শুক্রবার, ২২ অক্টোবর 2021 বাংলার জন্য ক্লিক করুন
  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শুভাগমন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক

মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুল (সাঃ) এর আগমন উপলক্ষে আল্লাহর শুকরিয়ার্থে শরীয়ত সম্মতভাবে খুশি উদযাপন করাই হলো সুন্নি আক্বিদা। মিলাদুন্নবী মুসলমানদের জন্য এমন একটি আনন্দোৎসব, যার কোনো তুলনা হয় না। ‘ঈদ’ সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত আরবি অভিধান আল-মুনজিদের ৫৩৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, কোন কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়ার দিন বা স্মৃতিচারণের দিবসই ঈদ। কাওয়াইদুল ফিকহ্-এর ৩৯৬ পৃষ্ঠায় ঈদকে ‘ঈদ’ বলার কারণ হচ্ছে- প্রতিবছর আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে। ‘মিলাদ’ সম্পর্কে আল-মুনজিদের ৯১৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘মিলাদ’ অর্থ জন্ম সময়, যা কারো ঐ দিবসে পরবর্তীকালে শুকরিয়া হিসাবে পালন করা হয়। আল্লামা ইবনে মানযুর (রহঃ) তাঁর প্রসিদ্ধ অভিধান ‘লিসানুল আরব’ লিখেছেন, ‘মিলাদ’ মানে যে সময়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে সে সময়ের নাম। স্বভাবতই ‘মিলাদ’ বা ‘মিলাদুন্নবী’ বলতে শুধুমাত্র রাসুল (সাঃ)-এর জন্মের সময়ের আলোচনা, জীবনী পাঠ, তাঁর বাণী, তাঁর শরিয়ত বা তাঁর হাদিস আলোচনা, তাঁর আকৃতি-প্রকৃতি আলোচনা, তাঁর উপর একাকী বা সম্মিলিতভাবে দরুদ শরীফ পাঠ, সালাম পাঠ, কিয়াম ইত্যাদি বুঝায়। কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশ বাণী এসেছে তোমাদের পরওয়ার দিগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময় হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। (হে রাসুল (সাঃ)) বলুন-আল্লাহর অনুগ্রহে এবং তাঁর দয়া, সুতরাং তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। (সুরা ইউনুছ-৫৭)। তাই স্রষ্টার সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব রাসুল (সাঃ)-এর শুভাগমন। অন্যত্রে ইরশাদ হচ্ছে-“হে রাসুল (সাঃ) আপনি বলুন, আল্লাহ পাকের ফজল ও রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে; তোমাদের পুঞ্জিভূত সম্পদ অপেক্ষা এটি কত উত্তম!” (সুরা ইউনুছ-৫৮)। “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে এক উজ্জ্বল জ্যোতি (নূর) ও সুস্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে (সুরা মায়েদা-১৫)। কোরআনের অমিয় বাণী নিয়ে যিনি এ ধরায় আগমনে আমাদের ধন্য করেছেন, তাঁর আগমনে আনন্দোৎসব করা উম্মতে মোহাম্মদীসহ সকল ধর্ম-বর্ণের, জাতির জন্য অবশ্য কর্তব্য।

ঈসা (আঃ)-এর পর দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ ধরায় নবি রাসুলের আগমন ঘটেনি। এমতাবস্থায় বিশ্বের সর্বত্রই অত্যাচার-অনাচার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এহেন চরমতম মানবিক অসাম্য ও মানবাধিকার বৈষম্যের ঘোর অন্ধকার যুগে আবির্ভূত হলেন মানবতার মুক্তির দিশারী রাসুল (সাঃ)। তারপর থেকে পৃথিবীর সমস্ত জমিনই মসজিদে পরিণত হল। যার ফলে আমরা মসজিদে ঘরে যানবাহনে পথে-ঘাটে সবখানেই নামাজ পড়তে পারছি। রাসুল (সাঃ)-এর আগমনে আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হল আহলান ছাহলান, মারহাবান-মারহাবান! মা আমেনা বলেন তাঁর জন্মলগ্নের পর মুহুর্তেই একটা নূর প্রকাশিত হল যার আলোতে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সবকিছু আলোকিত হয় এবং যার আলোতে সিরিয়ার শাহী মহল মা আমেনা দেখতে পান। (বায়হাকী দালায়েলুন নবুওত মুসনাদে আহমদ)। রাসুল (সাঃ) দুনিয়াতে তশরিফ আনার সাথে সাথে ক্বাবা শরীফ মাকামে ইব্রাহীমের দিকে ঝুঁকে পড়ে রাসুল (সাঃ)-এর বেলাদাতের তাজিম করেছিল (মাদারেজুন্নবুয়ত)।

সৈয়দ মুফতী আমীমুল এহসান (রহঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, বৃদ্ধ সর্দার আবদুল মোত্তালেব পৌত্রের জন্মের সুসংবাদ শ্রবণ করে গৃহে আগমন করেন এবং নবজাতক শিশুকে খানা-ই-কাবায় নিয়ে যান এবং দোয়া করেন। সপ্তম দিবসে আকীকা করে, ‘মোহাম্মদ’ (সাঃ) নাম রাখেন এবং সমগ্র কোরেশকে দাওয়াত করেন। তিনি বলেন, ‘আমার এই সন্তান সমগ্র বিশ্বে প্রশংসার অধিকারী হবে’। আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ)-এ সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘মা সাবাতা বিসসুন্নাহ’তে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ১২ রবিউল আউয়াল (সোমবার) রাসুল (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন বলে প্রসিদ্ধ বর্ণনায় বলা হয়েছে। এ দিন মক্কাবাসীরা রাসুল (সাঃ)-এর জন্মস্থান জিয়ারত করত। জন্মরাতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ) বলেন, এই রাত শবে কদর হতে উত্তম। কেননা তাঁর শবে বেলাদত হচ্ছে তাঁর জন্মরাত এবং শবে কদর তাকে প্রদান করা হয়। যে রাত্রটিকে তাঁর আবির্ভাবে সম্মানিত করা হয়েছে এটি শবে কদর অপেক্ষা উত্তম, তাছাড়া শবে কদরে শুধু আসমান হতে ফেরেশতারা আগমন করে থাকেন, পক্ষান্তরে জন্মদিবসের রাতে রাসুল (সাঃ)-এর সুমহান সত্তার আবির্ভাব ঘটে। জন্মরজনীর শ্রেষ্ঠত্বের আরও একটি কারণ হচ্ছে, শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব শুধু উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নির্ধারিত, পক্ষান্তরে রাসুল (সাঃ)-এর মহান সত্তাকে আল্লাহ সকল জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁরই মহান জাতিসত্ত্বার গুণাবলির কারণে আসমান, জমিন ও সকল মাখলুকাতকে আল্লাহ সাধারণ নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- -হে রাসুল (সাঃ) ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাহানের জন্য একমাত্র রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া-১০৭)।

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহর আনুগত্যের সাথে তাঁর রাসুলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের নির্দেশ রয়েছে। তাঁর প্রতি ভালবাসা, আল্লাহর প্রতি ভালবাসা স্বরূপ। যাঁর মধ্যে উত্তম আদর্শ, কোরআন যাঁর মহান চরিত্র এবং যাঁর প্রতি খোদ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ দরূদ পাঠ করে থাকেন, তাঁর জন্মোৎসব উদযাপন করার সৌভাগ্য আল্লাহর এক মহান অবদান। ইরশাদ হচ্ছে- ‘এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা ইনশেরাহ-৪)। রাসুল (সাঃ)-এর রওজা শরীফে ৭০ হাজার ফেরেস্তা আকাশ হতে মিছিল সহকারে দৈনিক ২ বার ফজরে ও আছরে আসেন এবং সালাম পেশ করতে থাকে। কিয়ামত পর্যন্ত এ নিয়ম চলতে থাকবে। আদম (আঃ) হতে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সকল নবি ও রাসুলগণ মিলাদুন্নবী এর মজলিস পালন করতেন (মাদারেজুন্নবুয়ত)। ইরশাদ হচ্ছে-“নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিস্তাগণ রাসুল (সাঃ)-এর উপর দরুদ পেশ করছেন।” “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ও তাঁর উপর দরুদ ও সালাম পেশ কর আদবের সাথে। (সুরা আহযাব-৫৬)। আদম (আঃ) সৃষ্টির পরে দেখলেন আরশে আজিমে খোদিত রয়েছে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।” তখন তিনি আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন-হে পরওয়ার দেগার! আপনার নামের পাশে ওটা কার নাম শোভা পাচ্ছে। তখন আল্লাহপাক বললেন- ইনি হলেন আখেরী জমানার নবি আমার প্রিয় হাবীব রাসুল (সাঃ)। যার উছিলায় তোমাকে ও সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি। যার উছিলায় সমগ্র পৃথিবীর, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা, কীট-পতঙ্গ, আসমান-জমিন, পশু-পাখি, গাছপালাসহ মানবমন্ডলী সৃষ্টি করা হয়েছে। সে জন্য আমাদের উচিত সাধারণ নেয়ামত পাওয়ার জন্য যদি ঈদ বা খুশি করতে পারি, তবে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ যিনি, তাঁর আগমনে খুশি করা কত যে উত্তম কাজ তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

হে উম্মতে মোহাম্মদীগণ! আসুন যেখানে স্বয়ং আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে এবং নবি-রাসুল, সাহাবী, ওলী-আউলিয়া সবাই নবির প্রতি যথাযথ দরুদ ও সালাম প্রদর্শনসহ মিলাদুন্নবী পালন করে আসছেন, সেখানে উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে সমগ্র বিশ্বের রহমত, সমগ্র জাতির আদর্শ রাসুল (সাঃ)-এর মিলাদুন্নবী পালনে কৃপনতা না করে আমরা সুদৃঢ় হই। মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠান করি, বেশি বেশি দান-খয়রাতসহ মিলাদুন্নবীর মাসে শরীয়তসম্মত আমল করি। জন্মদিবস পর্যন্ত তাঁর স্মরণ সীমাবদ্ধ না রেখে, আল্লাহর জিকিরের ন্যায় সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্বনবির প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করি। সমস্ত শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে, মসজিদ-মাদ্রাসায়, খানকাসহ ঘরে ঘরে নবির আগমনি দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করি।

লেখক: মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক
প্রাবন্ধিক ও মুদ্রণ ব্যবস্থাপক
দৈনিক সিলেটের ডাক।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শুভাগমন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক
                                  

মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুল (সাঃ) এর আগমন উপলক্ষে আল্লাহর শুকরিয়ার্থে শরীয়ত সম্মতভাবে খুশি উদযাপন করাই হলো সুন্নি আক্বিদা। মিলাদুন্নবী মুসলমানদের জন্য এমন একটি আনন্দোৎসব, যার কোনো তুলনা হয় না। ‘ঈদ’ সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত আরবি অভিধান আল-মুনজিদের ৫৩৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, কোন কোন মর্যাদাবান ব্যক্তি বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়ার দিন বা স্মৃতিচারণের দিবসই ঈদ। কাওয়াইদুল ফিকহ্-এর ৩৯৬ পৃষ্ঠায় ঈদকে ‘ঈদ’ বলার কারণ হচ্ছে- প্রতিবছর আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে। ‘মিলাদ’ সম্পর্কে আল-মুনজিদের ৯১৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘মিলাদ’ অর্থ জন্ম সময়, যা কারো ঐ দিবসে পরবর্তীকালে শুকরিয়া হিসাবে পালন করা হয়। আল্লামা ইবনে মানযুর (রহঃ) তাঁর প্রসিদ্ধ অভিধান ‘লিসানুল আরব’ লিখেছেন, ‘মিলাদ’ মানে যে সময়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে সে সময়ের নাম। স্বভাবতই ‘মিলাদ’ বা ‘মিলাদুন্নবী’ বলতে শুধুমাত্র রাসুল (সাঃ)-এর জন্মের সময়ের আলোচনা, জীবনী পাঠ, তাঁর বাণী, তাঁর শরিয়ত বা তাঁর হাদিস আলোচনা, তাঁর আকৃতি-প্রকৃতি আলোচনা, তাঁর উপর একাকী বা সম্মিলিতভাবে দরুদ শরীফ পাঠ, সালাম পাঠ, কিয়াম ইত্যাদি বুঝায়। কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশ বাণী এসেছে তোমাদের পরওয়ার দিগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময় হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। (হে রাসুল (সাঃ)) বলুন-আল্লাহর অনুগ্রহে এবং তাঁর দয়া, সুতরাং তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। (সুরা ইউনুছ-৫৭)। তাই স্রষ্টার সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব রাসুল (সাঃ)-এর শুভাগমন। অন্যত্রে ইরশাদ হচ্ছে-“হে রাসুল (সাঃ) আপনি বলুন, আল্লাহ পাকের ফজল ও রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে; তোমাদের পুঞ্জিভূত সম্পদ অপেক্ষা এটি কত উত্তম!” (সুরা ইউনুছ-৫৮)। “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে এক উজ্জ্বল জ্যোতি (নূর) ও সুস্পষ্ট কিতাব তোমাদের নিকট এসেছে (সুরা মায়েদা-১৫)। কোরআনের অমিয় বাণী নিয়ে যিনি এ ধরায় আগমনে আমাদের ধন্য করেছেন, তাঁর আগমনে আনন্দোৎসব করা উম্মতে মোহাম্মদীসহ সকল ধর্ম-বর্ণের, জাতির জন্য অবশ্য কর্তব্য।

ঈসা (আঃ)-এর পর দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ ধরায় নবি রাসুলের আগমন ঘটেনি। এমতাবস্থায় বিশ্বের সর্বত্রই অত্যাচার-অনাচার, কুসংস্কার, নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এহেন চরমতম মানবিক অসাম্য ও মানবাধিকার বৈষম্যের ঘোর অন্ধকার যুগে আবির্ভূত হলেন মানবতার মুক্তির দিশারী রাসুল (সাঃ)। তারপর থেকে পৃথিবীর সমস্ত জমিনই মসজিদে পরিণত হল। যার ফলে আমরা মসজিদে ঘরে যানবাহনে পথে-ঘাটে সবখানেই নামাজ পড়তে পারছি। রাসুল (সাঃ)-এর আগমনে আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হল আহলান ছাহলান, মারহাবান-মারহাবান! মা আমেনা বলেন তাঁর জন্মলগ্নের পর মুহুর্তেই একটা নূর প্রকাশিত হল যার আলোতে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সবকিছু আলোকিত হয় এবং যার আলোতে সিরিয়ার শাহী মহল মা আমেনা দেখতে পান। (বায়হাকী দালায়েলুন নবুওত মুসনাদে আহমদ)। রাসুল (সাঃ) দুনিয়াতে তশরিফ আনার সাথে সাথে ক্বাবা শরীফ মাকামে ইব্রাহীমের দিকে ঝুঁকে পড়ে রাসুল (সাঃ)-এর বেলাদাতের তাজিম করেছিল (মাদারেজুন্নবুয়ত)।

সৈয়দ মুফতী আমীমুল এহসান (রহঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, বৃদ্ধ সর্দার আবদুল মোত্তালেব পৌত্রের জন্মের সুসংবাদ শ্রবণ করে গৃহে আগমন করেন এবং নবজাতক শিশুকে খানা-ই-কাবায় নিয়ে যান এবং দোয়া করেন। সপ্তম দিবসে আকীকা করে, ‘মোহাম্মদ’ (সাঃ) নাম রাখেন এবং সমগ্র কোরেশকে দাওয়াত করেন। তিনি বলেন, ‘আমার এই সন্তান সমগ্র বিশ্বে প্রশংসার অধিকারী হবে’। আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ)-এ সম্পর্কে তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘মা সাবাতা বিসসুন্নাহ’তে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ১২ রবিউল আউয়াল (সোমবার) রাসুল (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন বলে প্রসিদ্ধ বর্ণনায় বলা হয়েছে। এ দিন মক্কাবাসীরা রাসুল (সাঃ)-এর জন্মস্থান জিয়ারত করত। জন্মরাতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (রহঃ) বলেন, এই রাত শবে কদর হতে উত্তম। কেননা তাঁর শবে বেলাদত হচ্ছে তাঁর জন্মরাত এবং শবে কদর তাকে প্রদান করা হয়। যে রাত্রটিকে তাঁর আবির্ভাবে সম্মানিত করা হয়েছে এটি শবে কদর অপেক্ষা উত্তম, তাছাড়া শবে কদরে শুধু আসমান হতে ফেরেশতারা আগমন করে থাকেন, পক্ষান্তরে জন্মদিবসের রাতে রাসুল (সাঃ)-এর সুমহান সত্তার আবির্ভাব ঘটে। জন্মরজনীর শ্রেষ্ঠত্বের আরও একটি কারণ হচ্ছে, শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব শুধু উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নির্ধারিত, পক্ষান্তরে রাসুল (সাঃ)-এর মহান সত্তাকে আল্লাহ সকল জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁরই মহান জাতিসত্ত্বার গুণাবলির কারণে আসমান, জমিন ও সকল মাখলুকাতকে আল্লাহ সাধারণ নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- -হে রাসুল (সাঃ) ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাহানের জন্য একমাত্র রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া-১০৭)।

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহর আনুগত্যের সাথে তাঁর রাসুলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের নির্দেশ রয়েছে। তাঁর প্রতি ভালবাসা, আল্লাহর প্রতি ভালবাসা স্বরূপ। যাঁর মধ্যে উত্তম আদর্শ, কোরআন যাঁর মহান চরিত্র এবং যাঁর প্রতি খোদ আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ দরূদ পাঠ করে থাকেন, তাঁর জন্মোৎসব উদযাপন করার সৌভাগ্য আল্লাহর এক মহান অবদান। ইরশাদ হচ্ছে- ‘এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।’ (সুরা ইনশেরাহ-৪)। রাসুল (সাঃ)-এর রওজা শরীফে ৭০ হাজার ফেরেস্তা আকাশ হতে মিছিল সহকারে দৈনিক ২ বার ফজরে ও আছরে আসেন এবং সালাম পেশ করতে থাকে। কিয়ামত পর্যন্ত এ নিয়ম চলতে থাকবে। আদম (আঃ) হতে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সকল নবি ও রাসুলগণ মিলাদুন্নবী এর মজলিস পালন করতেন (মাদারেজুন্নবুয়ত)। ইরশাদ হচ্ছে-“নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিস্তাগণ রাসুল (সাঃ)-এর উপর দরুদ পেশ করছেন।” “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ও তাঁর উপর দরুদ ও সালাম পেশ কর আদবের সাথে। (সুরা আহযাব-৫৬)। আদম (আঃ) সৃষ্টির পরে দেখলেন আরশে আজিমে খোদিত রয়েছে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।” তখন তিনি আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন-হে পরওয়ার দেগার! আপনার নামের পাশে ওটা কার নাম শোভা পাচ্ছে। তখন আল্লাহপাক বললেন- ইনি হলেন আখেরী জমানার নবি আমার প্রিয় হাবীব রাসুল (সাঃ)। যার উছিলায় তোমাকে ও সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি। যার উছিলায় সমগ্র পৃথিবীর, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-তারা, কীট-পতঙ্গ, আসমান-জমিন, পশু-পাখি, গাছপালাসহ মানবমন্ডলী সৃষ্টি করা হয়েছে। সে জন্য আমাদের উচিত সাধারণ নেয়ামত পাওয়ার জন্য যদি ঈদ বা খুশি করতে পারি, তবে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ যিনি, তাঁর আগমনে খুশি করা কত যে উত্তম কাজ তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

হে উম্মতে মোহাম্মদীগণ! আসুন যেখানে স্বয়ং আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে এবং নবি-রাসুল, সাহাবী, ওলী-আউলিয়া সবাই নবির প্রতি যথাযথ দরুদ ও সালাম প্রদর্শনসহ মিলাদুন্নবী পালন করে আসছেন, সেখানে উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে সমগ্র বিশ্বের রহমত, সমগ্র জাতির আদর্শ রাসুল (সাঃ)-এর মিলাদুন্নবী পালনে কৃপনতা না করে আমরা সুদৃঢ় হই। মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিলের অনুষ্ঠান করি, বেশি বেশি দান-খয়রাতসহ মিলাদুন্নবীর মাসে শরীয়তসম্মত আমল করি। জন্মদিবস পর্যন্ত তাঁর স্মরণ সীমাবদ্ধ না রেখে, আল্লাহর জিকিরের ন্যায় সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্বনবির প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করি। সমস্ত শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে, মসজিদ-মাদ্রাসায়, খানকাসহ ঘরে ঘরে নবির আগমনি দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করি।

লেখক: মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম সাদিক
প্রাবন্ধিক ও মুদ্রণ ব্যবস্থাপক
দৈনিক সিলেটের ডাক।

আশুরার তাৎপর্য ও ফযীলত
                                  

তরিকুল ইসলাম মুক্তার

সময় তার নিজের গতিতে বয়ে যায়। সব কিছু শুরু হয় এবং শেষ হয়ে যায়। দিন যায় রাত আসে, রাত যায় দিন আসে। এভাবে শেষ হয় সপ্তাহ, মাস ও বছর। এ সময় ও কালের প্রবাহ কখনও থামে না। আপন গতিতে চলে সম্মুখপানে অবিরাম। সদা সচল সময়ের স্রোতধারা। বর্তমান বিলীন হয়ে যায় অতীতের বুকে। ভবিষ্যৎ ঠাই পায় বর্তমান প্রাঙ্গণে। আগমন ঘটে নতুনের, প্রস্থান ঘটে পুরানের। জগতে এটা চরম সত্য।

জাগতিক এই নিয়মেই আমাদের সকলের জীবন থেকে চলে গেল একটি বছর। হিজরী বর্ষ ছিটকে পড়ল মহাকালের অসীম গর্ভে। মিশে গেল সময়ের আবর্তে। শুরু হল একটি নতুন বছর। তথা আরবী বা হিজরি বর্ষ। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম। শব্দটি আরবী। যার আভিধানিক অর্থ সম্মানিত। বাস্তব বিচারেও এ মাস প্রতিটি মুমিনের দৃষ্টিতে সম্মানিত। প্রথমত পবিত্র ইসলামের আলোকিত বিশ্বাস ও বিধি বিধানকে আল্লাহর জমিনে পরিপূর্ণরুপে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নিজের মাতৃভূমি পর্যন্ত ত্যাগ করেছিলেন, সহ্য করেছেন কত জুলুম নির্যাতন। পশ্চিমাকাশের এক ফালি মহররম চাঁদ চির জীবন্ত ত্যাগ ও আদর্শেও সেই বার্তায় আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায় প্রতিটি মুমিনের হৃদয় অনুভবে।

অধিকন্তু পবিত্র এ মাস আলোকিত হয়েছে প্রিয় সরদারে দু’আলম রাসুলে আরাবি (সাঃ) এর বরকতপৃর্ণ - সিয়াম সাধনায়। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বর্ণনা করেন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- রমজানের পর সর্বাধিক ফযিলতপৃর্ণ রোযা হল আল্লাহর মাস মহররমের। হাদিসে বর্ণিত মহররমের রোযাটি মূলত দশই মহররম তথা আশুরার রোযা। মহররমের মর্যাদা ও বরকতের উৎসও এ রোযাটি।

হযরত আবু কাতাদাহ (রাযি.) এর বর্ণনায় আছে আশুরার রোযা সম্পর্কে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন- আশুরার রোযা বিগত বছরের পাপসমূহ মোচন করে দেয়। ইসলামে আশুরার রোযার সূচনা কিভাবে হল এ সম্পর্কে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হল, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বর্ণনা করেন, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনায় এসে ইহুদিদের দেখলেন, তারা আশুরার দিনে রোযা রাখে। তখন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এটা কিসের রোযা?  তারা বললেন এটি একটি ভালো দিন। এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন। তাই হযরত মূসা (আ.) এ দিনে রোযা রেখেছেন। তখন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো মূসাকে অনুসরণের ক্ষেত্রে তোমাদের চাইতেও অধিক হকদার। এ সম্পর্কে আরো কিছু বর্ণনা রয়েছে যা একথা প্রমাণ করে যে, আশুরার রোযার প্রচলনটা এসেছে ইহুদি কিংবা হযরত মুসা (আ.)  থেকে।

অথচ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযি.) বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, কুরাইশরা জাহেলী যুগে আশুরার দিনে রোযা রাখত এবং রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও রোযা রাখতেন। হিজরত করে মদীনায় আসার পরও তিনি এ রোযা রেখেছেন এবং মুসলমানদেরকেও রোযা রাখতে আদেশ দিয়েছেন। তারপর যখন রমযান মাসের রোযা ফরজ হল তখন তিনি ইরশাদ করলেন, যার খুশি আশুরার রোযা রাখবে আর যার খুশি ছেড়ে দিবে। বোঝা গেল, আশুরার রোযা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকতেই রাখতেন। তবে মদীনায় এসে যা হয়েছে তা হল সাহাবিদেরকেও রাখতে বলেছেন। তাই এটাকে পূর্ব আমলেরই নবায়ন বলা যায় সূচনা নয়।

এখন প্রশ্ন হলো আশুরার রোযা কয়টি?  তার জবাব হল আশুরার সুন্নত রোযা দুটি। রোযা রাখার পদ্ধতি হল মহররমের নয় ও দশ তারিখ কিংবা দশ ও এগার তারিখ। আশুরার প্রকৃত ফজীলত ও গুরুত্ব বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে এতটুকুই যা আলোচিত হল। শিয়াদের শোক মিছিল ও মাতমের সঙ্গে এর কোনোই সম্পর্ক নেই। এমনিভাবে হালুয়া রুটি বিতরণেরও কোন ভিত্তি নেই। এসব গর্হিত কাজ পরিহার করে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাতানো পদ্ধতিতে রোযা পালনের মাধ্যমে বরকতময় এ দিনের সুফল লাভ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সে তাওফীক দান করুন। আমীন

লেখকঃ শিক্ষার্থী জামিয়াতুন নূর আল কাসেমীয়া, উত্তরা ঢাকা।

ফ্রান্সে বাংলাদেশী হাফেজকে পাগড়ী প্রদান
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক :
ফ্রান্সে বাংলাদেশীদের হিফজ মাদরাসা থেকে প্রথম হাফেজকে পাগড়ী প্রদান করা হয়েছে। ২৩ মে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির একমাত্র প্রতিষ্ঠান (সিসিআইবিএফ) স্টাইন্স পরিচালিত মাদরাসা থেকে হিফজুল কোরআন কোর্সের প্রথম হাফেজ আব্দুর রহমানকে পাগড়ী পরানো হয়।

অনুষ্ঠানে সেন্টার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ঘামগি, মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক আহমাদুল ইসলাম, হিফজ বিভাগের ইনচার্জ হাফেজ কারী বেলায়েত হোসাইন, শিক্ষক মাওলানা বেলাল উদ্দিন, পাগরী গ্রহণকারীর বাবা জনাব খান হাবীবুর রহমান, মাদরাসা কমিটির সদস্য জনাব কামরুল হাসান ও জনাব নুরুল ইসলাম।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, আরো দু’জন ২৯ পারা শেষ করেছে খুব শিগগিরই তাদেরকেও পাগড়ী প্রদান করবেন। এছাড়া ২০ পারা শেষ করেছেন পাঁচজন, ১৫ পারা শেষ করেছেন পাঁচজন, বাকীরা ৫ থেকে ১০ পারা শেষ করেছে।

মাদরাসা ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠান জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব শেষে মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আজ মহিমান্বিত রাত
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : পবিত্র শবে মেরাজ আজ।  ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বে এ রাত পালিত হচ্ছে।  বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে মহান আল্লাহর সঙ্গে দেখা করেছেন। তার মেরাজে গমনের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত এ রজনী উপলক্ষে দেশব্যাপী আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়ে থাকে।  ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আজ এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ।

মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যে জায়গার আশপাশে তিনি বরকত দান করেছেন-ভ্রমণ করালেন, যাতে তিনি তাকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাতে পারেন, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’। (সূরা বনি ইসরাইল : ১)

আল্লাহপাক তাঁর হাবিব (সা.)কে বিশেষ অভ্যর্থনায় মেরাজে নিয়ে যে সম্মাননা দিয়েছেন তার বর্ণনা কালামে পাকে বিবৃত হয়েছে এভাবে : ‘তখন তিনি ঊর্ধ্ব জগতে। তারপর তিনি তাঁর কাছাকাছি হলেন, আরও অনেক কাছে। তখন তাদের মধ্যে দুই ধনুক পরিমাণ বা এর চেয়েও কম পরিমাণ ব্যবধান ছিল। তখন আল্লাহপাক তাঁর প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার করলেন।

তিনি যা দেখেছেন তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেননি। তিনি যা দেখেছেন, তোমরা কি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে তর্ক করবে? নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন। প্রান্তবর্তী সিদরা গাছের কাছে। যার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। যখন গাছটি আচ্ছাদিত ছিল যা দিয়ে তা আচ্ছাদিত হওয়ার ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয়নি, তাঁর দৃষ্টি লক্ষ্যবিচ্যুত হয়নি। তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনাবলি দেখেছেন। (সূরা আন নাজম)

বিভিন্ন বর্ণনা মতে, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়াত লাভের একাদশ বর্ষে ২৬ রজব দিবাগত রাতে চান্দ্র মাস বিবেচনায় ২৭ রজব মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল। আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ হচ্ছে সিঁড়ি। আর ফারসি ভাষায় এর অর্থ ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। পবিত্র কুরআনে আরবের মক্কা নগরী থেকে ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদে আকসা) পর্যন্ত ভ্রমণকে পবিত্র ‘ইসরা’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।  হাদিসে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উপনীত হওয়া ও আরশে আজিমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহিমান্বিত ঘটনাকে মেরাজ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সময়ে মেরাজে মহানবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সব কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। মেরাজ থেকে আল্লাহর রাসূল উম্মতে মোহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে আসেন।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র এ রাতটি পালন করে থাকেন। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও বাড়িতে মিলাদ এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে থাকেন।

ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এ মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামাজ মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এ রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

শায়েস্তাগেঞ্জে মামুনুল হকের মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল
                                  

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের তাফসির মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পুরানবাজার শাহী ঈদগাহে ৭৬তম তাফসিরুল কোরআন মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বয়ান শুরু করেন তিনি। মাহফিলে হাজার হাজার মানুষ তাকে দেখতে আর তার বয়ান শুনতে বিকাল থেকেই শাহী ঈদগাহ মাঠে জড়ো হতে থাকেন।

মাওলানা মামুনুল হক স্টেজে আসার পর মুসল্লিদের ঢল সামলাতে শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সড়কের দুই দিকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। তার শায়েস্তাগঞ্জে আসা নিয়ে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল।

সরকারবিরোধী বক্তব্য, ভাস্কর্য নিয়ে কোনো কথা ও কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না এই শর্তে তাকে মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেয় প্রশাসন। তিনি মাহফিলে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেননি বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি অজয় চন্দ্র দেব বলেন, মাওলানা মামুনুল হক তাফসির মাহফিলে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি। তবে আইনশৃঙ্খলায় যেন কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে সেদিকে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজর রেখেছে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

নামাজের সিজদায় ইমামের মৃত্যু
                                  

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার পাথরঘাটায় নামাজ পড়ার সময় সিজদারত অবস্থায় এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আলহাজ্ব আবুল হোসেন (৫৮)। শনিবার মাগরিবের সময় উপজেলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ গহরপুর গ্রামের মেহের উদ্দিন মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আবুল হোসেন হাওলাদার একই গ্রামের দেনছের আলী হাওলাদারের মেজো ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর যাবত মেহের উদ্দিন মোল্লা বাড়ি জামে মসজিদে বিনা পারিশ্রমিকে ইমাম-মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মসজিদের মুসল্লিরা জানান, মাগরিবের আজান দিয়ে নিজেই নামাজের ইমামতি করার সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করলেও নামাজ আদায় করে যাচ্ছিলেন আবুল হোসেন। দ্বিতীয় রাকাতে সেজদায় গিয়ে তিনি আর উঠতে পারেননি। পরে মুনাফ নামে এক ব্যক্তি বাকি নামাজ শেষ করেন।

আবুল হোসেনের ছোট ভাই নূর হোসেন হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ভাই হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়িতে এসেছেন। আজ রোববার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে আবুল হোসেনকে হাওলাদারকে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

সোনাকান্দায় দারুল হুদা দরবার শরীফের দু’দিনব্যাপী মাহফিল শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি
                                  

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন ঐতিহ্যবাহী সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফে দু’দিনব্যাপী ৯৯তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল শুরু হচ্ছে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। শুক্রবার দরবার শরীফের মিডিয়া মুখপাত্র মুফতী মোতালিব হোসাইন সালেহী ওই মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
 
গত বছর গাড়ীর দীর্ঘ যানজট সৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে এ বছর দরবারের পাশ্ববর্তী খোলা জায়গায় গাড়ী রাখার ৮টি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে প্রতি পার্কিংয়ে ৫’শ গাড়ী রাখা যাবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পীর-মাশায়েখ, ভক্তবৃন্দ ও মুসল্লীগণদের সেবায় ৪টি মেডিকেল টিমসহ ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন। করোনা কালের কারণে অজুর স্থান গুলোতে সাবান ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার থাকবে। আগত সকলকে মাক্স পরিধান করতে হবে।
 
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সমাজের পেক্ষাপট তথা মাদকের কুফল, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কোরআন হাদিসের আলোকে বক্তারা বয়ান করবেন। বয়ানের বিষয়বস্তুু আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি।
    
দরবারের পীর মাওলানা অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান ২৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার বাদ জোহর মাহফিল আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করবেন। দু’দিনই বাদ মাগরিরের পর থেকে তা’লীম চলবে। ১ মার্চ সোমবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল সমাপ্তি হবে।   

মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
                                  

ইসলামে এক মুসলমান অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে সদাচরণের নির্দেশ প্রদান করেছে এবং এ বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমান ভাইয়ের রয়েছে দ্বীনি অধিকার।
 
এ সম্পর্কে বিশ্বনবী মোহাম্মদ( সাঃ) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের ভাই। প্রত্যেকের জন্য জরুরি যে, কেউ কারো উপর জুলুম অত্যাচার করবেনা। আর যদি অন্য কেউ তার উপর জুলুম অত্যাচার করে তবে একে অপরকে একা ফেলে যেন চলে না যায়।

সম্ভব হলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসবে এবং সাথে থাকবে। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার নিজের ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে এগিয়ে আসবে। আর যে মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের কষ্ট দূর করে দেবে, প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের কঠিন দিবসে তার কষ্ট দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি অন্য মুসলমান ভাইকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে, আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের দিন তাকেও  ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

অন্য হাদিসে প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। শত্রুতা রেখোনা, গীবত করো না। এক আল্লাহর বান্দাহ হয়ে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে মজবুত করে নাও।

কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয় যে, সে তার অন্য মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিনদিনের বেশি সময় সালাম কালাম ত্যাগ করে থাকবে।

অপর হাদিসে রাসুল (সাঃ)বলেন, এক মুসলমানের জানমাল এবং ঈজ্জত আবরু নষ্ট করা অন্য মুসলমানের জন্য হারাম।

বিশ্বনবী রাসুল (সাঃ)একদিন সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করলেন, বলতো দরিদ্র ও রিক্তহস্ত কে?

সাহাবীগণ বললেন, দরিদ্র ঐ ব্যক্তি যার টাকা পয়সা নেই। রাসুল (সাঃ)  বললেন, না।। আমাদের মধ্যে দরিদ্র ব্যক্তি সেই, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, দান খয়রাতের ভান্ডার নিয়ে উপস্থিত হবে, কিন্তু দুনিয়াতে সে কাউকে গালিগালাজ করছিলো, কাউকে অপবাদ দিয়েছিল, কাউকে মারপিট করেছিল, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছিল। যখন তাকে হিসাব নেওয়ার জন্য দাড় করানো হবে, তখন ঐসব দাবীদার লোকেরা এসে জড়ো হবে আর তাদের প্রাপ্য পরিমাণ তার সওয়াব থেকে তাদেরকে পরিশোধ করা হবে। এমনকি একসময় তার সওয়াব শেষ হয়ে যাবে। অতপর, ঐ দাবীদারদের গুনাহ সমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকল মুসলমান ভাইয়ের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ ও মায়ামমতা আর ভালবাসার বন্ধনে এক হয়ে জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক:
মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান
যুগ্ম সম্পাদক, ইসলামী ঐক্যজোট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা

হাটহাজারীর মাহফিলে বক্তব্য রাখেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক
                                  

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : হাটহাজারীতে বক্তব্য রাখেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিরোধ করতে গত দুদিন ধরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন মোড়ে কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এ সব কর্মসূচি চলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম শহর হয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফতে মসলিসের মহাসচিব মামুনুল হক।

হাটহাজারী উপজেলার পার্বতীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে তিনি পূর্বঘোষিত প্রধান বক্তা ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গতকাল শুক্রবার রাতে বক্তব্য রাখেননি মামুনুল হক। হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজত দেশে কোনো সংঘাত চায় না। তাই এটা আমাদের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, কেবল বঙ্গবন্ধুরই নয়, দেশে সব ধরনের মূর্তি ও ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হেফাজতের ১৩ দফা দাবির একটি।

হাটহাজারী পার্বতীপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের গতকাল ছিল শেষ দিন। মাহফিল ও আশপাশের এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো কর্মকাণ্ড নেই। সেখানে গত তিন দিনে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। অন্যদিকে গতকাল শেষ দিনে হাটহাজারীর পার্শ্ববর্তী রাউজান ও ফটিকছড়ি থেকে শতাধিক ট্রাক ও গাড়িতে করে লোকজন মাহফিলে আসেন।

আল আমিন ফাউন্ডেশনের নামে ওই তাফসিরুল কোরআন মাহফিল হলেও এর মূল আয়োজক হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা বলে খ্যাত দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম। সে হিসেবে এটি হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পরিণত হয়। গতকাল মাহফিলের শেষ বক্তা ছিলেন হেফাজতের আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের প্রেসক্লাবে এক সমাবেশ থেকে মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। এরই মধ্যে সাড়ে আটটার পর বিমানবন্দর এলাকায় নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চুর নেতৃত্বে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ তিন ভাগ হয়ে একাংশ বিমানবন্দরের প্রবেশপথে, একটি অংশ দেওয়ানহাট বাইতুশ শরফে এবং অন্য একটি অংশ অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেয়। চট্টগ্রাম শহর থেকে অক্সিজেন স্টেশন হয়ে হাটহাজারি যেতে হয়। এর বাইরেও এ দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কর্মসূচি পালন করে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, মামুনুল হক একজন ভীরু কাপুরুষ। তিনি বলেছিলেন আজকে চট্টগ্রাম হয়ে হাটহাজারী যাবেন। কিন্তু তা না করে চোরের মতো রাতের অন্ধকারে এসেছেন। তিনি বলেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার পর থেকে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আজ শুক্রবার রাতে বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সোয়া ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে হাটহাজারী রোডে যানচলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়। হাটহাজারীতে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

আজ শুরু হচ্ছে চরমোনাইয়ে ৩ দিন বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল
                                  

নিজস্ব সংবাদদাতা:
বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ চরমোনাইয়ে আজ বাদ জুমা শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম ওয়াজ মাহফিলের উদ্বোধন করবেন। আজ শুরু হয়ে আগামী সোমবার সকাল ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ওয়াজ মাহফিল।

চরমোনাইয়ে ওয়াজ মাহফিল কমিটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে মাহফিল এলাকায় এসে জড়ো হয়েছেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত পুরো চরমোনাই এলাকা। এলাকায় ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবে মাহফিল এলাকায় ১ লাখ মাস্ক রাখা হয়েছে। এগুলো মুসল্লিদের জন্য ফি প্রদান করা হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং হাত ধোয়ারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া, মাহফিলে আগত মুসল্লিদের অজু ও গোসলের জন্য একাধিক পুকুর ও ৯টি গভীর নলকূপ ব্যবস্থার পাশাপাশি হাজারেরও বেশি পানির কল বসানো হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে দুই জন এমবিবিএস ডাক্তার ও শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আজ বাদ জুমআ মাহফিল শুরু হওয়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীসহ দেশের খ্যাতনামা ওলামায়ে কেরামগন ধারাবাহিকভাবে ৩ দিনব্যাপী এ মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন।

মুসলমানদের আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ
                                  

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন উৎপল কুমার নামে এক যুবক। মঙ্গলবার বিকেলে তার নিজ গ্রাম ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ইউনিয়নে মসজিদ গলিতে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের অনুসারী থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করেছেন। আদালতে হলফনামা অনুযায়ী তার আগের পরিচয় ছিল, উৎপল কুমার, বাবার নাম মৃত মন্টু চন্দ্র সরকার ও মায়ের নাম শ্রীমতি অলোকা এবং গ্রাম মসজিদ গলি মোড় দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, পাবনা। বর্তমানে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন মো. আজমির হোছাইন আলো।

আজমির হোছাইন আলো ওই হলফনামায় উল্লেখ করেন, আমি যেখানে বসবাস করি সেখানে বেশিরভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম ধর্মের প্রতিটি উৎসব পালন ও তাদের আচার-আচরণ আমাকে মুগ্ধ করে। এই ধর্মের বইপুস্তক পড়ে আমার মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস জন্মায়। আমি আগে থেকে গোপনে ইসলাম ধর্মের আচার-আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে আসছি।

হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি থেকে ইসলাম ধর্ম আমার কাছে বেশি ভালো লাগায় আমি গত ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে একজন আলেমের কাছে গিয়ে ইসলামের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করি।

নওমুসলিম আজমির হোছাইন সাংবাদিকদের বলেন, কেউ আমাকে জোর জবরদস্তি বা প্রলুব্ধ করে নাই। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজমির হোছাইন জানান, আমার ধর্ম পরিবর্তনে কে কি বললো এটাতে আমার যায় আসে না। আমি চিন্তা ভাবনা করে এসেছি। আমি মনে করি সচেতন মানুষ হিসেবে সকলের উচিত ইসলামের ছায়াতলে আসা।

নওমুসলিম আজমির হোছাইন স্থানীয় মুলাডুলি ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জামালকে ধন্যবাদ জানান, যিনি তার এই সিদ্ধান্তে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

পবিত্র মসজিদুল হারাম নামাজের জন্য খুলে দেয়া হলো
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর পবিত্র মসজিদুল হারামে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। নিজ দেশের নাগরিক ও দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের এ অনুমতি দেয়া হয়। সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া রোববার সকালে এ তথ্য পরিবেশন করে।

এতদিন সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করার অনুমতি ছিল না। শুধু ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের কর্মচারীরা সেখানে নামাজ আদায় করতে পারতেন।

সৌদি সরকার গত ১৭ মার্চ এক ঘোষণায় মক্কা ও মদিনার প্রধান পবিত্র দুই মসজিদ ছাড়া দেশটির বাকি সব মসজিদে জামায়াতে নামাজ স্থগিত করে নির্দেশ জারি করেছিল। পরে এ দুটি মসজিদেও জামায়াতে নামাজ আদায় বন্ধ করা হয়।

গত ৪ অক্টোবর প্রথম ওমরাহ যাত্রীদের জন্য পবিত্র মসজিদুল হারামের দরজা খুলে দেয়া হয়।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

দ্বিতীয় ধাপে আড়াই লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করবেন
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : আগামী রবিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে সৌদি আরবে অবস্থানকারীদের জন্য ওমরার দ্বিতীয় ধাপ চালু হবে। এতে সীমিত পরিসরে পুনরায় চালু হওয়া ওমরার দ্বিতীয় ধাপে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি লোক অংশগ্রহণ করবে। এ সময় মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ পরিদর্শন ও নামাজ আদায় করা যাবে। তা ছাড়া রওজা শরিফ ও মসজিদে নববির পুরনো মসজিদ এরিয়ায়ও যাওয়া যাবে।

৪ অক্টোবর থেকে সৌদিতে অবস্থানরতদের জন্য সীমিত পরিসরে ওমরাহ চালু হয়। এর আগে গত ৩১ মে থেকে মসজিদে নববির আঙিনা ও আশপাশ পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। হজ ও ওমরাহ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য  হানি আল উমারি জানান, পর্যায়ক্রমে ওমরাহ চালু হওয়ার দ্বিতীয় ধাপে পবিত্র দুই মসজিদে ছয় লাখের বেশি লোক নামাজ আদায় করতে পারবে এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ওমরাহ আদায় করতে পারবে। ওমরাহ, মসজিদ পরিদর্শন ও রওজা জিয়ারতে অংশ নিতে আগে ‘ইতামারনা’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।

আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় ধাপে সৌদির বাইরের মুসলিমরা ওমরাহ ও রওজা শরীফ জিয়ারতে অংশ নিতে পারবেন।

সৌদি ভ্রমণ ও পর্যটন বিভাগের সদস্য আল ওমাইরি জানান, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কোন কোন দেশ ওমরাহ যাত্রীদের পাঠাতে পারবে তা এখনো সুস্পষ্ট নয়। সবার আশা, শিগগির কর্তৃপক্ষ ওমরাহ পালনে অংশগ্রহণকারী দেশের পরিপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করবে, যেন ওমরাহ চালুর তৃতীয় ধাপে যথাযথভাবে সবাই অংশ নিতে পারে।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

আল আকসায় টানা তিন সপ্তাহ জুমা বন্ধ
                                  

স্বাধীন বাংলা ডেস্ক : ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদে টানা তিন সপ্তাহ ধরে জুমার নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদার বাহিনী পশ্চিম জেরুসালেম শহরের বাইরের লোকদের জন্য আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে সেখানে বন্ধ আছে জুমার নামাজ।

প্রাচীন জেরুসালেম শহরের ফটকের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ অফিসাররা বহিরাগতদের প্রবেশে বাধা দেয়।

পশ্চিম জেরুসালেমের বাসিন্দাদের জন্য আল আকসায় নামাজ আদায় শিথিল আছে। শহরের বাইরের সবার জন্য আল আকসায় নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

করোনাভাইরাস রোধে বহিরাগতদের জন্য প্রাচীন শহরে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানানো হয়।

আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত শহরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে থাকা সবার ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

স্বাধীন বাংলা/জ উ আহমাদ

ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচার পরিহারের পরকালীন পুরস্কার
                                  

জুবায়ের আহমেদ

দেশজুড়ে দিন দিন ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচার বেড়েই চলছে। সম্প্রতি করোনার চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধর্ষণ। বাবার সাথে মেয়ে, ভাইয়ের সাথে বোন, স্বামীর সাথে স্ত্রী, কেউ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে না। রাষ্ট্রীয় আইনে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ উভয়ের সম্মতিক্রমে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে তা অপরাধ না হলেও পরবর্তীতে মনোমালিন্য ও বিরোধের সৃষ্টি হলে পূর্বের জেনা-ব্যাভিচারের বিষয়ে মামলা থেকে শুরু করে নানা প্রকার সমস্যায় পতিত হয় সংশ্লিষ্টরা। বিবাহ বহির্ভূত ইচ্ছাকৃত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধ না হলেও ধর্মীয় ভাবে তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ও কবিরা গুণাহর অন্তর্ভূক্ত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরাই বেশি ধর্ষণের শিকার হয়, যেখানে পুরুষ আবির্ভূত হয় ধর্ষক হিসেবে, নারীরা হয় নির্যাতিতা। শরীরে যৌন অনুভূতি না আসা কিংবা যৌন অনুভূতির বয়স পেরিয়ে বৃদ্ধাবস্থায় পতিত হওয়া মেয়ে শিশু-মহিলারাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নিয়মিত, যেখানে পুরুষের বিকৃত যৌন লালসাই প্রকাশ পায়। ধর্ষণ প্রতিরোধের জন্য রাষ্ট্র-সমাজ কর্তৃক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও থামছে না ধর্ষণ, পাশাপাশি ধর্ষণের মামলাগুলোতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়ার কারনেও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। ধর্মপ্রাণ মানুষজন ধর্মের বিরুদ্ধে নানা কটুক্তি-কৌতুক কিংবা অপমানজনক কোন কর্মকান্ড দেখলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করলেও ধর্ষণের মতো বর্বোরোচিত কাজের বিরুদ্ধে নেই কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ, ওয়াজ মাহফিল, অথচ ধর্ষণের বিষবৃক্ষ উৎপাটনে ধর্মপ্রাণ মানুষদের সোচ্ছার ভূমিকার খুব বেশি প্রয়োজন।

নৈতিক অবক্ষয়ের ফলেই বহু পুরুষ পশুতে পরিণত হয়, যাদের দ্বারা ঘটে ধর্ষণের মতো জঘন্য ও অমানবিক ঘটনা, যার শিকারে পরিণত হয়ে সম্ভ্রম হারানো সহ মৃত্যুবরণ করে বহু শিশু-কিশোরী-নারী, এর মাধ্যমে বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা, নষ্ট হচ্ছে বহু নারী-পরিবারের স্বপ্ন। ধর্ষকরা রাষ্ট্রীয় আইনকে তোয়াক্কা না করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধানকেও উড়িয়ে দিয়ে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হন। রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষণের জন্য ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার শাস্তি জাহান্নাম হলেও মানুষরূপী পশুগুলো নিজেদের যৌন লালসা চরিতার্থ করতে হিংস্র বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়েন নারীদের উপর। ইসলামে ধর্ষণ ও জেনা-ব্যাভিচারকে ভিন্ন ভাবে না দেখলেও ধর্ষণের বেলায় শুধুমাত্র একজন শাস্তি পাবে, আর ধর্ষণের শিকার হওয়া জন নির্দোষ, আর নারী পুরুষ বিবাহ বহির্ভূত ভাবে একে অপরের ইচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলেও দুজনেই সমান অপরাধী হিসেবে গন্য হবে।

ধর্ষণের ঘটনা দিন দিন অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। মানুষরূপী পশুরা মানছে না সামাজিকতা, মানছেনা রাষ্ট্রীয় আইন, মানছে না ধর্মের বিধান। ভয় পাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আইনের কঠোর শাস্তি। অথচ ধৈর্য্যশীল হয়ে ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচার পরিহারকারীদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুখ ও শান্তি। পবিত্র কোরআনে এসেছে “ধৈর্যশীলদের তো বিনা হিসাবে পুরস্কার দেয়া হবে, সুরা যুমার, আয়াত ১০। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে “তুমি যদি আল্লাহর ভয়ে কোন কিছু ছেড়ে দাও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন (তিরমিজী)। যে ব্যক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজতের দায়িত্ব নিবে, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নিলাম (সহীহ বুখারী-৬৪৭৪। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসুল (স.) কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, কোন আমল মানুষকে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন, আল্লাহভীতি ও সচ্চরিত্র। আর তাকে এটাও জিজ্ঞেস করা হল, কোন আমল মানুষকে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন মুখ ও যৌনাঙ্গ (তিরমিজী ২০০৪)। হাদিস শরীফে আরো এসেছে “যে যুবক কোন যুবতী নারীকে একা পেয়েও আল্লাহর ভয়ে তার ইজ্জতের উপর হামলা করল না, তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস (সহীহ বোখারী)।

এই প্রথম আল কুরআনের পূর্ণাঙ্গ কাব্যানুবাদ করলেন মুহিব খান
                                  

ধর্ম ডেস্ক : মাত্র ২৪০ দিনে আল কুরআনের বাংলা কাব্যানুবাদ শেষ করলেন জাগ্রত কবি মুহিব খান। অসংখ্য ব্যক্তি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বাংলা অনুবাদ করেছে। কুরআনের কিছু সূরা ও আয়াতের কাব্যানুবাদ থাকলেও পুরো কুরআনের কোনো কাব্যানুবাদ কেউ করেননি। সম্পূর্ণ কুরআনের কাব্যানুবাদ করেছেন কবি মুহিব খান। তিনি আল্লামা আতাউর রহমান খান রহ. এর ছেলে, একজন প্রতিভাবান আলেম, যিনি জাগ্রত কবি হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্পূর্ণ কুরআন বাংলা কাব্যানুবাদ করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। বাংলা ভাষায় পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ কাব্যানুবাদের কাজটি শুরু করেন ২০০৪ সালের ১৯ মার্চ শুক্রবার, বাদ মাগরিব থেকে এবং ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার শেষরাতে তা সম্পন্ন করেন। বিক্ষিপ্তভাবে ১০০ দিনের মত কাজ করে এর প্রথম ১০ পারা সমাপ্ত হয় এবং ২০০৬ সালের জুলাই মাসে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। সেইসাথে দৈনিক ইনকিলাবেও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

২০০৬ এর পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১৪ বছরে হাজার ব্যস্ততার ভীড়ে অত্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে আর মাত্র পৌনে তিন পারার কাজ অগ্রসর হয় । সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল ২০২০, বাদ মাগরিব থেকে পূর্ণগতিতে কাজ শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, শেষরাত পর্যন্ত মোট ৫ মাস ১২ দিন সময়কাল এর কাজ চলে। এ সময়কালের ভেতর দুই ঈদসহ অনিবার্য প্রয়োজনে আরও দেড় মাসের কিছু বেশি দিনের বিরতি বাদ দিয়ে বাকি ৪ মাসেরও কিছু কম সময়ের নিবিড় সাধনায় অবশিষ্ট সোয়া ১৭ পারার কাজ দ্রুত সুসম্পন্ন হয়।

কাব্য অনুবাদের বিশেষ বৈশিষ্ট

১. এটি কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক কাব্যানুবাদ। আংশিক নয়।

২. এটি কুরআনের তুলনামূলক বিশুদ্ধ, বিপুল গবেষণালব্ধ ও নির্ভরযোগ্য কাব্যানুবাদ। আবেগ বা অনুমানভিত্তিক নয়।

৩. এটি কুরআনের মূলানুগ কাব্যানুবাদ। সারসংক্ষেপ বা ভাবার্থ নয়।

৪. কুরআনের প্রতিটি আয়াত থেকে আয়াতের ধারাবাহিক স্বতন্ত্র অনুবাদ। মিশ্রিত নয়।

৫. পবিত্র কুরআনের বিশেষ বিশেষ ছন্দসমৃদ্ধ সূরা ও আয়াতসমূহের অনুবাদ সে রকম বিশেষ ছন্দ ও অন্তমিলেই করা হয়েছে। যথা : সূরা আর রাহমান, সূরা তাকভীর ও অন্যান্য।

৬. যথার্থ কাব্যমান এবং উচ্চতর ভাষা ও সাহিত্যমান-সম্পন্ন কাব্যানুবাদ। ছন্দ-গোজামিল বা অনুত্তীর্ণ সাহিত্যমানপূর্ণ নয়।

কবি জানান : প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লিখে সর্বমোট ২৪০ দিন বা ৮ মাসের নিবিড় শ্রম-সাধনায় পুরো কাজটি সুসম্পন্ন করা হয়েছে।যা আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও সাহায্য ছাড়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না।

উল্লেখিত বৈশিষ্ট : মানদণ্ড ও শর্ত-সম্বলিতভাবে এটি দেশ ও বিশ্বে পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম মানোত্তীর্ণ কাব্যানুবাদ। এ যাবত আর কোনো দেশে বা আর কোনো ভাষায় তা হয়েছে বলে জানা যায় না।

কবির সর্বশেষ চাওয়া : মহান রাব্বুল আলামীন দয়া করে এই কাজটুকুকে পৃথিবীর সমস্ত কুরআনপ্রেমী মানুষের দুনিয়াবী কল্যাণ ও আখেরাতের নাজাতের ওয়াসীলাহ হিসেবে কবুল করে নিন।


   Page 1 of 9
     ইসলাম
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর শুভাগমন অন্ধকারে আলোর ঝিলিক
.............................................................................................
আশুরার তাৎপর্য ও ফযীলত
.............................................................................................
ফ্রান্সে বাংলাদেশী হাফেজকে পাগড়ী প্রদান
.............................................................................................
আজ মহিমান্বিত রাত
.............................................................................................
শায়েস্তাগেঞ্জে মামুনুল হকের মাহফিলে মুসল্লিদের ঢল
.............................................................................................
নামাজের সিজদায় ইমামের মৃত্যু
.............................................................................................
সোনাকান্দায় দারুল হুদা দরবার শরীফের দু’দিনব্যাপী মাহফিল শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
মুসলমানদের মাঝে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
হাটহাজারীর মাহফিলে বক্তব্য রাখেননি হেফাজত নেতা মামুনুল হক
.............................................................................................
আজ শুরু হচ্ছে চরমোনাইয়ে ৩ দিন বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল
.............................................................................................
মুসলমানদের আচার-আচরণে মুগ্ধ হয়ে উৎপল কুমারের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
পবিত্র মসজিদুল হারাম নামাজের জন্য খুলে দেয়া হলো
.............................................................................................
দ্বিতীয় ধাপে আড়াই লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করবেন
.............................................................................................
আল আকসায় টানা তিন সপ্তাহ জুমা বন্ধ
.............................................................................................
ধর্ষণ, জেনা-ব্যাভিচার পরিহারের পরকালীন পুরস্কার
.............................................................................................
এই প্রথম আল কুরআনের পূর্ণাঙ্গ কাব্যানুবাদ করলেন মুহিব খান
.............................................................................................
জার্মানিতে মাইকে আজান নিষিদ্ধের মামলায় মুসলমানরা জয়ী
.............................................................................................
ওমরাহ পালনের জন্য কাবা খুলে দিচ্ছে সৌদি সরকার
.............................................................................................
আজ পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা আগামীকাল
.............................................................................................
মক্কা-মদিনার মসজিদ পরিচালনায় ১০ নারী
.............................................................................................
২০ হাজার পরিবারকে কোরবানির গোশত প্রদান
.............................................................................................
পবিত্র হজে আরাফাতের খুতবায় যা বললেন খতিব
.............................................................................................
এবার বাংলা ভাষায় শুনা যাবে হজের খুতবা
.............................................................................................
১ আগস্ট ঈদুল আযহা
.............................................................................................
স্পেনের কর্ডোভা মসজিদ খুলে দিতে শারজার আমিরের আহ্বান
.............................................................................................
কুরবানি নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের ভাবনা
.............................................................................................
জার্মানিতে মুসলিমরা পাচ্ছেন ডিজিটাল ধর্মীয় সেবা
.............................................................................................
কুরআনের সেই পাণ্ডুলিপি বিক্রি হলো ৭৩ কোটি টাকায়
.............................................................................................
মহিমান্বিত রজনী: লাইলাতুল কদর
.............................................................................................
বিষণ্ণ পৃথিবীতে মুক্তির মাস রমজান
.............................................................................................
১৪০০ বছর পর এবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদে আকসা মুসল্লি শূন্য
.............................................................................................
আজহারীর জন্য অঝোরে কাঁদলেন আরেক বক্তা
.............................................................................................
এশার পর বিতর নামাজ পড়া আবশ্যক
.............................................................................................
ইসলামে জুয়া-বাজি সম্পূর্ণ হারাম
.............................................................................................
আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার আকাশ-বাতাস
.............................................................................................
হজ ব্যবস্থাপনায় সফলতম ইতিহাস : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
সুন্নত পালনের মধ্যে রয়েছে মুক্তি
.............................................................................................
ইয়াহুদিরা যে কারণে মাথায় টুপির মতো ‘কিপ্পা’ পরে
.............................................................................................
কাল পবিত্র আশুরা
.............................................................................................
পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর
.............................................................................................
রোজা শুরু কবে, জানা যাবে আজ সন্ধ্যায়
.............................................................................................
নামাজে অলসতা ভয়াবহ পাপের কারণ
.............................................................................................
পালিয়ে বিয়ে করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
.............................................................................................
পবিত্র লাইলাতুল মি’রাজ ১৪ এপ্রিল
.............................................................................................
মৃত্যুর সময় ফেরেশতাকে চপেটাঘাত করেছিলেন যে নবী!
.............................................................................................
জাহান্নামের শাস্তি শুধু উত্তপ্ত আগুন নয়, তীব্র ঠান্ডাও
.............................................................................................
ইমাম কর্তৃক নায়েব নিয়োগ করা
.............................................................................................
কাফের-মুরতাদ আখ্যা দিতে পারে একমাত্র ইসলামি রাষ্ট্রের: কা’বার ইমাম
.............................................................................................
রাসুল (সা:) যে দুয়া পড়ে রাতে ঘুমাতেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া
নির্বাহী সম্পাদক: মাে: মাহবুবুল আম্বিয়া
যুগ্ম সম্পাদক: প্রদ্যুৎ কুমার তালুকদার

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: স্বাধীনতা ভবন (৩য় তলা), ৮৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। Editorial & Commercial Office: Swadhinota Bhaban (2nd Floor), 88 Motijheel, Dhaka-1000.
সম্পাদক কর্তৃক রঙতুলি প্রিন্টার্স ১৯৩/ডি, মমতাজ ম্যানশন, ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত ।
ফোন : ০২-৯৫৫২২৯১ মোবাইল: ০১৬৭০৬৬১৩৭৭

Phone: 02-9552291 Mobile: +8801670 661377
ই-মেইল : dailyswadhinbangla@gmail.com , editor@dailyswadhinbangla.com, news@dailyswadhinbangla.com

 

    2015 @ All Right Reserved By dailyswadhinbangla.com

Developed By: Dynamic Solution IT