤَﺎﻝِ
উচ্চারণ: ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ওয়াল আবছারি ইয়া মুদাব্বিরাল লাইলি ওয়ান্নাহার; ইয়া মুহাওয়্যিলাল হাওলি ওয়াল আহ্‌ওয়ালি হাওয়্যিল হালানা ইলা আহসানাল হালি।
অনুবাদ: হে অন্তর ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী! হে রাত ও দিনের আবর্তনকারী! হে সময় ও অবস্থা পরিবর্তনকারী! সব সময় আমাদের অবস্থা ও অবস্থান ভালো বা কল্যাণের দিকে উন্নীত করুন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নতুন বছরে এ দোয়াগুলোর মাধ্যমে বছরব্যাপী সাহায্য প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জমাদিউস সানি মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
                                  



আরবি বর্ষপঞ্জির হিজরি সনের ষষ্ঠ মাস হলো জমাদিউস সানি। এর জোড়া মাস হলো ‘জমাদিউল আউয়াল’। এটি হিজরি সনের পঞ্চম মাস। এর বাংলা অর্থ হলো প্রথম জুমাদা ও দ্বিতীয় জুমাদা বা প্রথম শীত ও দ্বিতীয় শীত; অর্থাৎ শীতকালের প্রথম মাস ও শীতকালের দ্বিতীয় মাস। আরবে তৎকালে এই দুই মাস ছিল শীতকাল। আরবিতে মাস দুটির নাম হলো ‘আল জুমাদাল উলা’ ও ‘আল জুমাদাল উখরা’ বা ‘আল জুমাদাল আখিরাহ’ অথবা ‘আল জুমাদাস সানিয়াহ’। সহজ করে বললে প্রথমটি, ‘জুমাদাল উলা’; দ্বিতীয়টি, ‘জুমাদাল উখরা’ বা ‘জুমাদাল আখিরা’ অথবা ‘জুমাদাস সানিয়াহ’। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে মাস দুটি ‘জমাদিউল আউয়াল’ ও ‘জমাদিউস সানি’ নামে সমধিক পরিচিত। (আল মুনজিদ)।

‘জুমাদা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো স্থির, অবিচল, দৃঢ়, কঠিন; জমাটবদ্ধ, নিস্তব্ধ, নীরব, নিথর, পাথর; শুষ্ক, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত; শীতল, শীতকাল, শীতবস্ত্র; কার্পণ্য, বদ্ধমুষ্টি; কিংকর্তব্যবিমূঢ়, অস্থির সময়, চিন্তাযুক্ত অবস্থা। যেহেতু শীতকালে তীব্র শীতে তরল পানি জমে কঠিন বরফে পরিণত হয়ে যায়; জড় পদার্থগুলো জমে শক্ত হয়ে যায়; উদ্ভিদ ও জীব নিথর হয়ে যায়; প্রাণীরা নীরব হয়ে যায়; তাই এই মাসকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, ‘জুমাদা’ হলো শীতকাল। এটি বসন্তের নিকটবর্তী, গ্রীষ্মের পূর্ববর্তী। দুই ভূমির সীমানা বা দুই বাড়ির সীমানাকে এবং নিকট প্রতিবেশীকেও ‘জুমাদা’ বলা হয়। একত্রে এই দুই মাসকে ‘জুমাদায়ান’ বা ‘জুমাদায়িন’ বলা হয়, এতদুভয় হলো ‘জুমাদা’–এর দ্বিবচন; অর্থ হলো ‘জুমাদাদ্বয়’।

অন্যান্য মাসের মতো এই মাসেও অধিক পরিমাণে নেক আমল করা বাঞ্ছনীয়। এ মাসে নফল নামাজ ও নফল রোজা আদায় করা, দান–খয়রাত করার ফজিলত অনেক। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নফল নামাজ তথা তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, জাওয়াল ও আউওয়াবিন নামাজ আদায় করা ভালো। এ ছাড়া কাজা রোজা থাকলে তা পুরা করা; মান্নত রোজা থাকলে তা আদায় করা; মাসের ১, ১০, ২৯ ও ৩০ তারিখে রোজা রাখা এবং চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিদ’–এর সুন্নাত রোজা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ‘জমাদিউস সানি’ তথা ‘দ্বিতীয় জুমাদা’ মাসে ‘রজব’ মাসের প্রস্তুতি হিসেবে আরও বেশি নেক আমল এবং অধিক পরিমাণে নফল নামাজ ও নফল রোজা করা উচিত। মূল কথা হলো ‘হার কে কদরে শব দারাদ; হামা শব শবে কদর আস্ত’, অর্থাৎ ‘যিনি রাতের মূল্য দেন, প্রতি রাতকেই তিনি শবে কদর হিসেবে পান।’ মানে হলো, নেক আমল ও সৎকর্মে সাধারণ সময়ও অসাধারণ হয়ে ওঠে।

জিকির–আসকার, দোয়া কালাম, দরুদ ও সালাম, তাসবিহ তাহলিল, তাওবা ইস্তিগফার, খতম তিলাওয়াত, সদকা খয়রাত ইত্যাদি আমলের মাধ্যমে মাস অতিবাহিত করলে নিশ্চিত এর বরকত ফজিলত লাভ করা যায়। অন্যথায় সময়ের অপচয়ের জন্য অনুতাপ ও অনুশোচনা করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘পরকালে নেককার মুমিন জান্নাতিগণের কোনো আফসোস থাকবে না; বরং তাদের আফসোস থাকবে শুধু ওই সময়ের জন্য, যে সময়টুকু তারা নেক আমল ছাড়া অতিবাহিত করেছে বা বেহুদা কাটিয়েছে।’(তিরমিজি)।

যেসব দিবসের ও যেসব মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সেই দিন ও মাসগুলোতে সাধারণত সবাই ইবাদত করে থাকেন, এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং যেসব দিন ও মাসের বিশেষ ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য কোরআন–হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি, তাতে অধিক হারে নেক আমল করলে আমলকারী অবশ্যই অন্যদের অপেক্ষা এগিয়ে যাবেন ও অগ্রগামী হবেন ইনশা আল্লাহ।

শীত ও গরমের মৌসুমে বিশেষ ইবাদতের প্রসঙ্গে কোরআন কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যেহেতু কুরাইশদের আসক্তি আছে, তাদের আসক্তি শীত ও গ্রীষ্মে ভ্রমণের। অতএব তারা এই (কাবা) গৃহের প্রভুর ইবাদত করুক। যিনি তাদের ক্ষুধায় অন্ন দিয়েছেন এবং শঙ্কায় নিরাপত্তা দান করেছেন।’(সুরা-১০৬ কুরাইশ, আয়াত: ১-৪)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ`লা যেন উপরোক্ত আলোচনার প্রতি আমল করার তাওফিক দান করেন আমীন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।

পবিত্র জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু সোমবার
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপাের্ট: বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে পবিত্র জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মুনিম হাসান ।

সভা শেষে জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৪ হিজরি সনের জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর জমাদিউল আউয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু হবে।

সভায় ১৪৪৪ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আছাদুর রহমান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মো. হেলাল কবির, সহকারী-ওয়াকফ প্রশাসক মো. শাহরিয়ার হক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়
                                  

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়। ইসলাম কী? ইসলাম শব্দের অর্থ- আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গরূপে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনার জন্য আত্মা তথা মনকে সমর্পণ করা। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম মানেই ইসলাম। অন্য কোনো ধর্মের মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি লাভ করা অসম্ভব। এরশাদ হচ্ছে-‘আল্লাহর কাছে মনোনীত ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯)।

ইসলামের উপমা: ইসলাম হলো একটি তাবুর ন্যায়। তাবু যেমন তার ভেতরের মানুষকে রোদের সময় রোদ, শীতের সময় ঠান্ডা, প্রচন্ড বাতাসের সময় ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে, তদ্রুপ ইসলাম মানুষকে পরকালীন আজাব থেকে রক্ষা করে। ইসলামের দৃষ্টিতে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে যারা কোরআন-সুন্নাহর পরিপূর্ণ অনুসরণ করে, তারাই প্রকৃত মুসলমান। এরশাদ হচ্ছে-‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো।’ (সুরা বাকারা : ২০৮)। এ আয়াতে প্রত্যেক ইমানদার ব্যক্তিকে ইমান আনার পর ইসলামের বিধান তথা কোরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় শুধু মুমিন তথা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিকে প্রকৃত মুসলমান বলা যাবে না।

প্রকৃত মুসলমানের দৃষ্টান্ত: প্রকৃত মুসলমানের দৃষ্টান্ত হলো- একটি দেয়ালঘড়ির ন্যায়। যার সেকেন্ডের কাঁটা, মিনিটের কাঁটা এবং ঘণ্টার কাঁটা আছে। ব্যাটারিতে আছে পূর্ণ চার্জ। বেতারকেন্দ্রের সময়ের সঙ্গে এর সময়ের মিল রয়েছে। এ ধরনের ঘড়ির সময় দেখে কেউ যদি কোনো মিটিংয়ে যোগ দিতে চায়, তাহলে সে প্রস্ততি নিয়ে ঠিক সময়ে মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারবে। ইমানও তেমনই বিষয়। ইমান গ্রহণ করার পর ঘণ্টার কাঁটার মতো ফরজ, মিনিটের কাঁটার মতো ওয়াজিব এবং সেকেন্ডের কাঁটার মতো সুন্নতের অনুসরণ করতে হবে। জীবনের কোনো অবস্থাতেই ফরজ-ওয়াজিব বাদ দেওয়া যাবে না। ঘণ্টা কিংবা মিনিটের কাঁটা যদি কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়, তাহলে ঘড়ি যেমন সঠিক সময় নির্ণয় করতে পারে না, ঠিক তেমনি ফরজ বা ওয়াজিব যদি ছুটে যায়, তাহলে ইমানও ব্যক্তিকে পূর্ণ ইমানদার বানাতে পারবে না। ঘড়ির ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে গেলে যেমন পুনরায় সচল করার জন্য নতুন ব্যাটারি লাগাতে হয়, তদ্রুপ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষের মনের অবস্থার পরিবর্তন হয়। সেজন্য মাঝেমধ্যে আল্লাহর অলিদের মজলিসে অথবা ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে মনের ব্যাটারিতে চার্জ দিয়ে ইমান তরতাজা করতে হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় বই পাঠের অভ্যাস করে নিতে হয়। তাহলেই প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায়, আখেরাতের প্রস্ততি নেওয়া সম্ভবপর হয়, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সন্তষ্টি অর্জন করে হাজির হওয়া যায় আল্লাহর দরবারে।

নামধারী মুসলমানের পরিচয়: যারা ইসলামের কিছু বিধান পালন করে আর কিছু পালন করে না, যেমন- নামাজ পড়ে, তবে নিয়মিত পড়ে না; রোজা রাখে, সবগুলো রাখে না; অন্যান্য আমলের বেলায়ও কিছু করে, কিছু করে না; আবার করলেও নিয়মিত করে না- এদের দৃষ্টান্ত হলো, তারা এমন দেয়ালঘড়ির ন্যায়, যার সেকেন্ডের কাঁটা, মিনিটের কাঁটা, ঘণ্টার কাঁটা আছে, কিন্তু ঘড়ির সময়ের সঙ্গে বেতারকেন্দ্রের সময়ের কোনো মিল নেই। এমন ঘড়ি দূর থেকে ঘড়ি মনে হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না এর দ্বারা। এ ধরনের ঘড়ির সময় দেখে কোনো কাজ করলে বিভ্রান্তির স্বীকার হতে হয়। তদ্রুপ যে ব্যক্তি ইসলামের সকল বিধান মানে না, সে দূর থেকে দর্শকের দৃষ্টিতে মুসলমান; কিস্তু ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত মুসলমান নয়।

প্রকৃত মুসলমানের গুণাবলি: কোরআনে কারিমের বিভিন্ন স্থানে মহান রাব্বুল আলামিন প্রকৃত মুসলমানের বেশ কয়েকটি গুণ বর্ণনা করেছেন। যেমন এরশাদ হচ্ছে-‘যাদের সামনে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর ভীত হয়, যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করে, যারা নামাজ কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা হজ : ৩৫)। এ ছাড়াও সুরা মুমিনুনের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে আল্লাহতায়ালা প্রকৃত মুসলমানের গুণ এভাবে বর্ণনা করেছেন-‘যারা নিজেদের নামাজে নম্র, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত, যারা জাকাত প্রদান করে।’ (সুরা মুমিনুন : ২-৪)।

মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য? জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যাবতীয় কাজ-কর্মে আল্লাহর হুকুম-আহকাম মেনে চলাই হচ্ছে মানব সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য। আর তাঁর হুকুম-আহকাম পালনের আমলই হলো ইবাদত। আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। দুনিয়াতে মানুষের আগমন ও জীবনের লক্ষ্য হলো, আল্লাহতায়ালার বিধিবিধানের বাস্তবায়ন তথা তাঁর ইবাদত-বন্দেগি করা। এরশাদ হচ্ছে-‘আর জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত : ৫৬)। মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আগমনের কারণে যে প্রক্রিয়ায় ইবাদত তথা সৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল হবে, তা হলো- প্রথমত আল্লাহতায়ালাকে রব হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর দাসত্ব স্বীকার করা। এরপর তাঁর নির্দেশ মেনে তাঁরই পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। তারপর সর্ববিষয়ে তাঁর সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা অর্থাৎ আল্লাহতায়ালাকে রব বলে স্বীকার করা, অন্য কাউকে তাঁর সঙ্গে শরিক না করা।

ইবাদত কী? : আরবি ‘ইবাদত’ শব্দটি ‘আব্দ’ শব্দ হতে এসেছে। ‘আব্দ’ শব্দের অর্থ হলো দাস বা গোলাম। সুতরাং ইবাদত মানে হলো আল্লাহর গোলামি বা বন্দেগি করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশিত পথ ও মতে জীবন পরিচালনা করা। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি আল্লাহর গোলামি করবে, সে-ই প্রকৃত সফলকাম। মানুষ যখন কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশ পালন করে ইবাদত করতে ব্যর্থ হয়, বুঝতে হবে আল্লাহর বান্দা হিসেবে দুনিয়াতে প্রতিটি মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্যই তখন ব্যর্থ। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক গভীর হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-সূত্রে বর্ণিত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন-‘হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে আত্মনিয়োগ করো, আমি তোমার হৃদয়কে অভাবমুক্ত করে দেবো এবং দারিদ্র বিমোচন করে দেবো। আর যদি তা না করো, তাহলে কর্মব্যস্ততা দ্বারা তোমার হাত ভরে দেবো। দারিদ্রও দূর করবো না।’ (আল মুসনাদ : ১৬/২৮৪)। মোল্লা আলি কারি (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-‘এর অর্থ হলো, তুমি তোমার রবের ইবাদত করার সময় মন-দিল উপস্থিত রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকো।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ : ৭/২৬)।

ইবাদত সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা: মানুষ মনে করে- কোরআনে কারিমের নির্দেশ পালনে নামাজ আদায় করা, রোজা ও হজ পালন করা, জাকাত দেওয়া, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, কোরআনে কারিম তেলাওয়াত করার নামই ইবাদত। না, ইবাদত মানে তা নয়। মিথ্যা কথা বলে, সুদ-ঘুষে জড়িত থেকে, লোক দেখানো ইবাদত করে, বেহায়াপনা, চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ ও মুনাফেকির সঙ্গে লিপ্ত থেকে কেবল নামাজ-রোজার মতো অন্যান্য আমল করার নাম ইবাদত নয়। কোরআন-সুন্নাহর নিষেধগুলো মেনে রাব্বে কারিমের যাবতীয় আদেশ পালন করা হলো প্রকৃত ইবাদত তথা বন্দেগি। কারণ ইবাদত হলো আল্লাহতায়ালার হুকুম-আহকাম যথাযথ পালন করা।

এরশাদ হচ্ছে-‘আর রাসুল তোমাদেরকে যা দেন (নিয়ে এসেছেন),তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর : ৭)। তাই আমাদেরকে আত্মপরিচয় সম্বন্ধে অবগত হতে হবে। এরপর নিজেদের সৃষ্টির মূল লক্ষ্য ইবাদত করার ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনোক্রমেই যেনো আমাদের কোনো আমল লোকদেখানোর জন্য না হয়; বরং একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি হাসিলই যেনো হয় আমাদের জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য-মাকসাদ। রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে কবুল করে নিন আমিন।

‘আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার’
                                  

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:

আল্লাহর পথে মানুষদের আহ্বান করা ওয়াজিব তথা আবশ্যক কাজ। এখন প্রশ্ন হলো- এ কাজ কি সবার জন্য আবশ্যক নাকি কিছু মানুষ আদায় করলে দায়িত্ব শেষ? বিষয়টি নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে, এটা সবার জন্য ওয়াজিব নয়।

কিছু মানুষ আদায় করলেই হয়ে যাবে। তাই ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- সমাজে এমন কিছু লোক থাকবেন, যারা সর্বদা আল্লাহর দিকে মানুষদের আহ্বান করবেন।

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে সৎকর্মের প্রতি; নির্দেশ দিবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে- আর তারাই হলো সফলকাম। ’ -সূরা আলে ইমরান: ১০৪

অন্ধকার হতে আলোর দিকে, অজ্ঞতা হতে জ্ঞানের দিকে, মন্দ থেকে ভালোর দিকে মানুষকে আহ্বান করা জরুরি বিষয়। পাশাপাশি মন্দ কাজ দেখলে তা প্রতিহত করা ঈমানের দাবি।

হাদিসের ভাষায়, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে তা নিজ হাত দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি সে সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দ্বারা প্রতিহত করার চিন্তা ও পরিকল্পনা করবে। আর এটাই ঈমানের দুর্বল স্তর।’

সহিহ মুসলি বর্ণিত আয়াত ও হাদিসের আলোকে বুঝা যায়, মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা নৈতিক দায়িত্ব। তবে আহ্বানকারীদের থাকা প্রয়োজন বিশেষ কিছু গুণ।

আল্লাহর পথে আহবানকারীর যে সব গুণ থাকা বাঞ্চনীয় তন্মধ্যে আহবানকারীর আলেম তথা জ্ঞানী হওয়া। অর্থাৎ ইসলাম সম্পর্কে পুরো জ্ঞান থাকা।

প্রত্যেক কাজ যেহেতু নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তাই আল্লাহর পথে আহবানকারীর নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। লোক দেখানো, দুনিয়ার সম্মান বা উচ্চাসন পাওয়ার আশায় এ কাজ করা যাবে না।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বের চেয়ে অধিক গরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে আরম্ভ করা। যেমন প্রথমে তাওহিদের দিকে আহ্বান করা। পরে নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদির দিকে ধীরে ধীরে আহ্বান করা।

অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে কম গুরুত্বের বিষয় প্রাধান্য না দেওয়া। যা ছিল নবী-রাসূল এবং সাহাবি-তাবেয়িদের কাজের পদ্ধতি। কাজেই সেসব পদ্ধতিসমূহকে আমাদের অনুসরণ করা দরকার।

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীকে ধৈর্য্য সহকারে কাজ করে যেতে হবে। নবী-রাসূলরা আল্লাহর পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে এ শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।

আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা নবী-রাসূলদের কাজ। যারা মানুষকে ওই পথে ডাকে তারা মহৎ কাজের অধিকারী। এমন মানুষদের প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ।

যারা মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করবেন। সর্বোপরি তার জন্য রয়েছে ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাকে ও আপনাদেরকে উপরোক্ত কাজ গুলো আঞ্জাম দেওয়ার তাওফিক দান করেন আমিন।

লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ

লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি ভয়াবহ
                                  
 হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী:
 
 
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। তবে ইবাদত বা আমল কাউকে দেখানোর জন্য হলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। লোক দেখানো ইবাদতে মানুষের জন্য রয়েছে দুর্ভোঘ শাস্তি ও ভয়াবহ পরিণতি।
 
লোক দেখানো ইবাদত মানুষকে শিরকের অপরাধের দিকে ধাবিত করে। কেননা লোক দেখানো ইবাদতকারী ছোট শিরকের অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এক সময় একাধিক ছোট শিরক বড় শিরকে পরিণত হয়।
 
রিয়াকারী বা লোক দেখানো ইবাদতকারীর সব আমল বরবাদ হয়ে যায়। তাই আল্লাহ তাআলার কাছে আমল কবুল হওয়ার জন্য তা হতে হবে লৌকিকতামুক্ত এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত। আল্লাহ তাআলা লোক দেখানো ইবাদতকারীদের সম্পর্কে বলেন-
اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ یُخٰدِعُوۡنَ اللّٰهَ وَ هُوَ خَادِعُهُمۡ ۚ وَ اِذَا قَامُوۡۤا اِلَی الصَّلٰوۃِ قَامُوۡا کُسَالٰی ۙ یُرَآءُوۡنَ النَّاسَ وَ لَا یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰهَ اِلَّا قَلِیۡلًا
‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। অথচ তিনিও তাদের সঙ্গে প্রতারণা করতে সক্ষম। যখন তারা নামাজে দাঁড়ায়; তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে, তারা নামাজ আদায় করছে, কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪২)
 
আল্লাহ তাআলা লোক দেখানো ইবাদতকারীর শাস্তিও বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন-
فَوَیۡلٌ لِّلۡمُصَلِّیۡنَ ۙالَّذِیۡنَ هُمۡ عَنۡ صَلَاتِهِمۡ سَاهُوۡنَ الَّذِیۡنَ هُمۡ یُرَآءُوۡنَ ۙ
‘অতএব দুর্ভোগ সে সব নামাজিদের জন্য; যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে বেখবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে।’ (সুরা মাউন : ৪-৬)
 
উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তাআলা উদাসীন ও লোক দেখানো ইবাদতকারী নামাজি ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে তাদের দুর্ভোগ, শাস্তি ও খারাপ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
 
লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি: আবার বাহবা পাওয়ার নিয়তে কোনো ইবাদতই গ্রহণযোগ্য নয়। নামাজ, রোজা, হজ, কোরবানি, জাকাতসহ সমাজ কল্যাণমূলক সব ভালো কাজ হবে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। আল্লাহ বলেন- ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, কুরবানি, জীবন, মৃত্যু সব কিছুই সমগ্র বিশ্ব জাহানের মালিক আল্লাহ তাআলার জন্য।’
 
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোক দেখানো ইবাদতকারীকে তার ইবাদতের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-
১. হজরত মাহমুদ ইব্‌ন লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর তথা ছোট শিরক।’ তাঁরা (সাহাবায়েকেরাম) বলল, হে আল্লাহর রাসুল! শিরকে আসগর কি?
 
তিনি বললেন, ‘রিয়া’ (লোক দেখানো ইবাদত); আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাদেরকে (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের ইবাদতের বা আমলের বিনিময় দেয়া হবে। তখন তোমরা তাদের (ওই সব লোকদের) কাছে যাও; যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে (ইবাদত করে) দেখাতে। দেখ! তাদের কাছে থেকে (লোক দেখানো ইবাদতের) কোনো প্রতিদান পাও কিনা।’ (মুসনাদে আহমদ)
 
২. অন্য হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার বদলে (কেয়ামতের দিন) তাকে শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে (কেয়ামতের দিন) তাকে দেখিয়ে দিবেন।’ অর্থাৎ তিনি এসব লোকদেরকে কেয়ামতের দিন মানুষের সামনে অপমানিত করবেন এবং কঠোর শাস্তি দিবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)
 
৩. আবার যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি মানুষের সন্তুষ্টির জন্যও ইবাদত করবে; ওই ব্যক্তির আমলও বরবাদ হয়ে যাবে। আর লোক দেখানো ইবাদতে রয়েছে শিরকের ইঙ্গিত। হাদিসে কুদসিতে এসেছে- ‘আমি অংশীদারিতা (শিরক) থেকে সব অংশীদারের তুলনায় বেশি মুখাপেক্ষীহীন। যে কেউ কোনো আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সঙ্গে শরিক করে; আমি তাকে (ওই ব্যক্তিকে) ও তার আমলকে উভয়কেই বর্জন করি।’
 
আশার কথা হলো: কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো আমল শুরু করার পর তার মধ্যে লোক দেখানোর ভাব আসে। অতঃপর সে লোক দেখানো ভাবকে ঘৃণা করে এবং তা থেকে সরে আসার চেষ্টা করে; তবে তার ওই আমল শুদ্ধ এবং গ্রহণযোগ্য হবে।
কিন্তু যদি ওই ব্যক্তি লোক দেখানো অবস্থা থেকে ফিরে না আসে বরং লোক দেখানো ভাব মনে জাগ্রত রেখে প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করে। তবে (অধিকাংশ আলিমের মতে) তার ওই আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
 
সুতরাং রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত পরিহার যোগ্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে রিয়া পরিত্যাগ করা ঈমানে অপরিহার্য দাবি। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ছোট-বড় সব ধরনের শিরক ও রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বেঁচে থাকা।
 
আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুসলিমাকে রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদত থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। কুরআন এবং সুন্নাহ ঘোষিত লোক দেখানো ইবাদতের শাস্তি ও দুর্ভোগ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেখানো পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
 
লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
                                  

স্বাধীন বাংলা রিপোর্ট : আজ ১২ রবিউল আউয়াল। ৫৭০ সালের এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ আবির্ভাবের দিন। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

এক সময় গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃংখলা। এ যুগকে বলা হতো আইয়ামে জাহেলিয়াত। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং করত মূর্তিপূজা। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রেরণ করেন এই ধরাধমে।

মহানবী(সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেম অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজা নামের এক ধর্ণাঢ্য মহিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়ত প্রাপ্ত হন। আল্লাহতাআলার নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সকল কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। এর আগে তিনি বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্ত্বরে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।

এছাড়াও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেনমোহর মাফ চাওয়া যাবে স্ত্রীর কাছে?
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
বিয়ে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। ইসলামে কোনো নারীকে বিয়ে করলে তাকে অবশ্যই মোহর দিতে হবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে মানুষকে দেখানোর জন্য কোটি টাকা মোহর ধার্য করতে হবে। মোহর ধার্য করা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, মোহর স্ত্রীর অধিকার।

স্ত্রী যেন ন্যায্য অধিকার সঠিকভাবে পায় এবং নারীর যেন অবমূল্যায়ন না হয়— তার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি মোহর নির্ধারণের সময় স্বামীর আর্থিক অবস্থার প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বামীর সামর্থ্যের বাইরে মোহর ধার্য করে— তাকে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেউ যদি বিয়ের সময় মোহরের টাকা নগদ পরিশোধ না করে পরে যদি স্ত্রীর কাছে মাফ চায় তাহলে কি এতে মোহর মাফ হবে?

এ বিষয়ে ইসলামী আইন ও ফিকাহ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করে তাহলে তার জন্য উত্তম হচ্ছে-বাসর রাতে (সহবাসের পূর্বে) ওই দেনমোহর পরিশোধ করে দেওয়া। কেননা এটি স্ত্রীর হক বা প্রাপ্য। একই সঙ্গে এটি স্বামীর দায়িত্বে একটা ঋণ, যা অন্যান্য ঋণের মতো পরিশোধ করা জরুরি।

স্ত্রী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সন্তুষ্টচিত্তে মোহরের টাকা হাতে পাওয়ার পর স্বামীকে মোহরের কিছু অংশ বা পূর্ণ মোহর হাদিয়া করে দেয়, তাহলে মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু চাপে পড়ে মাফ করলে বা লৌকিকতার দ্বারা মোহর মাফ হয় না। সম্পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে মাফ করলেই মাফ হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে  দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বচ্ছন্দে ভোগ কর। -(সূরা নিসা : ৪)

মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং মুমিনের কর্তব্য খুশিমনে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে স্ত্রীর মোহর আদায় করা। কারো অনুরোধ-উপরোধ বা জোর-জবরদস্তির অপেক্ষায় থাকা কুরআনী শিক্ষার পরিপন্থী ও অতি নিন্দনীয় প্রবণতা।

স্ত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দিলেই কিংবা গ্রহণ করার পর স্বামীকে উপহার দিলে স্বামী তা স্বচ্ছন্দে ভোগ করতে পারবে। শুধু স্বামী নয় নারীর পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়র মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার মতো।

স্বামীর জন্য মোহর মাফ করাতে স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করা বা দুর্ব্যবহার করা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা বৈধ হবে না। এভাবে স্ত্রী মাফ করলেও মাফ হবে না। কারণ, মোহরের টাকা হাতে না দিয়ে স্ত্রীর অন্তরের সন্তুষ্টি বোঝা মুশকিল। এ জন্য হাতে দেওয়ার কথা বলেছেন হজরত থানবী (রহ.)। -

হাফেজ তাকরিমকে সংবর্ধনা
                                  

স্বাধীন বাংলা প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশি প্রতিযোগী হাফেজ সালেহ আহমেদ তাকরিমকে সংবর্ধনা দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল বেলা ১১টার দিকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বিশ্বজয়ী হাফেজ তাকরিমকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন মানবজাতির হেদায়েতের নির্দেশনা। আজকে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজয়ী হাফেজ ও কারীদের শুভেচ্ছা জানাই। আমরা এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশে ১১৮ জন হাফেজক পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে ৯৬ জন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামের প্রসারে বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। সারা দেশে ৫৬৩টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে তাকরিমের বাবা হাফেজ আবদুর রহমান বলেন, আমার মেঝো ছেলে তাকরিম বিশ্ব দরবারে বাংলার পতাকাকে সমুন্নত করেছে। ওস্তাদদের পরিশ্রম এবং দেশের মানুষের দোয়ায় সে এই সফলতা পেয়েছে। তার জন্য সবার দোয়া চাই।

মুমিনের প্রকৃত সঞ্চয় ‘নেক আমল’
                                  

নিজামুল ইসলাম নিজাম
মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর ইবাদত করা এবং এর মাধ্যমে পরকালের জীবন সমৃদ্ধ করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, মানুষ আল্লাহ তায়ালার এই মহান উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে পার্থিব মোহে পড়ে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো চলছে। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সুখ-শান্তির পেছনে পড়ে মানুষ আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির কথা ভুলে যাচ্ছে। আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি পেতে হলে আল্লাহর ইবাদত- বন্দেগির কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি কতটুকু সময় করতে হবে সে ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন’ (সুরা হিজর : ৯৯)। জীবন বাকি থাকতেই আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। কেননা মৃত্যু এসে গেলে পুনরায় জীবন ফিরে পাওয়ার আশা এবং নেক আমল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নচেৎ ওই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ন্যায় মৃত্যুর সময় আফসোস করতে হবে আর বলতে হবে, ‘হে আমার রব! আমাকে আবার দুনিয়াতে ফেরত পাঠান, যাতে করে আমি সৎকাজ করতে পারি, যা আমি আগে করিনি।’ (সুরা মুমিনুন : ৯৯-১০০)

আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির তুলনায় দুনিয়ার সুখ-শান্তি কিছুই নয়। কিন্তু আমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের ধোঁকায় পড়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি, ভোগ-বিলাসের কথা ভুলে গেছি। আসলে দুনিয়াটা হলো চূড়ান্ত ধোঁকার জায়গা। দুনিয়ার এই চূড়ান্ত ধোঁকায় পড়ে কত মানুষ প্রতারিত হয়েছে। আবার কত মানুষ দুনিয়া নামক প্রতারণার মহাসমুদ্রে নিমজ্জিত হচ্ছে। তাই দুনিয়া নামক এই মহাসমুদ্রে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের তাকওয়া নামক নৌকা বানাতে হবে। নচেৎ আমরাও এক দিন পথভ্রষ্ট হয়ে এই দুনিয়া নামক মহাসমুদ্রের অতল গহ্বরে ডুবে যাব। এ জন্য দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তির ধোঁকায় পড়ে কেউ যাতে পথভ্রষ্ট না হয়ে দুনিয়া নামক মহাসমুদ্রে ডুবে না যায়, সে জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে আগেই মানুষদের দুনিয়ার চূড়ান্ত ধোঁকার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কাজেই দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদের কিছুতেই প্রতারিত না করে’ (সুরা ফাতির : ৫)।


ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন হলো ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার উপভোগের সামগ্রী। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে এগুলো কাজে এলেও আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে এগুলো বিন্দু পরিমাণে কাজে আসবে না। আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে কাজে আসবে একমাত্র নেক আমল। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের শোভামাত্র; আর স্থায়ী হবে সৎকাজ, যা আপনার রবের কাছে পুরস্কারপ্রাপ্তির জন্য হবে শ্রেষ্ঠ এবং কাক্সিক্ষত হিসেবেও হবে উৎকৃষ্ট’ (সুরা কাহাফ : ৪৬)। এ ব্যাপারে অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না’ (সুরা শুয়ারা : ৮৮)।

মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর কবর থেকে আপনজন এক-এক করে সবাই উঠে চলে গেলেও একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবে মৃত ব্যক্তির নেক আমল। তাই ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন আমরা যা-ই বলি না কেন; মরণের পরে মৃত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নেক আমল ছাড়া কোনো কিছুই কাজে আসবে না। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) চমৎকার একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিনটা জিনিস মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করে কবর পর্যন্ত যায়- ১. তার পরিবার-পরিজন, ২. তার ধন-সম্পদ ও ৩. তার নেক আমল। দুইটা জিনিস মৃত ব্যক্তির কবর থেকে ফিরে আসে আর একটি জিনিস তার সঙ্গে চিরদিনের জন্য সঙ্গী হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজন এবং তার ধন-সম্পদ কবর থেকে ফিরে আসে আর তার নেক আমল চিরদিনের জন্য তার সঙ্গী হয়ে থাকে’ (বুখারি : ৬৫১৪)। হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, পরিবার-পরিজন কেউ আপন নয়, বরং সবাই পর। একমাত্র আপন হলো নেক আমল। সুতরাং, আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনে সুখ-শান্তি পেতে চাইলে নেক আমলের কোনোই বিকল্প নেই।


আসলে কবর হচ্ছে নেক আমলের সিন্দুক। সুতরাং, যে ব্যক্তি কবর নামক সিন্দুক নেক আমলের দ্বারা পূর্ণ করতে চায়, সে যেন মরণের আগে নেক আমলের পাশাপাশি তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট খুলে যায়। কেননা মরণের পরে মানুষের সব নেক আমল চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্টের সওয়াব কখনো বন্ধ হবে না। জীবিত থাকাকালে যে ব্যক্তি এই তিনটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট দুনিয়াতে খুলে যেতে পারবে, সে কবরে শুয়ে শুয়ে আমল না করেও অটোমেটিক তার সওয়াব পেতে থাকবে। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তার সকল কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি কর্মের সওয়াব সে অব্যাহতভাবে পেতে থাকে- ১. প্রবহমান দান তথা সদকায়ে জারিয়া। ২. উপকারী ইলম। ৩. নেককার সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (মুসলিম : ৩/১২৫৫)।

সুতরাং, আমাদের উচিত হলো মরণের আগে নেক আমলের পাশাপাশি কমপক্ষে তিনটি নেক আমলের যেকোনো একটি নেক আমলের অ্যাকাউন্ট খুলে যাওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমল করার তওফিক দান করুন।

জীবন যেভাবে সুবাসিত
                                  

মুফতি আবদুল্লাহ নোমান
সুকুমারবৃত্তি ও উত্তম শিষ্টাচারে মানুষ একদিকে যেমন পৌঁছতে পারে সম্মান, নিরাপত্তা ও গৌরবের সর্বোচ্চ চূড়ায়, তেমনি খারাপ চরিত্রের প্রভাবে মানুষ নিক্ষিপ্ত হয় ধ্বংস, কলঙ্ক ও কদর্যতার পূতিগন্ধময় আঁস্তাকুড়ে। সবাই চাই নিজেকে উত্তম আখলাকের বিভায় আলোকিত করতে, সুন্দর চরিত্রের ভূষণে শোভিত করতে। তাই তো সমাজের কুখ্যাত ঘাতকও যখন উচ্চ পদের প্রার্থী হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায় তখন তার নামেও স্লোগান তোলা হয়, ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’। আর যখন কারও নামের সঙ্গে চরিত্রহীনতার তকমা লেগে যায়, তখন তার ব্যক্তিত্ব ও ভাবমর্যাদা নষ্ট হওয়ার জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না।

সুন্দর চরিত্রে ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা
উত্তম আচরণ ও সুন্দর উচ্চারণে ফুটে ওঠে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতা। এমনকি মুমিনের ঈমানও পূর্ণাঙ্গতা পায় উত্তম আখলাক ও সুন্দর চরিত্রে। চরিত্র মাধুর্যের মূর্ত প্রতীক। বিশ্ব মানবতার অনুপম রূপকার মহানবী (সা.) এ মর্মে ইরশাদ করেছেন, ‘চরিত্রে যারা সবচেয়ে উত্তম, ঈমানের বিচারেও তারাই পূর্ণাঙ্গ মুমিন’ (আবু দাউদ : ৪৬৮২)। উত্তম চরিত্রের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহান এই শিক্ষক তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বাঁকে বাঁকে যেমন সুন্দর চরিত্রের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তেমনি তাঁর সম্মানিত সহচরদেরও এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা চরিত্রে সবচেয়ে উত্তম তারাই সবচেয়ে ভালো মানুষ’ (বোখারি : ৬০২৯)। শুধু ব্যক্তিজীবন, পারিবারিকজীবন ও সমাজজীবন নয়, ঈমানি জীবনের পূর্ণতার মাপকাঠিও চরিত্র। তাই চারিত্রিক সততা, আচরণের নান্দনিকতা ও সুকুমারবৃত্তিকে উপেক্ষা করে ভালো মুমিন হওয়ার সুযোগ নেই।

উত্তম আখলাকের মর্যাদা
মুসলমান মাত্রই অবগত, মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা হলো পরকালীন মুক্তি। সেদিন যার আমলের পাল্লা ভারী হবে সে-ই হবে চিরস্থায়ী সুখময় জীবনের অধিকারী। পবিত্র কোরআনের চিরন্তন বাণী, ‘সেদিন যার পাল্লা ভারী হবে সে তো সন্তোষজনক জীবনে থাকবে। আর যার পাল্লা হালকা হবে তার ঠিকানা হবে এক গভীর গর্ত। তুমি কি জানো সেই গভীর গর্ত কি? এক উত্তপ্ত আগুন’ (সুরা কারিয়া : ৬৯)। কেয়ামতের বিভীষিকাময় দিনে আমলের পাল্লাকে ভারী করতে কে না চায়? সেদিন সবার অভিপ্রায় ও আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে, জীবনের সব অর্জন ও সঞ্চিত সম্পদ দিয়ে হলেও আমলের পাল্লাকে অধিক ওজনবিশিষ্ট করতে। অথচ সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমেই তা সম্ভব। আবু দারদা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন আমলের পাল্লায় সৎ চরিত্রের চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই নেই।’ (আবু দাউদ : ৪৭৯৯)

উত্তম চরিত্রে মেলে জান্নাত
সুন্দর চরিত্রে একদিকে যেমন দুনিয়াতে সুবাসিত ও নির্মল জীবন লাভ করা যায়, তেমনি পরকালেও পাওয়া যায় চিরসুখের জান্নাত ও স্বর্গীয় অফুরন্ত নেয়ামত। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র।’ আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে?’ তিনি বললেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান’ (তিরমিজি : ২০০৪)। বলার অপেক্ষা রাখে না, শেষ রাত্রের কোমল পরিবেশে প্রভুপ্রেমে মগ্ন হয়ে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করা ও দিনের বেলায় সিয়াম পালন করা চাট্টিখানি কথা নয়! এমন মহা সৌভাগ্য কয়জনের হয়! মজার বিষয় হলো, সদাচার ও উত্তম চরিত্রে এ মহা মর্যাদা লাভ করা যায় অনায়াসেই। আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঈমানদার বান্দা তার উত্তম চরিত্রের বিনিময়ে তাদের মর্যাদায় উন্নীত হয়, যারা দিনে সর্বদা রোজা রাখে আর রাতে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে।’ (আবু দাউদ : ৪৭৯৮)

চরিত্র ও শ্রেষ্ঠত্ব নির্ণয়ের কষ্টিপাথর
সন্দেহ নেই, উত্তম চরিত্রের কথা মুখে বলা যেমন সহজ, যাপিত জীবনে এর বাস্তব প্রতিফলন ও যথাযথ প্রয়োগ তত সহজ নয়। অনেকের পোশাকি ও ঠুঁটো চরিত্রমাধুর্য বাইরের মানুষকে মুগ্ধ করলেও ঘরে আসামাত্র তার মুখোশ উন্মোচন হয়ে যায়। দূর হয়ে যায় তার মনোমুগ্ধকর কৃত্রিম মেকআপের আবরণ। পরিবারের সঙ্গে মানসিক রোগীর মতো সে আচরণ শুরু করে। ঠুনকো বিষয়ে অগ্নিশর্মা হয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে, যা কখনোই উচিত নয়। তাই তো বিশ^নবী (সা.) চরিত্র নির্ণয়ের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করেছেন স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে আচরণের প্রকৃতিকে। বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই সর্বশ্রেষ্ঠ যে তার স্ত্রীর চোখে তোমাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। আর আমি আমার স্ত্রীদের চোখে তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (তিরমিজি : ৩৮৯৫)

সুন্দর চরিত্রের আদর্শ রূপরেখা
সত্যি কথা বলতে কী, আমরা সমাজজীবনে আখলাক ও চরিত্র বলতে শুধু কিছু স্থূল আচরণ, কৃত্রিম ব্যবহার ও মধুময় সৌজন্যকে বুঝে থাকি। অথচ এর মর্মার্থ অনেক ব্যাপক, সুদূরপ্রসারী। মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই রয়েছে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা ও নির্দেশনা। প্রিয় নবী (সা.) চারিত্রিক সদাচারের রূপরেখা অঙ্কন করেছেন এভাবে, ‘যে তোমার সাথে সম্পর্কছেদ করে, তুমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখো। যে তোমার প্রতি অন্যায় অবিচার করে, তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। যে তোমার সাথে অসদাচরণ করে, তুমি তার সাথে সদাচরণ করো। নিজের বিপক্ষে হলেও হক কথা বলো’ (সহিহ আত-তারগীব : ২৪৬৭)। এ যেন সাগরসেচা মুক্তা! তিনি উত্তম চরিত্রকে অনুপদ বাণীতে চিত্রিত করেছেন। এই গুণগুলো যদি কেউ ব্যবহারিক জীবনে ধারণ করতে পারে এবং আচরণে-উচ্চারণে এর প্রতিফলন ঘটাতে পারে, তাহলে তার জীবন হবে যেমন হৃদয়গ্রাহী সৌরভে সুরভিত, তেমনি তার হৃদয়জগৎ থাকবে সদাপ্রশান্ত, প্রাণবন্ত ও আলোকিত।

জুমার দিনের যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
                                  

মুফতি ইবরাহিম সুলতান
আজ শুক্রবার। সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম।

এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৪)


এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৮৪)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের অনেক আমল হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু আমল ধারাবাহিক উল্লেখ করা হচ্ছে। ১. গোসল করা। ২. উত্তম পোশাক পরিধান করা। ৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৪. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।

এই চারটি আমলের কথা একসঙ্গে একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার কাছে থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। ’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ৩৪৩)

৫. বেচাকেনা বন্ধ রাখা : জুমার দিন আজানের পর বেচাকেনা বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো। ’ (সুরা : জুমআ, আয়াত : ৯)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া : উত্তম আমল হচ্ছে দ্রুত মসজিদে যাওয়া। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভি কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর মতো। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

৭. সুরা কাহফ তিলাওয়াত : মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের বিশেষ একটি আমল হচ্ছে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

৮. সুরা কাহাফের শেষ ১০ আয়াত পাঠ : অপর হাদিসে সুরা কাহাফের শেষের আয়াত পাঠের সুফল হিসেবে দাজ্জালের ক্ষতি থেকে মুক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে তার নাম একটি চিঠিতে লেখা হবে। অতঃপর তাতে সিল দেওয়া হবে, যা কেয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না। ’ (সহিহ তারগিব, হাদিস নম্বর : ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক : ২/৩৯৯)

৯. বেশি বেশি দরুদ পাঠ : এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজির ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সব সৃষ্টিকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

১০. দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া : জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ একটি আমল হচ্ছে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

সরানো হলো কাবা শরিফের চারপাশের বেষ্টনী
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক
ওমরা সিজনের শুরুতে কাবা শরিফের চারপাশে দেওয়া বেষ্টনী সরানো হয়েছে। হারামাইন শরিফাইনের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান আস-সুদাইস এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে ওমরা পালনকারীদের ইবাদত করতে সুবিধা হবে এবং এতে তারা প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তিনি আরো বলেন, ওমরা পালনকারীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে মসজিদুল হারামে কর্মরত সকল দায়িত্বশীল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।

এর আগে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের জুলাই মাসে কাবা শরিফের চারপাশে বেষ্টনী দেওয়া হয়। ভাইরাসের দিনগুলোতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বেষ্টনী দেওয়ার কারণে এতোদিন হজ ও ওমরাপালনকারীরা হাজরে আসওয়াকে সরাসরি চুম্বন, মুলতাজিমে দোয়া ও হাতিমে নামাজ আদায় করতে পারতেন না। তবে এখন থেকে হজ ও ওমরাহকারীরা কাবা শরিফ, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও হাতিমে প্রবেশাধিকার ফিরে পাবেন।

এর আগে শনিবার (৩০ জুলাই) মসজিদুল হারামের পরিচালনা কর্তৃপক্ষের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইসের নেতুত্বে পাল্টানো হয় কাবা শরিফের পুরনো গিলাফ। প্রতি বছর ৯ জিলহজ সকালে পরিবর্তন করা হলেও এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন এনে হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন (শনিবার) কাবার গিলাফ পাল্টানো হয়। গিলাফ পরিবর্তনের কাজে অংশ নেন দুই শ’জন কর্মী। গিলাফ পরিবর্তন করতে সময় লেগেছে চার ঘণ্টা।

সূত্র : আল-আরাবিয়া


   Page 1 of 8
     ইসলাম
দেখা গেছে রজবের চাঁদ, জানা গেল পবিত্র শবে মেরাজের তারিখ
.............................................................................................
আম বয়ানে শুরু হল বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব
.............................................................................................
ইজতেমায় অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তম জুমার নামাজ
.............................................................................................
নতুন বছরে যে দুটি দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
জমাদিউস সানি মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত
.............................................................................................
পবিত্র জমাদিউস সানি মাস গণনা শুরু সোমবার
.............................................................................................
কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলাম এবং মুসলমানের পরিচয়
.............................................................................................
‘আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার’
.............................................................................................
লোক দেখানো ইবাদতের পরিণতি ভয়াবহ
.............................................................................................
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
.............................................................................................
দেনমোহর মাফ চাওয়া যাবে স্ত্রীর কাছে?
.............................................................................................
হাফেজ তাকরিমকে সংবর্ধনা
.............................................................................................
মুমিনের প্রকৃত সঞ্চয় ‘নেক আমল’
.............................................................................................
জীবন যেভাবে সুবাসিত
.............................................................................................
জুমার দিনের যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয়
.............................................................................................
সরানো হলো কাবা শরিফের চারপাশের বেষ্টনী
.............................................................................................
কাবা শরিফে নতুন গিলাফ
.............................................................................................
কোরআনের বর্ণনায় মানুষের ভাগ্য
.............................................................................................
ধৈর্য যে কারণে শ্রেষ্ঠ নেয়ামত
.............................................................................................
দেশে ফিরলেন ১১৭৪ হাজি
.............................................................................................
আজ হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
.............................................................................................
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, মিনায় হাজিরা
.............................................................................................
৫৩৩৬৭ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন
.............................................................................................
বাংলাসহ ১৪ ভাষায় সম্প্রচার হবে হজের খুতবা
.............................................................................................
পবিত্র ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
.............................................................................................
সৌদি-আমিরাতে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই
.............................................................................................
ওমরাহ করতে লাগবে না এজেন্সি
.............................................................................................
প্রস্তুত শোলাকিয়া ঈদগাহ; ৪ স্থরের নিরাপত্তা
.............................................................................................
সদকায়ে ফিতর: কিছু কথা
.............................................................................................
আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী যে কারণে
.............................................................................................
রোজায় নিজের যত্ন
.............................................................................................
এ বছর হজে যেতে পারবেন ৫৭ হাজার ৮৫৬ জন
.............................................................................................
বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো তানযীমুল উম্মা ফাউন্ডেশনের কুরআন উৎসব
.............................................................................................
কাবার গিলাফ তৈরিতে অংশ নিলেন এই অভিনেত্রী
.............................................................................................
এবার শোলাকিয়ায় হবে ১৯৫তম ঈদ জামাত
.............................................................................................
সৌদির সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে রোজা শুরু
.............................................................................................
শ্রীমঙ্গলে অনিন্দ্য স্থাপত্যশৈলীর কাজী আশরাফ মসজিদ
.............................................................................................
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সিলেটের ইজতেমা
.............................................................................................
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শুভাগমন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক
.............................................................................................
আশুরার তাৎপর্য ও ফযীলত
.............................................................................................
ফ্রান্সে বাংলাদেশী হাফেজকে পাগড়ী প্রদান
.............................................................................................
আজ মহিমান্বিত রাত
.............................................................................................
শায়েস্তাগেঞ্জে মামুনুল হকের মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল
.............................................................................................
নামাজের সিজদায় ইমামের মৃত্যু
.............................................................................................
সোনাকান্দায় দারুল হুদা দরবার শরীফের দু’দিনব্যাপী মাহফিল শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
হাটহাজারীর মাহফিলে বক্তব্য রাখেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক
.............................................................................................
আজ শুরু হচ্ছে চরমোনাইয়ে ৩ দিন বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল
.............................................................................................
মুসলমানদের আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT